দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যলস আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনে আমার ডাক্তার

হৃদরোগ চিকিৎসায় বাংলাদেশ পিছিয়ে, চিকিৎসা ব্যায়ও বেশি: স্পিকার

ফয়সাল আকবর:
জাতীয় সংসদের স্পিকার এড. আব্দুল হামিদ বলেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মানুষ হূদরোগে বেশি আক্রান্ত হয়। দেশে হূদরোগে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে এবং হৃদরোগ চিকিৎসা  সেবায় বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে আছে। এছাড়া দেশে হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয় এখনো অনেক বেশি। আর হৃদরোগ চিকিৎসার অধিকাংশ সুযোগ ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকা কেন্দ্রিক। বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়েও হৃদরোগের চিকিৎসা সহজলভ্য করার উদ্যোগ নিতে হবে। ০৩ এপ্রিল সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সার্ক কংগ্রেস অব কার্ডিওলজি-২০১০ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি ও সার্ক কার্ডিয়াক সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনদ্বয়ের সভাপতি অধ্যাপক এম আমানুল্লাহ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক।

সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা বলেন, দেশের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক লোক উচ্চরক্তচাপে ভুগছে। ১০ শতাংশ রোগী বিভিন্ন ধরনের হূদরোগে ভুগছে। তবে হাসপাতালের স্বল্পতা, চিকিৎসকের সংকট এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় মাত্র ১০ শতাংশ রোগীকে বর্তমানে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী হৃদরোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। তিনি এ সেক্টরের উন্নতির জন্য সর্বাত্মক চেষ্টার আশ্বাস দেন। তিনি আরো বলেন, সারা দেশের হাসপাতালগুলোতে এখনো পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে। এ কারণে জেলা পর্যায়ে হূদরোগের চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে জেলা হাসপাতালগুলোতে হূদরোগের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য আমরা কাজ করছি।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মাহমুদ হাসান বলেন, বর্তমানে দেশে দেড় হাজার শিক্ষকের পদ খালি রয়েছে। শিক্ষাদান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া উচিত।

বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি ও সার্ক কার্ডিয়াক সোসাইটির মহাসচিব খাজা নাজিরউদ্দিন বলেন, হাসপাতালের স্বল্পতা এবং চিকিৎসক, সেবিকা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় হূদরোগে আক্রান্ত মানুষের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটি ও সার্ক কার্ডিয়াক সোসাইটির সভাপতি এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিএমএর মহাসচিব শারফুদ্দিন আহমেদ, বাংলাদেশ কার্ডিয়াক সোসাইটির সহসভাপতি আবু হোসেন খান প্রমুখ। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, সিঙ্গাপুর, আমেরিকা, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স থেকে আসা কার্ডিওলজিস্ট ও কার্ডিয়াক সার্জনরা কংগ্রেসে উপস্থিত ছিলেন।