আপনার স্বাস্থ্য, তোমার স্বাস্থ্য, আমার স্বাস্থ্য-সবার স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য অনলাইন হেলথ নিউজ পোর্টাল আমারহেলথ

রাজধানীসহ সারাদেশে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে

জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (২৩ অক্টোবর, শনিবার): প্রচণ্ড গরম ও আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে সারাদেশে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ঢাকায় এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। গত সাত দিনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪৮০ থেকে ৪৯০ জন রোগী ঢাকার আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি)-এ ভর্তি হয়। প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ভর্তি হচ্ছে ১১ জন রোগী। শিশু, প্রাপ্ত বয়স্ক ও বৃদ্ধসহ প্রায় সব বয়সী রোগী রয়েছে এদের মধ্যে।
আইসিডিডিআরবি'র যোগযোগ শাখার তত্ত্ব ব্যবস্থাপক সুমনা লিজা শীর্ষ নিউজ ডটকমকে জানান, গত মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত ৫৩৮ জন, বুধবার ৪৯২ জন ও বৃহস্পতিবার রোগী ভর্তি হয়েছে ৪৯৭ জন।
এ সম্পর্কে আইসিডিডিআরবি'র শর্ট স্টে ইউনিটের প্রধান ড. আজহারুল ইসলাম বলেন, বছরের এপ্রিল থেকে মে এবং আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি থাকে। অন্যান্য সময় দিনে গড়ে ২০০ থেকে ২৫০ জন রোগী ভর্তি হলেও এ দুটো সময়ে দিনে গড়ে রোগী ভর্তি হয় ৪শ থেকে ৬শ জন। তবে সেপ্টেম্বর পার হয়ে গেলেও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের কথা বলেছেন। চিকিৎসকরা বলছেন, শীত আসার পূর্বে রোটা ভাইরাসের সংক্রমণের হার বেড়ে যায়। ফলে এ সময় ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এছাড়া বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, খাবারের আগে হাত না ধোয়া, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকা ইত্যাদি কারণেও ডায়রিয়া হয়ে থাকে। 
আইসিডিডিআরবি সূত্রে জানা গেছে, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ঢাকার রোগী বেশি। এদের মধ্যে অনেকেই এসেছেন গাজীপুর, টঙ্গী, রামপুরা, মহাখালী, নাখালপাড়া, খিলক্ষেত, খিলগাঁও,  মিরপুর, শেওড়াপাড়া, মোহাম্মদপুর, মালিবাগ, যাত্রাবাড়ী, কাঁচপুর, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী থেকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত সাত দিনের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে ১৬৯ জন এবং ঢাকা মেডিকেলে ৪৯ জন। এছাড়া দেশের জেলা সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছে কুমিল্লায় ৭৩৫ জন, হবিগঞ্জে ৫৩৮ জন, ঝিনাইদহে ৪৯২ জন, নরসিংদীতে ৪৮০ জন, নওগাঁয় ৪৫৪ জন, ঠাকুরগাঁয় ৪৪০ জন, বগুড়ায় ৪৩৪ জন, যশোরে ৪২৪ জন, ভোলায় ৪১৩ জন, নারায়ণগঞ্জে ২৬১ জন ও গাজীপুরে ২৩০ জন। অন্যান্য জেলার হাসপাতালগুলোতে ২০০ থেকে ১৫০ জন রোগী ভর্তি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সারাদেশে মোট রোগী ভর্তি হয়েছে ৮৮১০ জন। এছাড়া হবিগঞ্জে ২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। 
আইসিডিডিআরবি'র শর্ট স্টে ইউনিটের প্রধান ড. আজহারুল ইসলাম খান ডায়রিয়ায় চিকিৎসা সম্পর্কে বলেন, আক্রান্ত রোগী পানিশূন্যতায় ভোগেন। তাই রোগীকে বেশি করে স্যালাইন ও তরল খাবার খাওয়াতে হবে। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুকে স্যালাইনের পাশাপাশি মায়ের বুকের দুধ খাওয়াতে হবে। ছয় মাস বয়স থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী রোগীকে স্বাভাবিক খাবার খাওয়াতে হবে। বিশেষ করে বিশুদ্ধ খাবার পানি পান করাতে হবে। প্রয়োজনে পানিকে ১০ মিনিট ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে কিংবা বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে পানি বিশুদ্ধ করে পান করাতে হবে। এতেও রোগীর অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত কাছের কোন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যেতে  হবে। এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে টয়লেট ব্যবহারের পর ও খাবারের পূর্বে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।