
আমারহেলথ (১৫ ডিসেম্বর, বুধবার): স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেছেন, পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে প্রায় ৪১ শতাংশের ওজন তাদের বয়সের তুলনায় কম এবং প্রায় ৪৩ শতাংশ শিশুর উচ্চতা কম।
তিনি বলেন, ১৭ শতাংশ শিশুর ওজন তাদের উচ্চতার তুলনায় কম। শিশুদের অপুষ্টি থেকে মুক্ত করার দায়িত্ব আমাদের সবার।
নবজাতক ও দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের অপুষ্টির হার কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ১৫ ডিসেম্বর রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক প্রচারণামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ইনফ্যান্ট এণ্ড ইয়াং চাইল্ড ফিডিং কার্যক্রমের অধীনে 'সঠিক পুষ্টি সুস্থ শিশু' শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "অপুষ্টি জনিত কারণে শিশুর ওজন কম হয় এবং এর ফলে মেধা ও বুদ্ধির বিকাশও ব্যাহত হয়।"
তিনি বলেন, "দেশে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বয়সের তুলনায় প্রায় ৪১ শতাংশ শিশুর ওজন কম এবং প্রায় ৪৩ শতাংশ শিশুর উচ্চতা কম। আর ১৭ শতাংশ শিশুর ওজন তাদের উচ্চতার তুলনায় কম।"
নবজাতক ও দুই বছরের কম বয়সের শিশুদের শারীরিক বিকাশের সাথে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, "অপুষ্টির ফলে আমাদের শিশুরা শিক্ষা লাভের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ছে।"
শিশুর অপুষ্টিতে ভোগার কারণ তুলে ধরে তিনি বলেন, "মায়ের অপুষ্টির জন্য শিশু অপুষ্ট হয়ে জম্মগ্রহণ করে।"
"এছাড়া খাদ্য সরবরাহের স্বল্পতা, সঠিক তথ্য সম্পর্কে অজ্ঞতা, শিশুকে ভুল পদ্ধতিতে খাবার খাওয়ানো এবং শিশুর ঘন ঘন অসুস্থতা ইত্যাদি কারণেও শিশুরা অপুষ্টিতে ভোগে।'
তিনি বলেন, "শিশুদের অপুষ্টি থেকে মুক্ত করার দায়িত্ব আমাদের সবার। অপুষ্টি দূর করতে পিতামাতা বা অভিভাবকদের কাছে এ সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।"
অপুষ্টি দূর করার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও সহযোগিতা চান স্বাস্থ্য মন্ত্রী।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফাতেমা পারভিন চৌধুরী বলেন, "নবজাতক ও দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের সঠিক পদ্ধতিতে মায়ের বুকের দুধ এবং স্বাভাবিক খাদ্য খাওয়ানোর গুরুত্ব সম্পর্কে অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশব্যাপী এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।"
তিনি বলেন, "জন্ম থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত শিশুর দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে শিশুকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়াতে পারলেই তবে শিশুর ভবিষ্যত বিকাশ ও উন্নতি সম্ভব হবে।"
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম আমির হোসেন, ইউনিসেফ এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যারল ডি রয়। |