৬ এপ্রিল (আমার হেলথ): আমাদের সমাজে একটি প্রচলিত ধারণা, বাচ্চা বেশি মোটাসোটা হলেই ভালো। কিন্তু ধারণাটা ভুল। বেশি মোটাসোটা বাচ্চা পরবর্তী জীবনে স্থূলকায় বা অতিরিক্ত ওজনদার হয়ে স্বাস্থ্যগত সমস্যায় ভুগতে পারে বলে মত দিচ্ছেন চিকিত্সকরা। তাদের মতে, শিশুর স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য গর্ভবতী মায়েদের হালকা ব্যায়াম করা উচিত। গর্ভকালীন এ ব্যায়াম শিশুর স্বাস্থ্যরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গর্ভবতী মায়ের শরীরচর্চার ফলে গর্ভের শিশুরও স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় যেসব নারী হালকা ব্যায়াম করেন, তাদের বাচ্চারা সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়। যেসব স্থূলকায় বা অতিরিক্ত ওজনদার মহিলার বাচ্চা হয়, তারা সাধারণত মায়ের মতো অস্বাভাবিক মোটাসোটা হয়। বাচ্চাদের দৈর্ঘ্যের অনুপাতে বেশি মোটা ওজনদার হওয়া বিপজ্জনক। এ ধরনের বাচ্চারা পরবর্তীকালে নানা ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যায় ভোগে। নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন এরিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় এ তথ্য জানা গেছে। গবেষণার সময় প্রথম মা হচ্ছেন এ ধরনের ৮৪ গর্ভবতী নারীকে বেছে নেয়া হয়। তাদের অর্ধেককে সপ্তাহ পাঁচদিন ৪০ মিনিট ধরে গর্ভের কমপক্ষে ৩৬ সপ্তাহ পর্যন্ত ইন্ডোর সাইকেল চালিয়ে হালকা ব্যায়াম করতে দেয়া হয়। শেষে সবার বাচ্চা হওয়ার পর দেখা যায়, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেছেন, তাদের বাচ্চার ওজন অনুপাতে দৈর্ঘ্য ঠিকই আছে এবং অন্যদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত কম ওজনের বা হালকা-পাতলা হয়েছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে, ব্যায়ামের কারণে ভ্রূণ অবস্থায় মাতৃগর্ভে বাচ্চাদের যে স্বাভাবিক হরমোনের প্রয়োজন হয়, তার নিঃসরণেও কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। তাই হালকা-পাতলা স্বাভাবিক বাচ্চারাই আদর্শ বলে চিকিত্সকরা মত দিচ্ছেন। ব্রিটেনসহ উন্নত দেশগুলোর চিকিত্সকরা সব গর্ভবতী নারীদের হাটাচলা ও হালকা ব্যায়াম করার এবং গর্ভাবস্থায় অতিরক্তি চর্বিদার খাবার না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। (এএফপি অবলম্বনে)
|