
জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (২০ অক্টোবর, বুধবার): কলেরা নিয়ে গবেষণায় বড় ধরনের সাফল্য পেয়েছেন বাংলাদেশের একদল বিজ্ঞানী। কলেরার জীবাণু যে প্রক্রিয়ায় ভয়াবহ হয়ে ওঠে তা আবিষ্কার করেন তারা। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) মলিকুলার জেনেটিক বিভাগের প্রধান ড. শাহ এম ফারুক ও তাঁর সহকর্মী বিজ্ঞানীরা সম্প্রতি এটি আবিষ্কার করেন।
বোস্টনের হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের ড. জন ম্যাকালেনোস এ গবেষণায় সহযোগিতা করেন। এই গবেষণার ফল বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান জার্নাল ‘নেচার’-এ প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার মানেই গবেষণার ফলটি গ্রহণযোগ্যতা ও পরিপক্কতা লাভ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষণায় প্রাপ্ত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কলেরা জীবাণুর নতুন প্রজাতির নানা দিক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রতিষেধক তৈরি করবেন বিজ্ঞানীরা। আগামী দু’ থেকে তিন বছরের মধ্যে নতুন ভ্যাকসিন তৈরির কাজ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গবেষণা সমাপ্ত করেই বসে থাকেননি বিজ্ঞানীরা। কলেরা জীবাণুর গতিবিধি পর্যালোচনা করে তাঁরা প্রতিষেধক তৈরিসহ নানা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। ড. শাহ এম ফারুক সোমবার জানান, গবেষণায় প্রাপ্ত জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কলেরা জীবাণুর নতুন প্রজাতির নানা দিক পরিক্ষা-নিরীক্ষা করে জনস্বাস্থ্য উপযোগী প্রতিষেধক তৈরি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগামী দু’ থেকে তিন বছরের মধ্যে নতুন ভ্যাকসিন তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। পানি পরিক্ষা করে কলেরা সম্পর্কে মানুষকে জানানো যাবে, সাবধান করে দেয়া যাবে।
বিজ্ঞানীরা দল ব্যাখ্যা করেছেন, কি প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়াগুলো কিছু ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়ে এক ধরনের ভয়ঙ্কর বিষাক্ত দ্রব্য তৈরিতে সক্ষম হয়ে ওঠে এবং পরিপাকতন্ত্রের কোষের সঙ্গে পারস্পরিক বিক্রিয়ায় প্রচুর পানি ও খনিজ লবণ নিঃসৃত করে। গবেষণায় এসবের ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। শরীর থেকে এ পানি ও খনিজ লবণ নিঃসৃত হওয়াকেই বলা হয় ডায়রিয়া। ভাইরাসের বিক্রিয়ার ফলে কলেরার জীবাণু কিভাবে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে, তাও গবেষণায় আরও সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। টিএলসি ফাজ নামে যে নতুন ভাইরাস এই গবেষক দল চিহ্নিত করেছেন তাতে একটি জটিল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া গেছে। এসব ভাইরাসের মাধ্যমে কলেরা সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া প্রাকৃতিকভাবে খবর পায় কি করে মানুষের পরিপাকতন্ত্রের মতো বিরূপ জায়গায় আশ্রয় নিয়ে তাদের বেঁচে থাকতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর সারা বিশ্বে প্রায় ১০ লাখ লোক কলেরায় আক্রান্ত হয় এবং এক লাখের বেশি লোকের মৃত্যু ঘটে। জিম্বাবুয়ে ও মোজাম্বিকের মতো আফ্রিকার বহু দেশে এবং পাকিস্তানের বন্যাকবলিত এলাকায় সাম্প্রতিক মহামারীতে এ রোগের ক্রমবর্ধমান বিপদের আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে এ রোগ সম্পর্কে আরও ভালভাবে জানার জন্য ড. ফারুক ও তাঁর সহকর্মীদের পরিচালিত গবেষণা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নির্ণয় ও গবেষণা সেন্টারের (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, এই গবেষণার ফল বিশ্ব বিখ্যাত বিজ্ঞান জার্নাল ‘নেচার’-এ প্রকাশিত হয়েছে। এ ধরনের জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার মানেই গবেষণার ফলটি গ্রহণযোগ্যতা ও পরিপক্কতা লাভ করেছে বলে ধরে নেয়া। |