আপনার স্বাস্থ্য, তোমার স্বাস্থ্য, আমার স্বাস্থ্য-সবার স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য অনলাইন হেলথ নিউজ পোর্টাল আমারহেলথ

দেশে প্রথম সফল যকৃৎ প্রতিস্থাপিত ইরশাদ বাড়ি ফিরেছেন

৭ জুলাই, নাজিবুল্লাহ: দেশে প্রথম যকৃৎ প্রতিস্থাপিত কাজী ইরশাদ আহমেদ (৪২) সুস্থ হয়ে রাজধানীর বারডেম হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন। তাঁর শরীরে প্রতিস্থাপিত যকৃৎ দানকারী ইরশাদের মামা খালেদ আব্দুল্লাহও সুস্থ আছেন। ৬জুলাই, মঙ্গলবার সুস্থভাবে বেঁচে থাকার আশা নিয়ে ইরশাদ হাসপাতাল ত্যাগ করেছেন। তিনি এখন পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পথে। দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এই দুজন উজ্জ্বল থাকলেন।

কাজী ইরশাদ আহমেদের বিদায় উপলক্ষে মঙ্গলবার এক আনন্দঘন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে যোগ দেন কাজী ইরশাদ নিজে, হাসপাতালে তাঁর নিত্যসঙ্গী স্ত্রী কাজী হেনা আকতার, বাবাকে বাড়ি নিয়ে যেতে আসা তিন শিশুকন্যা খাদিজা, রাবেয়া ও সাইবা এবং যকৃৎ প্রতিস্থাপনে অস্ত্রোপচার দলের প্রধান বারডেমের প্যানক্রিয়াটিক সার্জারি বিভাগের প্রধান লিভার ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী।

অধ্যাপক হাজেরা মাহতাবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) সহসভাপতি ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. এ আর খান, বাডাস ন্যাশনাল কাউন্সিল সদস্য অধ্যাপক ডা. মির্জা মাজহারুল ইসলাম, বারডেমের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল মনসুর।

এসময় ডা. মোহাম্মদ আলী বলেন, ইরশাদ এখন পুরোপুরি সুস্থ। যকৃৎ প্রতিস্থাপনের এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় তাঁকে ছুটি দিতে পারায় আমরা আনন্দিত। এটি দেশের চিকিৎসাবিজ্ঞানে অবিস্মরণীয় ঘটনা। ইরশাদের দেহে প্রতিস্থাপিত যকৃৎটি ধীরে ধীরে বেড়ে স্বাভাবিক আকার পাচ্ছে। পুরো আকার পেতে আট সপ্তাহ লেগে যাবে।
ডা. মোহাম্মদ আলী আরো বলেন, আর দশজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের মতোই বাঁচবেন ইরশাদ। প্রথম দিকে তাঁকে সপ্তাহে এক দিন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। এক মাস পর থেকে ইরশাদ নিয়মিত অফিস করতে পারবেন। তবে সারা জীবন তাঁকে ফলোআপের মধ্যে থাকতে হবে। তিনি আরো জানান, যকৃৎ প্রতিস্থাপনের এক সপ্তাহের মধ্যেই যকৃৎ দানকারী আব্দুল্লাহও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।