আমারহেলথ ডেস্ক(১৮ অক্টোবর, সোমবার): শীতকালে অনেকেই সর্দি-কাশি অথবা বিভিন্ন ধরনের ঠান্ডা জাতীয় সমস্যায় ভোগেন। মানুষকে কী উপায়ে এ সমস্যা থেকে বাঁচানো যায়, তা নিয়ে চলছে নানা গবেষণা। আবিষ্কার হয়েছে নানা ওষুধ। কিন্তু সম্প্রতি একদল বিজ্ঞানী এমন এক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যাতে ব্যাকটেরিয়া দিয়ে ভাইরাস ধ্বংস করা যায়। এ ক্ষেত্রে দই বা পনিরে সাধারণত যে ব্যাকটেরিয়ার অস্তিত্ব পাওয়া যায় সেটিকেই কাজে লাগিয়েছেন তাঁরা। বিজ্ঞানীদের ভাষায়, ওই ব্যাকটেরিয়া ঠাণ্ডা লাগার সমস্যার বিরুদ্ধে 'সিলভার বুলেট' হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ ঠাণ্ডা লাগার জন্য দায়ী ভাইরাসকে অকার্যকর করতে সক্ষম এ ব্যাকটেরিয়া।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ফলিত অণুজীববিদ সমিতির এক বৈঠকে গবেষণার এ ফল প্রকাশ করা হয়। বেলজিয়ামের ঘেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞানী অধ্যাপক উইলি ভারস্ট্রেট এ গবেষণার কথা জানান। গবেষণার বর্ণনা দিয়ে ভারস্ট্রেট বলেন, ক্ষতিকারক নয় এমন
ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে সিলভারের কণা নিষিক্ত করা হয়। এতে ওই ব্যাকটেরিয়াটি ভাইরাস ধংস করার ক্ষমতা অর্জন করে। এ গবেষণার সফলতার কারণে এখন একই ধরনের পদ্ধতি অবলম্বন করে ইনফ্লুয়েঞ্জাসহ ঠাণ্ডাজাতীয় অন্য রোগের জন্য দায়ী ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নাকের স্প্রে, পানির ফিল্টার ও হাত ধোয়ার তরল সাবানে ওই পদ্ধতি অবলম্বন করে ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব।
অধ্যাপক ভারস্ট্রেট বলেন, 'আমরা সিলভারের অতিক্ষুদ্র কণা ব্যবহার করি। এটি খুবই ছোট, তবে ভাইরাসের চারপাশে ছড়িয়ে পড়ায় এর উপরিভাগ ঢেকে ফেলে। এর মাধ্যমে ভাইরাসকে ছড়াতে দেয় না। একইভাবে মানবদেহে এ পদ্ধতি কাজ করে।'
সাধারণত দই বা পনিরের মতো হজমে সহায়ক খাবারে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া 'ল্যাকটোব্যাসিলাস ফারমেন্টাম' নিয়ে এ গবেষণা চালানো হয়। নাকের স্প্রে বা তরল সাবানের সঙ্গে মেশানোর উপায় সম্পর্কে গবেষকরা বলেন, সিলভারের কণায় ব্যাকটেরিয়া ঢেকে গেলে ব্যাকটেরিয়াটি মারা গিয়ে অক্ষত থাকে। পরে ওই ব্যাকটেরিয়ার মৃত কোষ নাকের স্প্রে বা হাত ধোয়ার তরল সাবানে যুক্ত করা যায়।
সূত্র : টেলিগ্রাফ (ইউকে) অনলাইন।
|