বাংলাদেশের সংবিধানে স্বাস্থ্যনীতি:
জনগনের পুষ্টির স্তর উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্যের উন্নতি সাধনকে প্রাথমিক কর্তব্য বলিয়া গন্য করিবেন এবং বিশেষত আরোগ্যের প্রয়োজন কিংবা আইনের দ্বারা নির্দিষ্ট অন্যবিধ প্রয়োজন ব্যতিত মদ্য ও অন্যান্য মাদক পানীয় এবং স্বাস্থ্য হানিকর ভেষজের ব্যবহার নিষিদ্ধ করনের জন্য রাষ্ট্র কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করিবেন।
২০০৯-২০১০ সালের বাজেট স্বাস্থ্যনীতি:
১.কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীন জনগনের স্বাস্থ্যসেবা:
সকলের জন্য মান সম্পন্ন স্বাস্থ্যসেবা আমাদের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি । সময়ের চাহিদাকে সামনে রেখে আমরা স্বাস্থ্যনীতি নবায়নের কাজ শুরূ করেছি । বিগত জোট সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থা ধংস করে দিয়েছে । কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে । ৬হাজার গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জন্য একটি হিসাবে মোট ১৩ হাজার ৫০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে । এসব ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা , মা ও শিশু স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা সেবা ইত্যাদি প্রধানের পাশাপাশি পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা , সেনিটেশন , সুষম খাদ্যাভাস , ডায়রিয়া প্রতিরোধ , পুষ্টি ও যৌন বাহিত বিষয়ে প্রচারনা ও সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে ।
২.মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার কর্মসূচিকে সম্প্রসারিত করা :
মাতৃমৃত্যু রোধসহ মাতৃস্বাস্থ্যউন্নয়নে দরিদ্র ও নি:স্ব গর্ভবতী মহিলাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার কর্মসূচিকে আরো ৪৫টি উপজেলায় সম্প্রসারিত করা হবে। সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে শিশুমৃত্যুর হার হাজারে ৫২ থেকে ১৫তে এবং মাতৃমৃত্যুর হার ২.৯ শতাংশ থেকে ১.৫ শতাংশে কমিয়ে আনা । ২০২১ সালের মধ্যে গড় আয়ু ৭০ এর কোঠায় উন্নীত করা ।
৩.জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন এবং প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা :
জনসংখ্যা আমাদের এক ভয়াবহ সমস্যা । এর সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে জনসংখ্যানীতি যুগোপযোগী করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে । পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের বর্তমান দূর্বলতা হচ্ছে পর্যাপ্ত কর্মীর অভাব এবং জনগনের চাহিদা মেটাতে সরকারের ব্যর্থতা । এই দুটি দুর্বলতা মোকাবেলা করার জন্য জরূরি ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে । সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে প্রজনন নিয়ন্ত্রন ব্যবহার ৮০শতাংশে উন্নীত করা এবং পদক্ষেপ হিসাবে এ সংক্রান্ত প্রজনন সামগ্রী ক্রয়ের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচীর জন্য উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন মিলিয়ে ৪৯৮কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা ।
৪.সকল নাগরিকের পুষ্টি চাহিদা পূরন নিশ্চিত করা:
২০২১ সালের মধ্যে দেশের ৮৫ শতাংশ নাগরিকের মান সম্পন্ন পুষ্টি চাহিদা পূরন নিশ্চিত করতে হবে । অপুষ্টি সমস্যা সমাধানে আগামী অর্থবছরে জাতীয় পুষ্টি কার্যক্রম কর্মসূচীকে ১২৩টি উপজেলায় সম্প্রসারিত করা হবে । পর্যায়ক্রমে সকল উপজেলাকে এর আওতায় আনা হবে ।
৫. স্বাস্থ্য অবকাঠামো সম্প্রসারন করা:
হাসপাতাল ভিত্তিক অধিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সকল উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ এবং সকল জেলা হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে । আগামী বছরই ৫টি নতুন মেডিকেল কলেজ ৬টি ইন্সটিটিউট অফ হেলথ টেকনোলজি নির্মিত হবে । ৬টি নার্সিং ইন্সটিটিউটকে নার্সিং কলেজে উন্নীত করা হবে । নতুন ১২টি নার্সিং ইন্সটিটিউট স্থাপনের কাজ হাত দেওয়া হবে । সৃষ্ট সম্পদের সদ্ব্যবহারের জন্য এবং সেবা প্রদানের মনোন্নয়নের লক্ষ্যে বহু পুরানো জরাজীর্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল গুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন হবে একটি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত স্বয়ংসম্পূর্ন কার্যক্রম। ২০২১সালের মধ্যে সকল প্রকার সংক্রামক ব্যাধি নির্মূলের লক্ষ্যে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রন ও গভেষনায় চট্রগ্রামে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট’ ইন্সটিটিউট অফ ট্রপিকেল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস স্থাপন করা হবে ।
৬.ওষুধ শিল্প বিকাশে ওষুধনীতি ২০০৫ কে যুগোপযোগী করা:
মান সম্পন্ন ওষুধ উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জন সহ রপতানি আয়ের সেক্টর পরিণত করা হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় ওষুধনীতি ২০০৫ কে যুগোপযোগী করা হবে । ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তরের আধুনিকায়ন করা হবে ।
৭. প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও সহযোগী সেবায় দক্ষতা বাড়ানো:
রোগী কল্যাণ তহবিল নীতিমালা , ডিজিটাল পাস কার্ড পদ্ধতি পরিচালনা, ইউজার ফি আহরন ও বন্টন এবং ইউজার নির্ধারন বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতি মালা প্রণয়নের উদ্যোগ ও গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি প্যারামেডিক , নার্সিং এবং মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষনের জন্য সরকারি বেসরকারি উদ্যোগ নেওয়া হবে ।দাম কমতে পারে--ওষুধ তৈরির কারখানায় ব্যবহৃত ডিওপি, গ্রামীণ ক্ষুদ্রশিল্প, কৃষিখাত ও পোল্ট্রিশিল্পে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি, ক্যান্সার নিরোধক ওষুধ ইত্যাদি। |