২৫ এপ্রিল, আমার হেলথ: এক বছর ধরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তৈরি করা ‘জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ২০১০’ এর খসড়া নিয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে যেসব কর্মশালা চলছিল, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক গত ২৩ এপ্রিল তা স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এর ফলে কবে নাগাদ স্বাস্থ্যনীতি চূড়ান্ত হবে, তা নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে।
এদিকে পেশাজীবী চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) জাতীয় স্বাস্থ্যনীতির প্রশ্নে স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। বিএমএর উদ্যোগে স্বাস্থ্যনীতি লেখা হচ্ছে। এক সপ্তাহের মধ্যে এই খসড়া চূড়ান্ত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিএসএমএমইউ’র সাবেক সহ উপাচার্য অধ্যাপক রশিদ-ই-মাহবুব।
বিএমএর একাধিক সূত্র বলেছে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহ-উপাচার্য রশিদ-ই-মাহবুবকে প্রধান করে স্বাস্থ্যনীতিবিষয়ক কমিটি করেছে বিএমএ। ওই কমিটি ও বিএমএর অনুরোধে স্বাস্থ্য খাতের একজন পরামর্শক স্বাস্থ্যনীতির একটি প্রাথমিক খসড়া তৈরি করেছেন। ওই পরামর্শক ২০ এপ্রিল বিএমএর নেতাদের এক সভায় প্রাথমিক খসড়া জমা দিয়েছেন। ২৭ এপ্রিল চূড়ান্ত খসড়া জমা দেওয়ার কথা।
এ ব্যাপারে রশিদ-ই-মাহবুব বলেন, বিএমএ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমান্তরাল কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে বিএমএ।
এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ২০১০’ চূড়ান্তকরণ বিষয়ে বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রামে তিনটি বিভাগীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২৫ এপ্রিল রাজশাহীতে এবং ৩ মে ঢাকায় কর্মশালা হওয়ার কথা ছিল। সব কর্মশালা স্থগিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মনির হোসেন বলেন, স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন-প্রক্রিয়ায় পেশাজীবী সংগঠন হিসেবে বিএমএর সংশ্লিষ্টতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি জানান, শিগগির এই প্রক্রিয়া আবার শুরু হবে।
বিএমএর মহাসচিব শরফুদ্দিন আহমেদ বলেন, সরকারকে সহায়তা ও স্বাস্থ্যনীতি সমৃদ্ধ করার জন্য তাঁরা এই উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি বলেন, তাঁদের উদ্যোগ সম্পর্কে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানে। তবে বিএমএর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা মন্ত্রণালয়কে কিছু জানানো হয়নি।
উল্লেখ্য মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত বছরের জানুয়ারিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক তিন মাসের মধ্যে স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়ন করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। মন্ত্রণালয়ের প্রথম খসড়াটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। এরপর মন্ত্রণালয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য, জনশক্তি উন্নয়ন) খন্দকার মো. সিফায়েত উল্লাহকে আহ্বায়ক করে ‘জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ২০১০ চূড়ান্তকরণ কমিটি’ গঠন করে। এই কমিটি একটি খসড়া তৈরি করে। মন্ত্রী এ বছরের ১৬ জানুয়ারি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে ‘জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি ২০১০’ উপস্থাপন করেন। এই খসড়া ওয়েবসাইটে দিয়ে ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সাধারণ মানুষের মতামত চেয়েছিল মন্ত্রণালয়।
|