আধুনিক উপকরণে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেসিয়াম হাসপাতালের ওষুধ ক্রয় প্রক্রিয়ায় শুরু হচ্ছে ওপেন টেন্ডারে কর্মসংস্থান সৃ্ষ্টিতে বেকার নার্সদের কাছেও অফার লেটার যাচ্ছে সচেতনতা বাড়িয়েছে ক্লিন ঢাকা সপ্তাহ প্রয়োজন সর্বস্তরের উদ্দ্যোগ বিধ্বস্ত হাইতিতে মৃতের সংখ্যা ২ লক্ষ গণকবরে ৪০ হাজার মানুষ

চিকিৎসা বিজ্ঞানের অপার বিস্ময় লেসার রশ্মি

তথ্য ও প্রযুক্তির সুবাদে মানুষের জীবনধারা যোগ হচ্ছে নিত্য নতুন রুপ। ফলে ঝীবনযাত্রা হয়ে পড়ছে অনেকটা সহজলভ্য। তেমনি চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা নিত্য নতুন আবিষ্কারের নেশায় আত্মনিমগ্ন। বিজ্ঞানের নিত্য নতুন আবিষ্কারের অন্যতম একটি হলো লেসার রশ্মি। মুলত লেসার হলো আলোর উচ্চ ঘনীভুত এবং তীব্র তপ্তরশ্মি, যা একটি বড় কলমাকৃতি নমনীয় ডিভাইসের মধ্য দিয়ে নিক্ষেপ করা হয়। এই রশ্মি শরীরের অগম্য অংশগুলো ভেদ করে যেতে পারে। ফলে রক্তবাহী নালীকে অক্ষত রেখে সম্পুর্ণ নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করা সম্ভব। লেসার সার্জারিতে শরীরে রক্তক্ষয়ের পরিমাণ সামান্যই। দেখা গেছে, এই পদ্ধতির ফলে রোগমুক্তির পরে রোগীর স্বাস্হ্যের ক্রমোন্নতি এক সপ্তাহেই ঘটে। এ পর্যন্ত চার ধরনের লেসার আবিষ্কৃত হয়েছেঃ এক. কার্বন-ডাই-অক্সাইড লেসার; দুই. আরগন লেসার; তিন. এনডিইয়াগ লেসার ও চার. টিপি লেসার। কোন লেসারটি ব্যবহার করা হবে তা নির্ভর করে অপারেশনের ক্ষেত্রের ওপর। কারণ উপরোক্ত চারটি লেসার একরকম নয়। এর প্রতিটিরই রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন তরঙ্গ দৈর্ঘ্য।
এ রশ্মি আবিষ্কারের ফলে চিকিৎসা ও শিল্পক্ষেত্রে অভূতপূর্ব সাফল্য এনে দিয়েছে। তাছাড়া এর আবিষ্কারের ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সামনে নতুন আলো দেখতে পাচ্ছেন মহাবিশ্বের রহস্য জানার আশায়। তারা বলছেন, আগামীতে এ রশ্মি যে শুধু চিকিৎসা ক্ষেত্রে সফলভাবে ব্যবহৃত হবে তাই নয় বিভিন্ন গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যমও হবে এটি।

১৯৬০ সালে মার্কিন বিজ্ঞানী টিএইচ মাইনম্যান প্রাথমিকভাবে আবিষ্কার করেন লেসার রশ্মি। বিজ্ঞানী মাইনম্যান বড় একটি কাচ নলের মধ্যে তারই আবিষ্কৃত একটি র্ববি দণ্ড রেখে বিশেষ ব্যবস্থায় কাচ নলের মধ্যকার বাতাস বের করে আনেন। তারপর বাতাস শূন্য কাচ নলে প্রবেশ করান জেনন নামক একটি নিষ্ক্রিয় গ্যাস। এরপর কাচ নলের চারদিকে একটি পর্দা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়। একই সময় নলের ভেতরকার জেনন গ্যাসকে বিদ্যুতের সাহায্যে আয়নিত করা হয়। উদ্দেশ্য র্ববি দণ্ডের ওপর জেনন গ্যাসের বিক্রিয়া প্রত্যৰ করা। দেখা গেল র্ববি দণ্ডের ওপর সবুজ রঙের একগুচ্ছ আলো এসে পড়ে। যার ফলে ক্রোমিয়ামের পরমাণুগুলো উত্তেজিত হয়ে সৃষ্টি হয় উচ্চ শক্তি স্তরের। কিছুক্ষণ উত্তেজিত অবস্থায় পরমাণুগুলো থাকার পর ক্রোমিয়ামের ইলেকট্রন নিম্ন শক্তি স্তরের দিকে ক্রমশ নামতে থাকে। একেবারে শেষ স্তরে যখন ইলেকট্রনের অধগতি লক্ষ্য করা যায়। তখন শুরু হলো আরেক ধরনের অদ্ভুত আলোর নির্গমন। বিজ্ঞানী মাইনম্যান এ আলোক রশ্মির নাম প্রথম দিকে দিলেন র্ববি লেসার। কারণ র্ববি মূলত এ্যালুমিনিয়ামেরই একটি আকরিক। আর এ আকরিক সমৃদ্ধ পদার্থ দিয়েই প্রথম দিকে তৈরি করা হয় র্ববি দণ্ড। তিনি ভাবলেন নতুন এ আলোক রশ্মির আবিষ্কার যেহেতু র্ববি দণ্ডকে কেন্দ্র করে তাই এর নামকরণ এটিই যথার্থ।

পরবর্তীতে এটি লেসার রশ্মি হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে। বর্তমান বিজ্ঞানের নানা শাখায় এ রশ্মির ব্যবহার সর্বজনবিদিত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের লিংকন গবেষণাগারে এর সফল উৎপাদন শেষে চন্দ্রপৃষ্ঠে প্রতিফলন ঘটানো হলে মাত্র আড়াই সেকেন্ড সময়ে দুই লাখ চব্বিশ হাজার মাইল অতিক্রম করে এ রশ্মি ফিরে আসে ভূ-পৃষ্ঠে। বিজ্ঞানীদের মতে, অদূর ভবিষ্যতে এ রশ্মির সফল প্রয়োগে আরো কিছু রোগের চিকিৎসা সম্ভব হতে পারে। রোগ নির্ণয়ে সাফল্য আনতে পারে অকল্পনীয় সব ক্ষেত্রে। তাছাড়া মহাকাশ গবেষণায়ও রাখতে পারে অভাবনীয় সাফল্য। এছাড়া কিডনির পাথর অপারেশনের চেয়ে লেসার রশ্মি দিয়ে মুক্ত করাই শ্রেয়, এবং মহিলাদের রোগ এন্ডোমেট্রিওসিস যা এন্ডোমেট্রিয়াম জরায়ুর বাইরে যেমন- ডিম্বনালী, ডিম্বাশয়, মুত্রথলি প্রভৃতি অঙ্গ ঘিরে বেড়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে লেসার সার্জারি ব্যবহার করে সহজেই এন্ডোমেট্রিওসিস অপারেশন সম্ভব। লেসারের লক্ষ্য হলো আক্রান্ত জায়গাগুলোতে এন্ডোমেট্রিয়া টিস্যুগুলো গলিয়ে ফেলা। রোগী একদিনেই হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরে যেতে পারে। এন্ডোমেট্রিওসিস অপসারণে কার্বন ডাই অক্সাইড লেসার ব্যবহার করা হয়।
- ইন্টারনেট অবলম্বনে