আধুনিক উপকরণে সেজেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জিমনেসিয়াম হাসপাতালের ওষুধ ক্রয় প্রক্রিয়ায় শুরু হচ্ছে ওপেন টেন্ডারে কর্মসংস্থান সৃ্ষ্টিতে বেকার নার্সদের কাছেও অফার লেটার যাচ্ছে সচেতনতা বাড়িয়েছে ক্লিন ঢাকা সপ্তাহ প্রয়োজন সর্বস্তরের উদ্দ্যোগ বিধ্বস্ত হাইতিতে মৃতের সংখ্যা ২ লক্ষ গণকবরে ৪০ হাজার মানুষ

কিডনীর পাথর ও চিকিৎসা

অধ্যাপক(ডা:)জামানুল ইসলাম ভুইঁয়া
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
ইউরোলজী বিভাগ
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনী ডিজিজেস এন্ড ইউরো্লজী
শেরেবাংলা নগর,ঢাকা

ভুমিকা :কিডনী,মুত্রনালী, মুত্রথলিতে পাথরের ইতিহাস অতি প্রাচীন।আর্কিউলজিস্টগন ইজিপসিয়ান মমিতে কিডনীর পাথরের অস্তিত্ব পান যা ৭০০ বছরের পুরোনো।প্রাচীনকাল হতে আজ পর্যন্ত পাথরের চিকিসার অভুতপুর্ব উন্নতি সাধিত হয়েছে। মানুষের বিপাকীয় কার্যক্রম গভীরভাবে গবেষণা ও এর সাথে কিডনীর পাথরের যোগসুত্র থাকায় বর্তমানে বিভিন্ন ধাপে কিডনীর চিকিৎসা সম্ভব।পুর্বে কিডনী ও মুত্রনালীর পাথর ওপেন সার্জারীর মাধ্যমে হলেও বর্তমানে অধিকাংশ পাথর মিনিমাল ইনভেসিভ সার্জারী ESWL,PCNL,URS,ICPL ইত্যাদির মাধ্যমে সম্ভব।

 

শিল্পোন্নত দেশে পরিনত বয়সে এ হার ১-৫%।
বেশী হয় ৩০-৪০ বছর বয়সে ।
পুরুষ মহিলাদের তুলনায় ৩ গুন বেশী।
প্রসাবের সাথে জীবনকালে একবার পাথর গেলে প্রতি ৩ বছরে ১৫% ও ১৫ বছরে ৩০%পুনরায় হতে পারে।

 

কেন হয়?
মুত্রের সুপার সেচুরেশন হলে।
পানি শুন্যতা,দীর্ঘদিন শয্যাশায়িত অবস্থা
প্রশ্রাবে ক্যালসিয়াম অক্সলেট এবং ইউরিক এসিডের পরিমান বেড়ে গেলে।
প্রশ্রাবে সাইট্রেট,ম্যাগনেসিয়াম এবং পাইরোফসসেটের পরিমান কম হলে।

মুত্রে বিদ্যমান কিছু রাসায়ানিক পদার্থের সমন্বয়ে ক্রিস্টাল গঠিত হয়।ইউরিক এসিড ক্রিস্টাল দ্বারাও কিডনী পাথর গঠিত হতে পারে। পাথরের আকার শষ্য দানা থেকে সুপারির সমান হতে পারে।

কিডনীতে পাথর হবার ক্ষেত্রে নিম্নের নিয়মগুলো কাজ করে-

কম পানীয় গ্রহন
বার বার মুত্রনালী প্রদাহ
দীর্ঘসময় কর্মক্ষম না থাকা
ক্যালসিয়াম,ইউরিকএসিড ভিটামিন-ডি অতিরিক্ত গ্রহন
কোন কোন ঔষধ সেবন
কিছু মেটাবলিক রোগ।

 

পাথর কোথায় হয়?

কিডনী
মুত্রনালী
মুত্রথলী
প্রোসটেট গ্লান্ড

উপসর্গ:
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোমরের উপেরর মেরুদন্ডের যে কোন একপাশে,পাজরের নীচে তীব্র
ব্যথা অনেক ক্ষেত্রে নীচে নেমে কুচকির দিকে যেতে পারে।

তীব্র ব্যথা ও সাথে বমি বা বমি বমি ভাব।
কিছু ক্ষেত্রে প্রাশ্রাবের সাথে রক্ত যেতে পারে ।
প্রসাবে জ্বালা পোড়া, বার বার প্রশ্রাবের বেগ।
জ্বর, ঠান্ডা অনুভব করা দুর্বলতা।

 

কিভাবে কিডনীর পাথর নির্ণয় করা হয়:
এক্স -রে ২।আল্ট্রাসাউট, ৩।রক্ত, ৪।প্রসাব পরীক্ষা ৫।এক্সিয়াল/স্পাইরাল সিটি স্কান

চিকিৎসা পদ্ধতি:

পাথর জনিত কারনে উপশম।
পাথর সম্পুর্ণভাবে অপসারন।


পুনরায় পাথর না হওয়ার জন্য উপদেশ।

মুত্রনালীতে বা কিডনীর পেলাভিসে পাথর আটকে প্রচন্ড ব্যথা হতে পারে।ব্যথানাশক ঔষধ, যেমন কিটোরোলাক, শিরাপথে মরফিন সালফেট, এন্টিমেটিক মেটাপ্লোর প্রামাইড,মাসল রিলাকজেন্ট,নিপিডিপিন,ট্যামসুলেসিন ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।

