আস্থার প্রতীক ইসলামিয়া চক্ষু’র সমাজসেবা বিভাগ |
প্রতিনিয়ত গরীব ও অসহায় রোগীদের আর্থিক, বৈষয়িক, মানসিক সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে সাহায্যদাতারা। আর এই সাহায্য গরীব ও অসহায় রোগীদের কাছে পৌঁছে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগ। এই সমাজসেবা বিভাগ কতৃক গরীব ও অসহায় রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা, নগদ টাকা, খাদ্য, বস্ত্র, যাতায়াত খরচ, অপারেশন খরচ ইত্যাদি প্রদান করা হয়। হাসপাতালটির সমাজসেবা বিভাগের সেবা মান স্বজনপ্রীতি ও দূর্ণীতিমুক্ত হওয়ায় সাহয্যদাতাদের কাছ থেকে প্রচুর পরিমান সাহায্য সহযোগিতা পেয়ে থাকে এবং সাহায্যদাতারা ব্যক্তিগতভাবে এই হাসপাতালে সাহায্য করে থাকেন। ইসলামি চক্ষু হাসপাতালের সমাজ সেবা বিভাগ থেকে জানা যায়, জাতীয় সমাজ কল্যান অধিদপ্তর প্রতিবছর ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের সমাজ সেবা বিভাগকে এককালীন ৫০ হাজার টাকা প্রদান করে। অথচ বছরে ৫০ হাজার টাকার বিপরীতে এই হাসপাতালের সমাজ সেবা বিভাগ কতৃক গরীব রোগীদের পিছনে প্রতিমাসে খরচ হয় প্রায় এক থেকে দেড় লক্ষ টাকা এবং বছরে প্রায় ১২- ১৫ লক্ষ টাকা। বাকী টাকা এই হাসপাতালের সমাজ সেবা বিভাগ রোগী কল্যান সমিতির মাধ্যমে সাহায্যদাতাদের কাছ থেকে সংগ্রহ করে। সমাজসেবা বিভাগ সূত্র হতে আরও জানা যায়, গত মার্চ মাসে এই হাসপাতালে মোট ৪৫০৬ জন রোগীকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছে সমাজসেবা বিভাগ। এদেরমধ্যে নগদ টাকা দিয়ে সাহায্য করেছে ১৫৩ জন রোগীকে। মার্চ মাসে রোগীদেরকে সাহায্য করতে সমাজসেবা বিভাগের মোট ব্যয় হয় ১,১৭৯৫৮ টাকা। তেমনিভাবে গত বছর এই হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগ মোট ৩৬,৫৪৭ জন রোগীকে বিভিন্ন ভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে। এদেরমধ্যে নগদ টাকা দিয়ে সাহায্য করে ১০৫৩ জন রোগীকে। গত বছর রোগীদেরকে সাহায্য করতে সমাজ সেবা বিভাগ মোট ব্যয় হয় ১৪,৯৩০০০ টাকা। এবং রোগী কল্যান সমিতির মাধ্যমে সমাজ সেবা বিভাগ গত বছর সাহায্যদাতাদের কাছ থেকে সাহায্য পায় ১৫,১৩৪৫৫ টাকা। ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগের সাহায্য পাওয়া রোগী ঢাকার আগারগাঁও বস্তি থেকে আসা শিশু সজীব জানায়, তার বাবা সড়ক দূর্ঘটনায় মারা গেছে। তার মা বাসা বাড়ীতে গৃহস্থালীর কাজ করে। এই শিশুটির রেটিনোব্লাষ্টোমা রোগ হয়েছিল। কিন্তু অনেকদিন টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত অসুখ গুরতর হওয়ায় ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এই হাসপাতালের ডাক্তার বলেছিলেন তার অপারেশন করতে খরচ লাগবে পাঁচ হাজার টাকা। কিন্তু দরিদ্র মায়ের পক্ষে এত টাকা দিয়ে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। তাই ডাক্তার তাকে পাঠায় এই হাসপাতালের সমাজ সেবা বিভাগে। সমাজ সেবা বিভাগ তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয়ভার বহন করে। কিন্তু দু:খের বিষয় শিশুটির চিকিৎসা করাতে বিলম্ভ হওয়ায় কারনে রোগটি ক্যান্সারে রুপ নেয়। তাকে শেষ পর্যন্ত ক্যান্সার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ক্যান্সার হাসাপাতালে তাকে কেমো থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। এই থেরাপির খরচও বহন করছে ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগ। ঢাকার জুরাইন থেকে আসা রোগী পঙ্গু আব্দুর রহমান। সে ঢাকা শহরে রিকশা চালায়। সে জানায়, কিছুদিন যাবত রিকশা চালাতে গিয়ে চোখে কম দেখে এবং রিকশা চালাতে তার সমস্যা হয়, সে জন্য হাসপাতালে চোখের চিকিৎসা করাতে এসেছে। ডাক্তার তার চোখ দেখে চশমা নিতে বলেন। চশমা নিতে খরচ হয় ৬০০টাকা। কিন্তু ৬০০ টাকা দিয়ে চশমা কিনা তার পক্ষে সম্ভব নয়। কারন, সে প্রতিদিন যত টাকা রিকশা চালিয়ে আয় করে সেই টাকা দিয়ে তার সংসার এমনিতেই চলেনা। তাই ডাক্তার তাকে সাহায্য নিতে সমাজ সেবা বিভাগে পাঠায়। সমাজসেবা বিভাগ তাকে ৬০০ টাকা দিয়ে চশমা বানিয়ে দেয়। মাগুরা থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধা সুলতান আহম্মেদ, তার চোখে সমস্যা। আমগাছে ওষুধ স্প্রে করতে গিয়ে চোখে পড়েছে। চোখে প্রচন্ড ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছে। ডাক্তার চোখ দেখে ২,০০০ টাকার ওষুধ লিখেছে। এত টাকার ওষুধ কিনা তার পক্ষে সম্ভব নয় বলে সে সমাজসেবা বিভাগে এসেছে সাহায্যের জন্য। সমাজসেবা বিভাগ তাকে ১০০০ টাকা সাহায্য করে। হাসপাতালের সমাজসেবা কর্মকর্তা রইসা খাতুন বলেন, হাসপাতালে গরীব ও অসহায় রোগীরা প্রকৃত চিকিৎসা পায় এবং সেবার মানও অনেক ভাল। এজন্য যারা প্রকৃতপক্ষে গরীবদের সাহায্য করতে চায় তারা এই হাসপাতালের সমাজ সেবা বিভাগে ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাহায্য করেন। এই হাসপাতালে সাহায্যদাতাদের প্রদেয় টাকা দিয়ে গরীব ও অসহায় মানুষদের চিকিৎসা করা হয়। ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালের মহাপরিচালক প্রফেসর খান এম.এ মনজুর বলেন, এই হাসপাতালের সমাজসেবা বিভাগ সাহায্যদাতাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পরিমান সাহায্য সহযোগিতা পায়। কারন, এই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন এম.এ ইস্পাহানী এবং তার উদ্দেশ্য ছিল গরীব ও অসহায় চক্ষু রোগীরা যাতে প্রকৃত চিকিৎসা পায়। তার ধারাবাহিকতায় এই হাসপাতাল অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গরীব ও অসহায় রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। এজন্য সাহায্যদাতাদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে এই হাসপাতাল। এবং সাহায্যদাতারা সর্বোচ্চ পরিমান এই হাসপাতালের সমাজ সেবা বিভাগকে সাহায্য করে যাচ্ছে। |
ইমান উদ্দিন ইমন:
Copyright © 2009 |Amarhealth|