আপনার স্বাস্থ্য, তোমার স্বাস্থ্য, আমার স্বাস্থ্য-সবার স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য অনলাইন হেলথ নিউজ পোর্টাল আমারহেলথ

দালালদের হাতে জিম্মি জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল: কর্তৃপক্ষের অস্বীকার

১৬.০৩.২০১০
ইমান উদ্দিন ইমন:
জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতাল জিম্মি হয়ে আছে কিছু দুর্নীতিবাজ লোকদের হাতে। প্রতিনিয়ত
এই হাসপাতালে  বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম চলছে যেমন: রশিদ ছাড়া টাকা আদায়, ডাক্তারদের সাথে প্রাইভেট হাসপাতালের যোগাযোগ মাধ্যমে প্রাইভেট হাসপাতালে রোগী রেফার করা, বিভিন্ন ধরনের কৃত্রিম লিম্বের অজুহাত দেখিয়ে রোগীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া, এছাড়া সরবরাহকৃত ওষুধ রোগীদের ঠিকমত না দেওয়াসহ বিভিন্ন কারনে এই হাসপাতালের সার্বিক স্বাস্থ্য সেবা ব্যহত করছে কিছু অসাধু ডাক্তার, নার্স এবং স্টাফরা।
এই হাসপাতালের ইমার্জেন্সীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ থেকে ১১৫ জন রোগী আসে তাদের মধ্যে ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি করানোর প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু বিভিন্ন অনিয়মের কারনে রোগীরা ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়রানির শিকার হন। এর মুলে রয়েছে কিছু অসাধু ডাক্তারদের হাত। এই হাসপাতালের কিছু কিছু ডাক্তার প্রাইভেট হাসপাতালের প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করছে এবং তাদেরকে সহযোগীতা করছে দালালরা। তারা বিভিন্ন ধরনের সার্ভিসের সুবিধা দেখিয়ে রোগীদের প্রাইভেট হাসপাতালের প্রলোভন দেখায় এবং রোগীদের প্রলুব্ধ করে প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য। এছাড়া ভর্তিকৃত রোগীদের কাছ থেকেও বিভিন্ন ধরনের অজুহাত দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।
সরেজমিনে জাতীয় অর্থপেডিক হাসপাতালে ঘুরে পরিচয় হয় ক্রিসেন্ট হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক কমপ্লেক্স লিমিটেডে চিকিত্সাধীন রবিউলের ভাই খোকন এর সাথে তিনি বলেন, পঙ্গু হাসপাতাল থেকে দালাল শাহজাহান ও এক ডাক্তারের সহযোগীতায় তার ভাইকে ভর্তি করানো হয়  ক্রিসেন্ট হাসপাতালে। এই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অস্ত্রোপচার ও চিকিত্সার জন্য ২৫ হাজার টাকা দাবি করে। অবশেষে ২০ হাজার টাকায় রাজি করানো হয়।। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিত্সার সুযোগ থাকলেও ভাইয়ের কপালে তা জোটেনি। এখন আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে তার চিকিত্সা করাতে হচ্ছে।

এদিকে তিন নম্বর ওয়ার্ডে ব্যথায় কাতরাচ্ছেন মো: আকতার হোসেন। তিনি ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। গত ৯ই মার্চ মোটর সাইকেল এক্সিডেন্ট করেন। এক্সিডেন্টের পর এই হাসপাতালে ভর্তি হন। গত ৪দিন আগে তার অপারেশন হওয়ার কথা কিন্তু টাকার জন্য তার অপারেশন হচ্ছে না। তিনি জানান, ডাক্তার নিজাম তার ট্রিটম্যান করছেন। তার কাছ থেকে কৃত্রিম লিম্ব সংযোগের অজুহাত দেখিয়ে অপারেশন বাবদ ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। এত টাকা দিয়ে অপারেশন করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না বলে তিনি জানান।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় এই হাসপাতালের উপ পরিচালক ডা. কামরুল আলম সালেহের কাছে। তিনি বলেন, এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। গত জোট সরকারের আমলে এসব দূর্নীতি চলত। কিন্তু মহাজোট ক্ষমতায় আসার পর আমরা সব ডাক্তারদের ডেকে এনে সতর্ক করে দিয়েছি যে এ ধরনের অভিযোগ যদি কারও বিরুদ্ধে পাওয়া যায় তাহলে তাকে যথাযত শাস্তি পেতে হবে।