সজীব দেব
কিছু অসৎ মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট, প্যাথলজিস্ট ও নার্সের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালের রোগীরা। রক্ত পরীক্ষা, আরবিএস, ইসিজিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রেই কোনো রকম রসিদ ছাড়াই রোগীদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে। ভুক্তভোগী রোগীদের অভিযোগ, চিকিৎসার প্রতিটি ধাপে টাকা না দিলে কেউ কোনো কাজ করেন না।
হাসপাতালের প্রথম তলার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন পুরান ঢাকার শফিকুল ইসলাম জানান, প্যাথলজি বিভাগে রক্তের আরবিএস পরীক্ষা করতে ৩৩০ টাকা নিয়েছেন মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টরা। কিন্তু মানি রিসিট চাইলে বলেছেন, কিছু লাগবে না।
একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন নরসিংদীর সুজন জানান একই রকম কথা। তিনি বলেন, 'কয়েকবার তাঁদের কাছে রসিদ চাইলে ধমক দিয়ে তাঁরা আমার অভিভাবককে তাড়িয়ে দিয়েছেন। এক পর্যায়ে তাঁরা একটি রসিদ দিয়েছেন। কিন্তু ৩৩০ টাকা দিয়ে রক্ত পরীক্ষা করলেও তাতে উল্লেখ রয়েছে ১০০ টাকার কথা।'
দুই নম্বর ওয়ার্ডে গত ৩ মার্চ ভর্তি করা হয়েছে মাদারীপুরের কুন্তিপাড়ার শিশু রোগী ঐশীকে।তার মা ফরিদা বেগম জানান, ভর্তির পর থেকে প্রতিটি ধাপে টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা না দিলে তাঁরা কোনো কাজ করেন না। ফরিদা আরো বলেন, অপারেশনের পর রিকভারি কক্ষে নিয়েও রোগীপ্রতি ২০০-৩০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। এসব বিষয় কর্মকর্তারা জানলেও তাঁরা এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। রিকভারি কক্ষে অবস্থান করা ময়মনসিংহের এক রোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, 'অপারেশনের পর এখানে এনে এক নার্স আমার অভিভাবকের কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়েছেন।'
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট আব্দুস সালাম, দেলোয়ারসহ কয়েকজন ওয়ার্ড মাস্টার ও নার্স রোগীদের জিম্মি করে টাকা আদায় করে যাচ্ছেন।
অভিযোগ প্রসঙ্গে মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট দেলোয়ার হোসেন বলেন, এগুলো ভুল কথা। মানি রিসিট ছাড়া রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় না।
এ প্রসঙ্গে হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. খন্দকার আবদুল আওয়াল (রিজভী) বলেন, এমন ঘটনা অপ্রত্যাশিত। মানি রিসিট ছাড়া রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া আইনত অপরাধ। অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে,অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
|