আপনার স্বাস্থ্য, তোমার স্বাস্থ্য, আমার স্বাস্থ্য-সবার স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য অনলাইন হেলথ নিউজ পোর্টাল আমারহেলথ

সারাদেশে লোডশেডিং ও গরমে রোগীদের দুর্ভোগ :নেই জেনারেটরের কোন ব্যবস্থা

হাসান  শাহরিয়ার
সারাদেশের সরকারি হাসপাতালে কয়েকশ’ কোটি টাকার ডিজেলচালিত জেনারেটর অচল হয়ে পড়ে রয়েছে। ঘন ঘন লোডশেডিং আর তীব্র গরমের ফলে রোগীদের অবস্থা করুণ ও ভয়াবহ আকারে রূপ নিলেও এসব জেনারেটর তাদের কোনো উপকারে আসছে না। বাজেটে বরাদ্দ না থাকায় ডিজেলের খরচ না পাওয়ায় জেনারেটরগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না বলে দাবি করছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিত্সকরা। বাজেটে ডিজেল খরচ বরাদ্দ দেয়ার জন্য তারা গত সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় থেকেই দাবি জানিয়ে আসছেন। ওই সরকার কোনো উদ্যোগই নেয়নি। জেনারেটরগুলো ব্যবহার করতে বা সচল করার কোনো উদ্যোগ ক্ষমতাসীন মহাজোট সরকারও নিচ্ছে না। বছরের পর বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে থেকে অনেক জেনারেটর অকেজো হয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কয়েকশ’ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০০৫ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে সারাদেশের জেলা হাসপাতালগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী এসব জেনারেটর দেয়া হয়। যার মধ্যে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যার হিসাব অনুযায়ী ৪০ থেকে ৮০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর রয়েছে।
জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে সাত থেকে আট ঘণ্টা বিদ্যুত্ ছাড়া থাকতে হচ্ছে খোদ রাজধানীবাসীকে। কোনো কোনো এলাকায় দিনে ১২ থেকে ১৪ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রিপোর্ট অনুযায়ী ঢাকার বাইরের শহরগুলোতে বিদ্যুৎ থাকে না বললেই চলে। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় দিন দিন গরমের তীব্রতা বাড়ছে। এ অবস্থায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিত্সা কার্যক্রম। হাসপাতালে রোগীদের দুর্ভোগ সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। অসহ্য যন্ত্রণায় ও গরমে হাঁসফাঁস ও ছটফট করা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই। বিদ্যুৎ সঙ্কট ও প্রচণ্ড তাপদাহের কারণে সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে শিশু, বৃদ্ধ ও উচ্চ রক্তচাপের রোগীরা। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. একেএফ মজিবুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলছেন ‘হাসপাতালে জেনারেটর ব্যবহারের খুব বেশি প্রয়োজন নেই। কারণ, হাসপাতাল এলাকায় সাধারণত লোডশেডিং হয় না। কোনো হাসপাতাল থেকেই এখনও পর্যন্ত এরকম অভিযোগ আসেনি।’
চিকিত্সকরা বলছেন, জেনারেটর চালু করতে সরকারের উদ্যোগ না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বরে ওই সময়ের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জহুরুল হক স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালককে চিঠি লিখে জানান, ‘ঢাকার ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি জেনারেটর দরকার।’ এর কিছুদিন পরই ডিজেল খরচ ও বাজেট না থাকায় বরাদ্দ পাওয়া জেনারেটরটি ফিরিয়ে আনার জন্য নওগাঁ জেলা হাসপাতাল থেকে একটি চিঠি আসে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। সেখান থেকে ৬০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটরটি এনে দেয়া হয় ধামরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। একই কারণ উল্লেখ করে কয়েক মাস পর ধামরাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সও সেটি ফেরত নেয়ার অনুরোধ জানায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। সেখান থেকে এনে সেটি পাঠানো হয় ঢাকার ডেন্টাল হাসপাতালে। একইভাবে নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক প্রাপ্ত জেনারেটর ফেরত নেয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে চিঠি লিখেন ২০০৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি। ৪০ কেভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন এ জেনারেটর ওই হাসপাতাল থেকে এনে বরাদ্দ দেয়া হয় টঙ্গীর ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের জন্য। এ হাসপাতালে জেনারেটরটি এখন অকার্যকর হয়ে পড়ে রয়েছে বলে জানা যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন এসব প্রসঙ্গে বলেন, ‘হাসপাতালে জেনারেটর চালানোর ডিজেল খরচ বরাদ্দ থাকে না বাজেটে। বরাদ্দের আবেদন করার জন্য কোনো কোডও নেই। কোডের জন্য এরই মধ্যে অধিদপ্তর থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদনও করা হয়েছে। তা গৃহীত হলে বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে আমরা আশা করছি।