আপনার স্বাস্থ্য, তোমার স্বাস্থ্য, আমার স্বাস্থ্য-সবার স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য অনলাইন হেলথ নিউজ পোর্টাল আমারহেলথ

ঢামেক হাসপাতালে ১৭১টি পদে নিয়োগ পেয়েছে সাড়ে তিন শতাধিক: নিয়োগকৃতদের কাজের দাবি

ফয়সাল আকবর:
ঢামেক হাসপাতালে এমএলএসএস, সুইপার, সিকিউরিটি গার্ড ও কুক ১৭১ পদে নিয়োগ পেয়েছে ৩৫১ জন। যা প্রয়োজনীয় পদের প্রায় ৩ গুণ। চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী সমিতির আওয়ামী লীগ সমর্থিত এক নেতার বিরুদ্ধে এই নিয়োগে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করা হলেও ঢাকা মেডিকেলের তত্কালীন সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বজলে কাদের মন্ত্রীর নির্দেশের তোয়াক্কা না করেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে গেছেন। ফলে দেখা দিয়েছে জটিলতা। এদিকে নিয়োগকৃতরা কাজ দেয়ার দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত ১৫ জানুয়ারি এক জরুরি সভায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণী পদে লোক নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে। কিন্তু ঢামেক হাসপাতালের সাবেক পরিচালক তা উপেক্ষা করে তার বদলির আগেই গত ১৪ জানুয়ারি নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে যান। হাসপাতাল সুত্র আরো জানায়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অফিস আদেশ স্মারক নম্বর ঢামেকহা/প্রশা/যোগদান/২০১০/২৬১-এ দেখা যায় এমএলএসএস পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ২৩৪ জনকে। অথচ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ছিল ৯৮ পদ। ২৬৪ নম্বর স্মারকে সিকিউরিটি গার্ড পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ১৯ জনের। বিজ্ঞপ্তিতে এই পদের জন্য চাওয়া হয় ১৫ জন। ২৬৫ নম্বর স্মারকে সুইপার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে ৮১ জনকে। এই পদে চাওয়া হয় ৩২ জন।

এদিকে কাজ দেয়ার দাবিতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়োগপ্রাপ্তরা দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক আন্দোলন করে যাচ্ছে। নিয়োগপ্রাপ্ত একাংশ অভিযোগ করে বলেন, ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে নিয়োগ পেয়ে আজ পর্যন্ত তিন মাস অতিবাহিত হলেও কাজ পায় নি। আমরা তিন মাস ধরে পরিচালকের কাছে কাজের দাবি করছি। পরিচালক এতে সাড়া না দিয়ে বরঞ্চ আমাদের নিয়োগ অবৈধ বলে ঘোষণা দিচ্ছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা আরো অভিযোগ করেন, আমাদের নিয়োগপত্র থাকা সত্ত্বেও পরিচালক এটা দাওয়াতপত্র বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। আমরা তিন মাস ধরে বেকার জীবন যাপন করতেছি।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোঃ শহীদুল হক মল্লিক জানান, তিনি গত ৪ ফেব্রুয়ারি হাসপাতালে পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। ১৫ জানুয়ারি নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত হয়। মন্ত্রণালয় এই স্থগিতাদেশ তুলে না নেয়া পর্যন্ত তার করার কিছুই নেই। তিনি নিয়মের বাইরে কোন কাজ করতে পারবেন না বলে জানান। তিনি বলেন, এই নিয়োগ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। যদি ১৭১ জনের বেশি নিয়োগপত্র পেয়ে থাকে তাহলে নিয়োগ নিয়ে জটিলতা আরও বাড়বে।