সমস্যার আবর্তে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা: দরকার কার্যকর পদক্ষেপফয়সাল আকবর |
হাসপাতাল নেই, হাসপাতাল থাকলেও পর্যাপ্তসংখ্যক ডাক্তার নেই, ডাক্তার থাকলেও অভিজ্ঞ ডাক্তারের অভাব। একইভাবে যন্ত্রপাতি নেই, আবার সামান্য কিছু যন্ত্রপাতি থাকলিও সেগুলো প্রায় ব্যবহাররে অনুপযোগী, প্যাথলজিক্যাল টেস্টের জন্য ল্যাব ও ভৌত সুবিধাদির অভাব, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্যাথলজিস্টের অভাব, গ্রহণযোগ্য নয় এমন মেডিকেল টেস্টের ফলাফল এবং নার্সিং সুবিধাদির অপ্রতুলতা এর সমন্বয়েই হলো বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা। ফলে এই স্বাস্থ্যব্যবস্থা জনগণের প্রত্যাশিত চিকিৎসা সেবা প্রদানে ব্যর্থ হচ্ছে । জনসংখ্যার দিক থেকে ১৫ কোটিরও বেশি লোকের এ বাংলাদশে পৃথিবীর নবম বৃহত্তম দেশ ।স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্র মতে, দেশে ১৫ কোটি মানুষের জন্য সরকারি ডাক্তারের পদ রয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৯টি। এরমধ্যে মাত্র ১২ হাজার ১০৫ জন ডাক্তার চাকরি করছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ৯ হাজার ৪৯০ জন এবং নারী দুই হাজার ৬১৫। পুরুষ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন দুই হাজার ৪৯৬ জন এবং নারী বিশেষজ্ঞ ৫৬০ জন। দেশে সরকারি হাসপাতাল রয়েছে ৫৫০টি। এরমধ্যে উপজেলা পর্যায়ে চালু হাসপাতাল ৪৩২টি। জেলা পর্যায়ে ৬৩টি, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ১৭টি এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল ৩৮টি। এসব হাসপাতালে শয্যা রয়েছে ৪১ হাজার ৫১৩টি। কমিউনিটি ক্লিনিক আছে ১৩ হাজার। মাত্র দুই হাজার ক্লিনিকে দুই ঘণ্টা সেবা দেয়া হচ্ছে। তবে দেশে এমবিবিএস পাস করা রেজিস্ট্রেশনকৃত ডাক্তার ৪৮ হাজার। ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান, হেলথ এসিস্ট্যান্টসহ শূন্যপদ রয়েছে ২৬ হাজার ৫৮৯টি। ঢাকা ও মফস্বল শহররে কথা বাদ দিলে গ্রামাঞ্চলে মানুষ ও ডাক্তারের অনুপাত আরো ভয়াবহ। শতকরা ১৮ জন রোগী মানসম্পন্ন চিকিৎসা পায় আর শতকরা ৮২ বা বেশিরভাগ লোকরেই মানসম্পন্ন চিকিৎসা সুযোগ নেই। এ অবশষ্টি রোগী তাদরে ভাগ্যরে করুন পরিহাসের জন্য দ্বারস্থ হয় হাতুড়ে ডাক্তার এবং গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে, যাদের পর্যাপ্ত পরিমাণ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা প্রদানরে যথার্থ এবং মানসম্পন্ন কোনো জ্ঞানই নেই। একইভাবে রাজধানী ও বিভিন্ন বিভাগীয় শহরের অবস্থাও খুবই নাজুক। যেমন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সিটিস্ক্যান মেশিন বেশ কিছুদিন ধরে নষ্ট। নষ্ট রয়েছে আরো বেশি কিছু চিকিৎসা-সরঞ্জাম। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, কিডনি ও মিটফোর্ড হাসপাতালসহ রাজধানীর সরকারি হাসপাতালের শতাধিক যন্ত্র নষ্ট। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নার্স ও ওয়ার্ডবয়ের অভাবে আইসিইউ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না দীর্ঘদিন ধরে। অলস পড়ে আছে প্রায় এক কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম। সরকারি চিকিৎসা ব্যবস্থার এ অব্যবস্থাপনার সুযোগে বাণিজ্য চালাচ্ছে বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো। নানা কৌশলে চিকিৎসা ফি বাবদ হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে কোটি কোটি টাকা। অভিযোগ পাওয়া যায়, প্রতি টেস্টে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেন ডাক্তাররা । তাই ১০০ টাকার একেকটি পরীক্ষায় আদায় হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। তেমনি কোনো কোনো ডাক্তারের পরামর্শে অপ্রয়োজনীয় ওষুধ খেয়ে নিঃস্ব হচ্ছে রোগীরা। গবেষণায় দেখা গেছে, অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া বন্ধ হলে বছরে রোগীদের সাশ্রয় হতো প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। বাংলাদেশের ঔষধ কোম্পানি সম্পর্কে পরিদফতর সূত্রে জানা গেছে, ২৪৬টি এ্যালোপেথিক ওষুধ কোম্পানি, ২৬১টি ইউনানি, ১৬১টি আয়ুর্বেদিক ও ৭৭টি হোমিওপ্যাথিক ওষুধ কোম্পানি রয়েছে। |

Copyright © 2009 |Amarhealth|