স্বাধীনতা আর্জনের ২৩ বছর আতিক্রান্ত হইবার পরও স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস বিকৃত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিষ্প্রভ এবং মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি ক্ষমতা ও ক্ষমতার বাহিরে পুর্নবাসিত। এই অবস্থায় মহান মুক্তিযুদ্ধে পেশাজীবিদের মধ্যে সর্বোচ্চ আত্বদানকারী চিকিৎসক সমাজ বসিয়া থাকিতে পারে না। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহবানে সাড়া দিয়ে বাঙ্গালী জাতি যে স্বাধীনতা ছিনাইয়া আনিয়াছিল তাহাকে সুসংহত করিতে এবং জনস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ সহ চিকিৎসকদের স্বার্থ সংরক্ষনের লক্ষ্যে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের চিকিৎসকবৃন্দ স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ গঠন করে। স্বাধীনতা উত্তর বঙ্গবন্ধু সরকার জনগনের মৌলিক অধিকার চিকিৎসাকে সুনিশ্চিত এবং সহজলভ্য করিবার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে চিকিৎসকদেরকে প্রথম শ্রনীতে উন্নতীকরণ, ইনসার্ভিস ট্রেইনী প্রথা প্রবর্তন করণ থানা স্বাস্থ্য প্রকল্প গঠন এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন সহ আন্যান্য প্রকল্প গ্রহনের মাধ্যমে যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করিয়াছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকান্ডের পরে স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা উন্নয়নের সে গতি ধারা ব্যহত হয় এবং চিকিৎসা পেশার মান ও মর্যাদা ক্ষুন্ন হয়। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের চিকিৎসকদের ২৪ ডিসেম্বর ১৯৯৩ ইং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এক সম্মেলনের মাধ্যমে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের এডহক কমিটি গঠন করে।
এক নজরে স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ
সংগঠনের নাম: স্বাধীনতা চিকিৎসা পরিষদ
ডাক নাম: স্বাচিপ
পতিষ্ঠা: ২৩ ডিসেম্বর ১৯৯৩
প্রতীক: জাতীয় স্মৃতি সৌধকে পিছনে রেখে সম্মুখে লাঠি জরানো সাপ
সভাপতি: ডা: আ.ফ.ম. রুহুল হক
মহাসচিব: এম. ইকবাল আর্সলান
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:
-
ইহা একটি পেশা ভিত্তিক অলাভজনক সংগঠন।
-
স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত করার লক্ষ্যে চিকিৎসকদেরকে এবং জনগনকে উদ্বুদ্ধ করা।
-
স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস সর্বসমক্ষে তুলে ধরতে সহায়তা করা।
-
চিকিৎসা বিজ্ঞান ও ইহার সহযোগী বিজ্ঞান সমূহের উৱকর্ষ সাধনে করা।
-
চিকিৎসা পেশার সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা এবং সদস্যদের স্বার্থ অধিকার ও সুযোগ সুবিধা রক্ষা করা এবং জাতীয় ও ব্যক্তি জীবনে পেশাগত নৈতিক সামাজিক ও পেশাগত কারনে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনে সদস্যবৃন্দকে উদ্বুদ্ধ করা।
-
সবার জন্য স্বাস্থ্য সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, স্বাস্থ্য শিক্ষা প্রচারনা, স্বাস্থ্য সাময়িকী প্রকাশনা, চিকিৎসা স্বাস্থ্য সেবা শিক্ষা ও তৱসংক্রান্ত গবেষণার লক্ষ্যে পদক্ষেপ গ্রহন করা।
-
জনগনের চিকিৱসার স্বার্থে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান এবং জরুরী অবস্থায় মেডিক্যাল টিম গঠনে সহায়তা করা।
-
চিকিৎসাপেশার ব্যক্তিবর্গ বিশেষ করে নতুন যারা এই পেশায় প্রবেশ করিয়াছেন তাদের পেশার উন্নয়নে সাহয্য প্রদান করা।
নির্বাচন পদ্ধতি:
কমিটির মেয়াদকাল ২ পঞ্জিকাবর্ষ হইবে এবং কর্যভার সম্পন্ন হইতে হইবে। যদি কোন কারনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন না হয় তবে পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সাধারন পরিষদ কতৃক অন্তবর্তীকালীন এডহক কমিটি গঠিত হইবে যাহরা নির্বাচন পরিচালনা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে। |