আধুনিক উপকরণে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেসিয়াম হাসপাতালের ওষুধ ক্রয় প্রক্রিয়ায় শুরু হচ্ছে ওপেন টেন্ডারে কর্মসংস্থান সৃ্ষ্টিতে বেকার নার্সদের কাছেও অফার লেটার যাচ্ছে সচেতনতা বাড়িয়েছে ক্লিন ঢাকা সপ্তাহ প্রয়োজন সর্বস্তরের উদ্দ্যোগ বিধ্বস্ত হাইতিতে মৃতের সংখ্যা ২ লক্ষ গণকবরে ৪০ হাজার মানুষ

মাথার চুলে মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে হার্ট অ্যাটার্কের সম্ভাবনা থাকে

আমারহেলথ (২৩ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার): যারা হৃদরোগে  ভুগছেন তাদের জন্য সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হল যে কোন মুহূর্তে তারা মৃত্যুর কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারেন। কিন্তু কিছুটা হলেও তাদের জন্য সুখবর নিয়ে এসেছেন বিজ্ঞানীরা। হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার অনেক আগেই টের পাওয়া যাবে এমন একটি কৌশল তারা আবিষ্কার করতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করছেন।
সম্প্রতি স্ট্রেস নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে  একদল কানাডিয়ান গবেষক বলেছেন, মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী হরমোন করটিসল এর পরিমাণ মাথার চুলে যদি অত্যধিক মাত্রায় বেড়ে যায় তাহলে বুঝবেন শিগগির আপনি হার্ট অ্যাটাকের কবলে পড়তে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, আক্রান্ত হওয়ার মাসাধিক কাল আগেই এ পূর্বাভাস পাওয়া যেতে পারে। তবে  এ পরীক্ষা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপজনিত হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাস দিতে পারবে না। অথচ যারা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে ভোগেন তাদের হার্ট অ্যাটাকসহ অন্যান্য হৃদরোগে ভোগার সম্ভাবনা বেশি। আর এরাই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিতে থাকেন সবচেয়ে বেশি।
ওয়েস্টার্ন অনটারিও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং গবেষণাপত্রটির প্রতিবেদন লেখক স্ট্যান ভন উম এবং গিডিয়ন কোরেন বলেন,  সাধারণত করটিসল হরমোন রক্তরস, মূত্র এবং মুখের লালা থেকে পরিমাপ করা হয়। তবে এসব তরল থেকে প্রাপ্ত করটিসলের মাত্রা মানসিক চাপজনিত প্রভাব কয়েকঘণ্টা বা মাত্র কয়েকদিন পর্যন্ত ধরে রাখতে পারে। ফলে এ পরীক্ষা দিয়ে খুব বেশি সময় আগে হার্ট অ্যাটাকের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু চুলে অবস্থিত করটিসল হরমোন তা পারে।
প্রত্যেক মাসে চুলের বৃদ্ধি ঘটে গড়ে এক সেন্টিমিটার। সুতরাং একটি চুলের মাত্র ছয় সেন্টিমিটার লম্বা কোন অংশ পরীক্ষার মাধ্যমে অনেক দীর্ঘ সময়ের জন্য মানসিক চাপের মাত্রা নির্ধারণ করা সম্ভব।
গবেষকরা ইসরাইলের কেফার সাবায় মেয়ার মেডিকেল সেন্টারের ৫৬ জন হৃদরোগীর চুলের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছেন। পরে হৃদরোগ নেই এমন ৫৬ জন সুস্থ মানুষের চুলের নমুনা নিয়ে পরীক্ষায় প্রাপ্ত তথ্যের সাথে ওই তথ্যগুলোর তুলনা করেন তারা। পরীক্ষায় দেখা যায়, হার্ট অ্যাটাকের রোগীদের চুলে করটিসল হরমোনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি।
প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়, হৃদরোগ সৃষ্টিকারী রিস্ক ফ্যাক্টরগুলোর জন্য যেমন- ডায়াবেটিস, উচ্চরক্তচাপ, ধূমপান এবং প্রধান ধমনিতে বংশগত রোগ, চুলের করটিসল মাত্রা বৃদ্ধি হৃদরোগের একটি শক্তিশালী ভবিষ্যৎ বার্তা বাহক।
উল্লেখ্য, চাকরি, বিয়ে বা অর্থ সংক্রান্ত জটিলতা ইত্যাদি মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো হার্ট অ্যাটাকসহ অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধির জন্য দায়ী।  

