নাজিবুল্লাহ (১২ আগস্ট, বৃহস্পতিবার): শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সরকার কাজ শুরু করবে। এ ছাড়া নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে যেসব সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে, তা বন্ধ করতে পাঠ্যসূচি সমৃদ্ধ করা হবে।
১১ আগস্ট, বুধবার ‘মানসিক স্বাস্থ্য ও সমাজ: পেশাদার কাউন্সেলরের প্রয়োজনীয়তা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠান আইন ও সালিশ কেন্দ্র এ সেমিনারের আয়োজন করে।
সেমিনারে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, ব্যস্ত জীবনের সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে মানুষ একা হয়ে পড়েছে। তাল মেলাতে না পেরে অনেকেই ঠিক পথ বেছে নিতে পারছে না। মনের সুখ বা দুঃখ ঠিকভাবে প্রকাশ করতে না পারায় বাড়ছে বিষণ্নতা। এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে ব্যক্তি ও সমাজের ওপর। দিন দিন বাড়তে থাকা এ মানসিক সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায় থেকে সঠিক পরামর্শ প্রয়োজন।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের আশা কাউন্সেলিং অ্যান্ড ট্রেনিং সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে সারু।
পি কে সারু বলেন, যৌথ পরিবার ভেঙে হচ্ছে একক পরিবার। সংস্কৃতি হচ্ছে সংস্কৃতির মিশ্রণ। তিনি বলেন, এসব কারণে বাড়ছে মানসিক চাপ। সমাজে কী প্রভাব পড়বে, তা চিন্তা না করেই ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি বা সংঘর্ষের মতো বিষয়কে বেশি প্রচার করা হচ্ছে। এর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে শিশুদের ওপর।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রথম আলোর উপসম্পাদক আনিসুল হক বলেন, ‘প্রযুক্তি খুব দ্রুত আমাদের হাতের কাছে আসছে, কিন্তু মানুষের আচরণে মনে হচ্ছে, আমরা সামন্ততান্ত্রিক সমাজেই বসবাস করছি। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একই বিভাগে পড়াশোনা করেও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা হিংস্র হয়ে উঠছে। |