১৩ এপ্রিল(আমার হেলথ): সারাবিশ্বে জন্মহার কমার কারনে শিশুর সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। এর বিপরীতে ভালো খাবার ও উন্নত চিকিৎসার কল্যাণে কমছে মৃত্যুহার, যেজন্য ক্রমান্বয়ে বাড়ছে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা। ফলে কম বয়সীদের তুলনায় বৃদ্ধ মানুষের হার ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমান বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ১১ ভাগের বয়স ৬০ বছরের ওপরে। ২০৫০ সালের মধ্যে এ সংখ্যা বেড়ে হবে ২২ ভাগ। উন্নত দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশে বয়স্ক মানুষের হার বৃদ্ধির গতি অনেক বেশি। সম্প্রতি জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিলের(ইউএনএফপি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
জন্ম নিয়ন্ত্রণ ও সন্তান গ্রহণের প্রবণতা পরিবর্তনের ফলে বিগত সত্তরের দশক থেকেই বিশ্বে জন্মহার কমতে শুরু করে। ১৯৭০-৭৫ সালে বিশ্বে শিশু জন্মের হার ছিল চার দশমিক সাত শতাংশ, ২০০৫-২০১০ সালে তা কমে হয়েছে দুই দশমিক ছয় শতাংশ। জন্মহার কমার ক্ষেত্রে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটেছে উন্নয়নশীল দেশগুলোয়। ১৯৭০-৭৫ সালের তুলনায় এসব দেশে জন্মহার অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। ৩০ বছরের ব্যবধানে এসব দেশে জন্মহার পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশ থেকে কমে হয়েছে দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ। এর ফলে বিশ্বে জনসংখ্যার ঊর্ধ্বগতি কমলেও নতুন এক ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার তৈরি হয়েছে। পরিবারে বা সমাজে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। জন্মহার কম হওয়ায় উন্নত দেশগুলোতে এ সমস্যা প্রকট। ২৯টি দেশে বর্তমানে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের বয়স ৬০ বছরের বেশি। আন্তর্জাতিকভাবে ৬০ বছরের বেশি মানুষকেই প্রবীণ অভিহিত করা হয়। ১৯৫০ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে প্রতি তিনজনে একজন। জাপানে এখনই জনসংখ্যার প্রায় ৩০ ভাগের বয়স ৬০ বছরের বেশি। তবে উন্নয়নশীল বা অনুন্নত দেশেও এ সমস্যা কম নয়। বরং এসব দেশের মোট জনসংখ্যায় প্রবীণদের হার বৃদ্ধির গতি উন্নত দেশের চেয়েও বেশি। বর্তমানে উন্নয়নশীল দেশগুলোয় প্রবীণ মানুষের সংখ্যা আট ভাগ। ২০৫০ সালে তা বেড়ে দাঁড়াবে ২০ ভাগেরও বেশি। সবমিলিয়ে ২০৫০ সালে বিশ্বের জনসংখ্যায় প্রবীণদের সংখ্যা হবে ২২ ভাগ। ৬০ বছর বয়সীদের তুলনায় বিশ্বে ৮০ বছর বয়সী মানুষের সংখ্যা বাড়ছে আরো দ্রুতগতিতে। বর্তমানে বিশ্বের প্রতি সাতজনে একজনের বয়স আশির উপরে। ২০৫০ সালে প্রতি পাঁচজনে একজনের বয়স হবে আশির উপরে।
|