দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যলস আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার

প্রথম আলোর গোলটেবিল বৈঠক
পক্ষাঘাতগ্রস্তদের সুস্থ করতে প্রয়োজন সঠিক সময়ে চিকিসা

আমার হেলথ(১৫ জুলাই, বৃহসপতিবার): চিকিৎসায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়, মানুষ স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে পারে। এ জন্য একজন রোগীকে স্নায়ু ও অস্থি বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হতে হয়, বিভিন্ন রকম চিকিৎসা (থেরাপি) নিতে হয়। সব বিষয়ের সমন্বয়ের ওপর একজন রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠা নির্ভর করে। কিন্তু বাংলাদেশের হাসপাতালগুলোয় পক্ষাঘাতগ্রস্তদের চিকিৎসার সুযোগ সীমিত। ফলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের সেরে ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছে।১৪ জুলাই, বুধবার প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘পক্ষাঘাত ও পুনর্বাসন: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্রের (সিআরপি) প্রতিষ্ঠাতা ও সমন্বয়ক ভ্যালরি এ টেইলর বলেন, এখনই হয়তো পক্ষাঘাতগ্রস্তদের জন্য ব্যাপক ভিত্তিতে চিকিৎসার আয়োজন করা সম্ভব নয়। তবে রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য সব হাসপাতালে অন্তত পাঁচ শয্যার উপকেন্দ্র চালু করা প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসন দুই দিকেই নজর দিতে হবে। দেশে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর সংখ্যা কত, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই। কিন্তু প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের অনেকেই চিকিৎসার জন্য তাঁর প্রতিষ্ঠানে আসে।
তিন দশকের বেশি সময় ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত মানুষের সেবা করছেন ভ্যালরি টেইলর। তিনি বলেন, প্রধানত দুটি কারণে পক্ষাঘাত হতে পারে—স্ট্রোক ও আঘাত বা দুর্ঘটনাজনিত কারণে মেরুদণ্ডের প্রদাহ। উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে এবং পুষ্টিকর ও পরিমিত খাদ্য গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তুলে স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়ানো যায়। এ ছাড়া প্রচণ্ড মানসিক চাপ থেকে যে স্ট্রোক হয়, তা এড়াতে যোগব্যায়াম করা যেতে পারে।
 
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরোমেডিসিন বিভাগের প্রধান এ কে এম আনোয়ারউল্লাহ বলেন, তাৎক্ষণিক চিকিৎসা কোথায় পাওয়া যাবে, সে ব্যাপারেও মানুষকে সচেতন করা দরকার। তিনি বলেন, প্রায়ই স্ট্রোক হলে রোগীকে হূদরোগের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। ফলে রোগী তাৎক্ষণিক সেবা থেকে বঞ্চিত হয়।

 জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) পরিচালক আবদুল আউয়াল জানান, পঙ্গু হাসপাতাল, সিআরপি, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়—এই তিনটি প্রতিষ্ঠানে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের জন্য মোট শয্যা আছে ১৫০টির মতো। দেশে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীর সংখ্যা ১৫ লাখের কম নয়।
সিআরপির ফিজিওথেরাপি বিভাগের প্রধান সোহরাব হোসেন বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শহীদুর রহমান বলেন, এ অসুবিধা মোকাবিলায় দেশের সব কটি মেডিকেল কলেজে ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ খুলতে হবে। এর আওতায় রোগীকে স্বাভাবিক কাজকর্ম করার ক্ষেত্রে সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় অকুপেশনাল থেরাপি, কথা বলায় সহযোগিতা করার জন্য স্পিচ অ্যান্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি ইত্যাদি বিষয় পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে সিআরপির অকুপেশনাল থেরাপি বিভাগের প্রধান মাহফুজুর রহমান বলেন, পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীরা যেন নিজেরা চলাফেরা করতে পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম বাড়ানো দরকার। তিনি আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন থেরাপি দেওয়ার জন্য দক্ষ জনবল ছিল না। কিন্তু এখন সিআরপি থেকেই চার বছরের কোর্স শেষে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী বের হচ্ছেন। এঁদের দিয়ে শূন্য জায়গা পূরণ করা প্রয়োজন।
বক্তাদের প্রত্যেকে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাঁরা বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে সড়ক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে বাংলাদেশে কেন হবে না। তাঁরা আরও বলেন, গুরুত্ব দিয়ে এ সমস্যা সমাধান করার দিকে সরকারের নজর দেওয়া প্রয়োজন। গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন সিআরপির নির্বাহী পরিচালক এমদাদ মোসলেম, স্পিচ এন্ড ল্যাংগুয়েজ থেরাপি বিভাগের প্রধান জাহাঙ্গীর আলম, বিএইপিআইয়ের প্রধান এম এ কাদের। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম ও নিপসমের রোগতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ইকবাল কবীর।