ইন্টারনেট অবলম্বনে জাফরসাদেক শিবলী।

অনিরাপদ পানি পান যুদ্ধের চেয়েও  ভয়ংকর - বান কি মুন

জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন অনিরাপদ পানি পান যুদ্ধের চেয়েও  ভয়ংকর । বিশ্বে প্রতিবছর যুদ্ধসহ সব ধরনের দাঙ্গা-সংঘাতে যত মানুষ মারা যায়। অনিরাপদ পানি পান করে ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে তার চেয়ে অনেক বেশি মানুষ মারা যায়। গত ২২ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
অন্যদিকে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক প্রতিবেদনে বলেছে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার মোট জনসংখ্যার ৩৯ শতাংশ  অর্থাৎ ওই অঞ্চলের সাড়ে ১৫ কোটি মানুষ তাদের প্রয়োজনমতো পানযোগ্য পানি পায় না। আফ্রিকার এখন সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি হচ্ছে খাবার পানির অভাব। তাদের হিসাব অনুযায়ী ১৯৯৯ সালে ওই এলাকায় পানিসংকটে থাকা লোকের সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ৬০ লাখ। ২০০৮ সালে সেই সংখ্যা সাড়ে ১৫ কোটিতে এসে দাঁড়িয়েছে।

বান কি মুন বলেন, পানির অভাবে এই বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর বিষয়টি মানবতার জন্য চরম অপমানজনক। যেসব উন্নত দেশ আফ্রিকাবাসীর উন্নয়নের জন্য কাজ করছে, তাদের সেই প্রচেষ্টাও এতে খর্ব হয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, বিশুদ্ধ পানির অভাব একটি গুরুতর সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশুদ্ধ পানির সরবরাহের ওপর বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নির্ভর করছে। এটা মানবিক ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়। হিলারি বলেন, বিশুদ্ধ পানির অভাব যেভাবে দিন দিন বাড়ছে, তাতে নিকট-ভবিষ্যতে পানিসম্পদ ব্যবহারের সফলতার ওপর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
বান কি মুন তাঁর বাণীতে বলেন, ‘বিশ্বের প্রাকৃতিক পানিচক্রের মধ্যে আমরা প্রতিবছর লাখ লাখ টন শিল্পবর্জ্য, রাসায়নিক দ্রব্য ও কৃষিবর্জ্য ফেলছি। এমনিতেই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশুদ্ধ পানির পরিমাণ কমে এসেছে। তার ওপর কৃত্রিমভাবে পানিদূষণ অব্যাহত থাকলে তা সবাইকে বিপর্যয়ের মধ্যে ফেলে দেবে।’
বান কি মুন বলেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

স্বাস্থ্য সেবা বিলে ওবামার স্বাক্ষর

এইচ এম দিদার (রয়টার্স অবলম্বনে):  যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার বিলে মঙ্গলবার স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। এর মধ্য দিয়ে বিলটি আইনে পরিণত হল। রিপাবলিকানদের তীব্র বিরোধিতার মুখেও গত ২১ মার্চ রবিবার কংগ্রেসে বিলটি পাস হয়েছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে এ বিল পাস করা নিয়েই সবচেয়ে বেশি ঝামেলায় পড়তে হয়েছে ক্ষমতাসীনদের।

হোয়াইট হাউসে ডেমোক্রেট দলীয় সদস্য ও অন্যান্য সমর্থকদের উল্লাস ধ্বনির মধ্যে ওবামা বলেন, বিলটি সই করে আমি একে সুরক্ষিত করলাম।  এর মূলনীতি হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে প্রত্যেকের জন্য কিছু মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

আইন পাশের সঙ্গে সঙ্গে ১৪টি রাজ্য এ আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছে। তাদের মতে, এ আইন রাজ্যের অধিকার খর্ব করবে। অন্যদিকে, সর্বসম্মতিক্রমে এ বিলের বিরোধিতাকারী রিপাবলিকান দলের আইনপ্রণেতারা এ আইনের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন। নতুন এ আইনে ৩২ মিলিয়ন মার্কিনি স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আসবে।