মুলত পাথরের আকার ও অবস্থার উপর চিকিৎসা কৌশল নির্ভর করে।কিডনী,মুত্রথলী ও মুত্রনালীর পাথর অপসারনে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রচলিত অপারশন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় না। এখন ছোট একটি ছিদ্রের মাধ্যমেই এ চিকিৎসা সম্ভব।

পাথরের অপসারনের পদ্ধতি সমুহ:
ESWL(Extra Corporeal Shockwave Lthotripsy) এ পদ্ধতিতে কিডনী ও Utter থেকে খুব ছোট পাথর (<২ সে.মি.)বিনা অপারেশনে অপারেশন করা হয়।শক্তিশালী শকওয়েড(Shockwave) শরীরের বাইরে থেকে মেশিনের সাহায্যে সুনির্দিষ্টভাবে পাথরের ওপর ফেলা হয়।ফলে পাথর ছোট ছোট টুকরায় পরিনত হয় এবং পরবর্তীতে টুকরাগুলো প্রসাবের সাথে বের হয়ে যায়।কোন কোন ক্ষেত্রে পাথর ভাঙ্গার পুর্বে কিডনী থেকে মুত্রনালী পর্যন্ত একটি নল স্থাপন Stenting  করার প্রয়োজন হয়।

x-ray অথবা Ultrasound এর মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে পাথর চিহ্নিত করার এবং প্রয়োজনীয় Shockwave নির্দিষ্টকরন  এই পদ্ধতির জন্য গুরুত্বপুর্ণ।ESWLকরার পর রোগীকে Observation এ রাখা হয়। এ সময় প্রশ্রাবের রং সামান্য লাল ও প্রসাবে সামান্য জ্বালা ও ব্যথা হতে পারে।

PCNL(Percutaneous Nepholithotomy)

পাথরের আকার এবং অবস্থানের কারণে যখন ESWL পদ্ধতি প্রয়োগ করা সম্ভব হয় না।  তখন PCNL পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।  এই পদ্ধতিতে ছোট একটি ছিদ্র করে কিডনী বরাবর একটি সরুপথ তৈরি করা হয়। এই পথে Nephroscope এর মাধ্যমে কিডনীর অবস্থান জেনে শরীর থেকে বের করা ফেলা হয় এবং Nephrostomy Tube কিডনীতে রেখে শুশ্রুষা চলতে থাকে।এ ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে অল্প কয়েকদিন অবস্থান করতে হয়।

URS and ICPL (ইউটেরসপিক পদ্ধতিতে পাথর দুরীকরন:
মুত্রনলী নীচের দিকে অবস্থিত পাথর অপসারনে জন্য UPRS and ICPL  পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।সার্জন এই পদ্ধতিতে একটি ছোট ফাইবার অপটিক যন্ত্র Ureterescope মুত্রপথ দিয়ে মুত্রথলি হয়ে মুত্রনালীতে প্রবেশ করিয়ে পাথর গুড়ো করে বের করে।এ জন্য রোগীকে একদিন হাসপতালে অবস্থান করতে হয়।

Lithotrites এ যন্ত্রের মাধ্যমে মুত্রথলির পাথর সরাসরি দেখার মাধ্যমে মেকানিক্যালি চুর্ণ করা হয় এবং চুর্ণকৃত পাথর পরে মুত্রপথ দিয়ে বের হয়ে আসে।

Laparoscopic Technique কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুত্রনালীর বড় পাথর এর ক্ষেত্র বিশেষে কিডনীর পাথর Laparscopic পদ্ধতিতে কয়েকটি ছোট ছিদ্র করে ছিদ্র পথেই তা বের করে আনা হয়।

এ পদ্ধতির সুবিধাসমুহ:
রোগীকে হাসপাতালে ২/১ দিন অবস্থান করতে হবে।
কোন ধরনের কাটা/ছেড়ার প্রয়োজন নাই।
পোষ্ট অপারেটিভ জটিলতা খুবই সামান্য।
খুব তাড়াতাড়ি কাজে ফিরতে পারে।
অর্থ ও সময় দুটোই সাশ্রয় হয়।

যেহেতু কিডনী পাথর একটি জটিল মাল্টিফ্যাক্টোরিয়াল রোগ, সুতরাং পাথর অপাসারন করলেই পাথর হবে না এমন নিশ্চয়তা নাই ।পাথর অপসারনের পর সাধারণত কিছু সাধারন এবং কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়মনীতি মেনে চলতে বলা হয।

প্রতিদিন ৩/৪ লিটার পানি পান করা
ক্যালসিয়াম ও অক্সারেট সমৃদ্ধ খাবার কম খাওয়া
পাথরের Chimecal Anlysis করে নির্দিষ্ট প্রকৃতির পাথরের জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহন করা।যেমন-Renal Hypercalciuria হলে Thiazide diureics.
Uric Acid পাথর হলে-পর্যাপ্ত পানি, Urine Alkalinization,Allopurinol জাতীয়ি ঔষধ।
Strvite Stone হলে Urease Inhabitior,Acctohychroxamic Acid ব্যবহার করতে হবে Urine PH কমানোর জন্য।