আধুনিক উপকরণে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেসিয়াম হাসপাতালের ওষুধ ক্রয় প্রক্রিয়ায় শুরু হচ্ছে ওপেন টেন্ডারে কর্মসংস্থান সৃ্ষ্টিতে বেকার নার্সদের কাছেও অফার লেটার যাচ্ছে সচেতনতা বাড়িয়েছে ক্লিন ঢাকা সপ্তাহ প্রয়োজন সর্বস্তরের উদ্দ্যোগ বিধ্বস্ত হাইতিতে মৃতের সংখ্যা ২ লক্ষ গণকবরে ৪০ হাজার মানুষ

কৃত্রিম রক্ত কণিকা তৈরির ঘোষণা ব্রিটেনের বিজ্ঞানীদের

আমার হেলথ (১৮ আগস্ট, বুধবার): আইভিএফ প্রযুক্তিতে তৈরি ভ্রুণের কোষ থেকে প্রথম বারের  মতো লোহিত রক্ত কনিকা তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন ব্রিটেনে একদল বিজ্ঞানী। বাণিজ্যিকভাবে রক্ত তৈরি প্রকল্পের গবেষণায় এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

গবেষণায় ভ্রুণীয় স্টেম সেল লাইন তৈরিতে গবেষকরা শতাধিক পৃথক ভ্রুণ ব্যবহার করেন। এর একটি লাইনকে আরসি-৭ রক্তের স্টেম সেলে রূপান্তরিত করা হয়। অবশ্য রূপান্তরের আগে কোষগুলিকে অক্সিজেনবাহী রঞ্জক হিমোগ্লোবিন সমৃদ্ধ লোহিত রক্ত কণিকার কোষে পরিবর্তন করতে হয়।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ৩ মিলিয়ন পাউণ্ডের প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল জিনগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ও-নেগেটিভ গ্রুপের রক্ত কোষ তৈরি করা। এ গ্রুপের রক্ত টিস্যুর কোন ক্ষতি করবে না এবং যে কোন রক্তগ্রুপের ব্যক্তির শরীরে সঞ্চালন সম্ভব। তবে এ গ্রুপের রক্ত মাত্র ৭ শতাংশ মানুষের শরীরে পাওয়া যায় বলে জানান গবেষকরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসা ক্ষেত্রে এ গবেষণা একটি বিপ্লব ঘটিয়ে দেবে। জরুরি মুহূর্তে রক্তের জন্য স্বেচ্ছা রক্তদানকারীদের ওপর নির্ভর করতে হয়। আর এ গ্রুপের রক্ত সহজলভ্য না হওয়ায় সমস্যার মুখোমুখি পড়তে হয় ভুক্তভোগীদের। কৃত্রিম এ রক্ত বাণিজ্যিক ভিত্তিতে উৎপাদন শুরু হলে সংকটের অবসান হবে বলেও তারা জানান। এ গবেষণা ও-নেগেটিভ রক্ত চারদিন বয়সী একটি আইভিএফ ভ্রুণ থেকে সারা ব্রিটেনে রক্ত সরবরাহ করা সম্ভব হবে।  তবে গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, কৃত্রিম এ রক্তের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর আগে নিশ্চিত করতে করতে হবে যে, এটি অন্য রোগের সংক্রমণ ঘটাবে না। মানুষের দেহে সংক্রমণযোগ্য ম্যাডকাউ রোগ বিস্তারের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন গবেষকরা।  

প্রসঙ্গত, ব্রিটেনে রক্ত কিনতে গেলে অনেক টাকা গুনতে হয়। বর্তমানে সঞ্চালনের জন্য প্রস্তুত এমন এক পিন্ট (৫৭ লিটার) রক্ত কিনতে খরচ পড়ে ১শ ৮০ পাউন্ড। আবার অন্যান্য টেস্টসহ মোট খরচ ৫শ পাউন্ড ছাড়িয়ে যায়। তাছাড়াও ব্রিটেনে প্রতি বছর রক্তের চাহিদা ২.৫ মিলিয়নেরও অধিক যা সরবাহের তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আগামী ৫ বছরের মধ্যে তারা কৃত্রিম রক্তের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করবে।