
আমারহেলথ (০৩ মার্চ,বৃহস্পতিবার): মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে প্রভাবিত করে এমন রাসায়নিক এফিড্রিন ও সিউডোএফিড্রিনের অবৈধ উৎপাদনে দরকারি রাসায়নিক পদার্থের অন্যতম উৎস ভারত। জাতিসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ এজেন্সি বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
আন্তর্জাতিক মাদক নিয়ন্ত্রণ পরিষদ (আইএনসিবি) ভিয়েনা প্রধান কার্যালয়ে প্রকাশিত ২০১০ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, মাদক পাচারকারীরা এফিড্রিন ও সিউডোএফিড্রিন উৎপাদনের জন্য যেসব অঞ্চল থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করে তার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অন্যতম। আইএনসিবির ১৭ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে ভারতকে প্রত্যক্ষভাবে অভিযুক্ত করে বলা হয়েছে, ভারত সাইকোট্রফিক (স্নায়ুতন্ত্রের ওপর ক্রিয়াশীল) পদার্থের অন্যতম প্রধান উৎস।
সাইকোট্রফিক পদার্থ এমন এক ধরনের রাসায়নিক যৌগ যা মানুষের মন ও দেহের ওপর প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। এগুলো সাধারণত রোগ শনাক্ত, রোগের চিকিৎসা অথবা প্রতিরোধে ব্যবহার করা হয়। কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের ওপর প্রভাব বিস্তার করায় এগুলোকে অবৈধভাবে ব্যবহার করা হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সালে ভারতের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ১.২ টন এফিড্রিন আটক করেছে। ক্রিমিনাল নেটওয়ার্ক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রোডাক্টের জন্য বাংলাদেশকেও টার্গেট করেছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারত থেকে সিউডোএফিড্রিন এনে বাংলাদেশে তা দিয়ে ট্যাবলেট তৈরি করা হয়। পরে তা মধ্য আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ায় পাঠানো হয়। মাদকযুক্ত ফার্মাসিউটিক্যাল প্রোডাক্ট ও সাইকোট্রফিক প্রোডাক্ট দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ব্যাপকভাবে অপব্যবহার করা হয়। রিপোর্টে আরো দেখানো হয়েছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে গাঁজার চাষ করা হয়। ২০০৯ সালে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রায় ২.১ টন গাঁজা উদ্ধার করেছে।
ইউরোপে আফগানিস্তানের আফিমযুক্ত মাদক পাচারের সংক্ষিপ্ত রুট হলো ইরান। আফগানিস্তানের ৩৭ শতাংশ হেরোইন এ দেশটি দিয়ে পাচার করা হয়। বাকি অংশ পাকিস্তান অথবা কাজাখস্তান, কিরঘিজিস্তান, তাজিকিস্তান ও আজারবাইজানের রুট দিয়ে পাচার করা হয় বলেও আইএনসিবি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। |