আপনার স্বাস্থ্য, তোমার স্বাস্থ্য, আমার স্বাস্থ্য-সবার স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার জন্য অনলাইন হেলথ নিউজ পোর্টাল আমারহেলথ

ডায়াবেটিক রোগীদের চাপ বাড়ছে বারডেমে

নাজিবুল্লাহ (৩ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার): ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সেবাময় স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান বারডেম এখন ডায়াবেটিক রোগীদের কাছে অন্যতম চিকিত্সা কেন্দ্র। ৫০ বছরের বেশি সময়ের পুরনো এ প্রতিষ্ঠান রোগীদের কাছে হয়ে উঠেছে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা কেন্দ্র। দেশে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির (বাডাস) ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৬০ লাখ ডায়াবেটিক রোগী আছেন। সেজন্য এ হাসপাতালে রোগীর চাপও বাড়ছে। প্রতিদিন বারডেমের বহির্বিভাগে নতুন ও পুরনো মিলিয়ে কয়েক হাজার রোগী আসেন। রোগীর চাপ অনুযায়ী হাসপাতালে চিকিত্সা বিভাগ, চিকিত্সক, অবকাঠামোগত সুবিধা, সেবিকা, কর্মকর্তা ও কর্মচারী গত কয়েক বছরে বেড়েছে। এক সময়ের ৭০টি শয্যার এ হাসপাতালে এখন আছে প্রায় ৬০০টি শয্যা, আছে চিকিত্সার আধুনিক যন্ত্রপাতি। হাসপাতালটির ৬ শয্যার আইসিইউ (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) বিভাগ রূপান্তরিত হয়েছে ১০ শয্যায়। এ বিভাগে কেবল বারডেম হাসপাতালের নয়, অন্য হাসপাতাল থেকে স্থানান্তরিত হয়ে আসা রোগীদের চিকিত্সা সেবা হয়। তবু এ হাসপাতালে সেবার মান আগের চেয়ে কমেছে বলে কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন।

বাড়তি রোগীদের চাপের কারণে অনেক ক্ষেত্রে চিকিত্সাসেবার মান আগের তুলনায় কমেছে। ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহিমের স্বপ্ন ছিল, কোনো ডায়াবেটিক রোগী গরিব হলেও যেন চিকিত্সাহীন না থাকেন। বাড়তি রোগীর চাপের কারণে তার এ স্বপ্ন সব ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গরিব অনেক রোগীই চিকিত্সাসেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। তবে গরিব রোগীদের এখনও কম খরচে এ হাসপাতাল থেকে চিকিত্সাসেবা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালের নিচতলায় বহির্বিভাগে আছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত ‘চিকিত্সা সমাজসেবা কার্যক্রম’। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে গরিব রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধসহ চিকিত্সার জন্য প্রয়োজনীয় অন্য জিনিস বিনামূল্যে দেয়া হয়। ওই মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদফতর এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সরকারি হাসপাতালে ডায়াবেটিক রোগীদের তুলনায় পর্যাপ্ত চিকিত্সা ব্যবস্থা না থাকা, সেসব হাসপাতালের চিকিত্সকদের রোগীর প্রতি অবহেলাসহ নানা কারণ মিলিয়ে বারডেমে রোগীর চাপ বাড়ছে বলে জানা যায়।

এ হাসপাতালজুড়ে রোগী দুর্ভোগের বেশকিছু দিক বিদ্যমান। রোগীদের অভিযোগ, চিকিত্সকের দেখা পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট যথাসময়ে পাওয়া যায় না। তাতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অন্যদিকে রোগীর চাপ বাড়তে থাকায় হাসপাতালের পরিবেশ সব সময় পরিষ্কার রাখা সম্ভব হচ্ছে না। বহির্বিভাগ থেকে রোগী ওয়ার্ডের নানা জায়গায় আবর্জনা পড়ে থাকে প্রায় সব সময়। সরেজমিন গেলে দেখা যায়, বহির্বিভাগের রেডিওলজি ও ইমেজিং কাউন্টারের (রুম নম্বর ১৬০) সামনে কিছু রোগী দুর্গন্ধের কারণে নাকে রুমাল চেপে বসে আছেন। সেখানে ছড়াচ্ছে উত্কট দুর্গন্ধ। নেফ্রোলজি বিভাগের সামনেও নাকে রুমাল চেপে কয়েকজনের বসে থাকার দৃশ্য দেখা যায়।
এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে মেডিসিন, সার্জারি, ইএনটি, গাইনি, চক্ষু, গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি, শিশু, কিডনি, এন্ডোক্রাইনোলজি ইত্যাদি রোগের চিকিত্সাসেবা দেয়া হয়। তবে হাসপাতালটিতে প্রতিদিন রোগী ভর্তি নির্ভর করে শয্যা খালি হওয়ার ওপর। শয্যা খালি হলেই কেবল রোগী ভর্তি করা হয়।