স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে তুমুল হট্টগোল: সংঘর্ষে আহত ৭ |
বিএসএমএমইউর ডা. মিলন হলে ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্র্যাকটিশনার এসোসিয়েশন (বিপিএমপিএ) নির্বাচন-২০১০ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা চলছিল। আকস্মিক এ সংঘর্ষে উপস্থিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিব্রত হন। পুরো হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রোগী, দর্শনার্থী, চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের অনেকেই ছুটোছুটি করতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা কাছে জানা যায়, যশোর-৫ আসনের এমপি খান টিপু সুলতানের স্ত্রী ও হলিফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডা. জেসমিন আরার গাড়ি চালকের সঙ্গে দুই নম্বর গেটের টোল আদায়কারী একজন কর্মচারীর বাকবিতন্ডা হয়। জেসমিন আরা বিপিএমপিএ নির্বাচনে বিজ্ঞান সম্পাদক পদে প্রার্থী। তার চালক ১০ টাকা টোল না দিয়ে গাড়ি পার্কিং করতে চাইলে টোল আদায়কারী কর্মচারীর সঙ্গে ঝগড়া হয়। তখন হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত কয়েকজন আনসার ধাওয়া করে ওই গাড়ি চালককে। গাড়ি চালক মিলন হলে আশ্রয় নিলে, ৪/৫ জন আনসার সদস্য লাঠি হাতে তাকে ধাওয়া করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ঢুকে পড়ে। এ সময় অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া ডাক্তাররা তাদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে ভেবে আনসারদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। এ অবস্থায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠান স্থলেই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন চিকিত্সক, আনসার ও ড্রাইভার। এরপরই চিকিৎসকরা মারমুখী হন এবং আনসারদের হাত থেকে লাঠি কেড়ে বেদম মারতে থাকেন। মুহুর্তের মধ্যে প্রায় দুশতাধিক সরকারদলীয় সমর্থক চিকিৎসক জড়ো হন। আনসাররা দাবি করেছে, তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আলোচনা সভার কথা জানতো না এবং কোনো চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলেনি বরং চিকিৎসকরাই তাদের বেদম প্রহার করেছে। বিএসএমএমইউ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল মজিদ ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনা তদন্তে নাক কান গলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আবু সফি আহমেদ আমিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। একই ঘটনায় শাহবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। সভাশেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এ ধরনের ঘটনা কাম্য নয়। উল্লেখ্য ৩১ সদস্যের বিপিএমপিএ নির্বাহী কমিটির নির্বাচন আগামী ৩০ এপ্রিল মিরপুর দারুস সালামে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।
|
Copyright © 2009 |Amarhealth|