ক্ষমতাসীন ১৪ দলীয় মহাজোট সরকারের অন্যতম প্রধান দল আওয়মীলীগ নির্বাচনি ইশতেহারে দেশের সকল নাগরিকের জন্য সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতের ঘোষণা দিয়েছিল। জনগনকে দেয়া ওয়াদা পূরণের প্রথম পক্ষেপ ২০০৯-১০ সালের বাজেট। এই বাজেটে স্বাস্থ্য খাত তথা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে বরাদ্ধ দিয়েছে ৩০৭৫ কোটি টাকা। ঘোষিত এই বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন আর্থ-মন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগনের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে
১. সকলের জন্য মান সম্মত স্বাস্থ্য সেবা সরকারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি। সময়ের চাহিদাকে সামনে রেখে সরকার স্বাস্থ্যনীতি নবায়নের কাজ শুরু করেছে। বিগত জোট সরকারের আমলে আওয়ামীলীগ সরকারের গড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ব্যবস্থা ধ্বংশ করে দিয়েছে। সরকার আবার এটা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। ৬ হাজার জনগোষ্টির জন্য একটি হিসেব মোট ১৩ হাজার ৫০০টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে। এ সব ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্টীকে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা, মা ও শিশু স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা সেবা ইত্যাদি প্রদানের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, স্যানেটেশন, সুষম খাদ্যাভাস, ডায়রিয়া প্রতিরোধ, পুষ্টি ও যৌনবাহিত রোগ বিষয়ে প্রচারনা ও সচেতনতা সৃষ্টি করা হবে।
মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার কর্মসূচিকে সমপ্রসারিত করা হবে
২. মাতৃমৃত্যু রোধসহ মাতৃস্বাস্থ্য উন্নয়নে দারিদ্র ও নি:স্ব মহিলাদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বিদ্যমান মাতৃস্বাস্থ্য ভাউচার কর্ম সূচীকে আরো ৪৫ উপজেলায় সমপ্রসারিত করা হবে। সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে শিশু মৃত্যুরহার হাজারে ৫২ থেকে ১৫-তে এবং মাতৃমৃত্যুর হার ২.৯ শতাংশ থেকে ১.৫ শতাংশে কমিয়ে অনা। ২০২১ সালের মধ্যে গড় আয়ু ৭০-এর কোঠায় উন্নিত করা।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হবে
৩. অতিরিক্ত জনসংখ্যা দেশের এক ভয়াবহ সমস্যা। এর সুষ্ঠু সমাধানের লক্ষ্যে জনসংখ্যা নীতি যুগ উপযোগী করে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হবে।পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের বর্তমান দূর্বলতা হচ্ছে পর্যাপ্ত কর্মী অভাব এবং জনগনের চাহিদা মেটাতে সরকারের ব্যার্থতা। বর্তমান সরকার এই দু-টি দূর্বলতা মোকাবেল করার জন্য জরুরী ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য ২০২১ সালে প্রজনন নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার হার ৮০ শতাংশে উন্নিত করা এবং পদক্ষেপ হিসেবে এ সংক্রান্ত প্রজনন নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী ক্রয়ের সুনির্দিষ্ট কর্মসূচীর জন্য উন্নয়ন ও অনুন্নয় মিলিয়ে ৪৯৮ কোটি টাকার বরাদ্ধের প্রস্তাব করা হয়েছে।
সকল নাগরিকের পুষ্টি চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে চাই
৪. ২০২১ সালের মধ্যে বর্তমান সরকার দেশের ৮৫ শতাংশ নাগরিকের মান সম্পন্ন পুষ্টি চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে চায়। অপুষ্টি সমস্যা সমাধানে আগামী অর্থ বছর জাতীয় পুষ্টি কার্যক্রমকে ১২৩ উপজেলায় সমপ্রসারিত করা হবে। পর্যায়ক্রমে সকল উপজেলাকে এর আওতায় আনা হবে।
স্বাস্থ্য অবকাঠামো সমপ্রসারন করা হবে
৫. হাসপাতাল ভিত্তিক অধিক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে সকল উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ এবং সকল জেলা হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ২৫০ শয্যায় উন্নিত করা হবে। আগমী বছর ৫টি নতুন মেডিক্যাল কলেজ ও ৬টি ইন্সটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি নির্মাণ করা হবে। ৬টি নার্সিং ইন্সটিটিউটকে নার্সিং কলেজে উন্নিত করা হবে। নতুন করে ১২টি নার্সিং ইন্সটিটিউট নির্মাণে হাত দেয়া হবে। সৃষ্ট সম্পদের সদ্ব্যবহারের জন্য এবং সেবা প্রদানের মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বহু পুরনো ও জরাজীর্ণ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালগুলোর সংস্কার ও আধুনিকায়ন হবে একটি অগ্রাধিকার প্রাপ্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ কাযক্রম।
৬. ২০২১ সালের মধ্যে সকল প্রকার সংক্রমিক ব্যাধি নির্মূলের লক্ষ্যে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণায় চট্রগ্রামে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট ‘ইনিস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশন ডিজিজেস ইন্সটিটিউট’ সংস্থাপন করা হবে ।
ওষুধ শিল্প বিকাশে ওষুধনীতি ২০০৫-কে যুগোপযোগী করা হবে
৭. মান সম্মত ওষুধ উৎপাদনে স্বনিভর্রতা অর্জন সহ রপ্তানির মাধ্যমে ওষুধ সেক্টরকে উল্লেখ যোগ্য রফতানি আয়ের সেক্টরে পরিণত করা হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় ওষুধ নীতিমালা, ২০০৫ কে বর্তমান সরকার যুগ উপযোগী করবে। ওষুধ প্রশাসন পরিদপ্তরের আধুনিকায়ন করা হবে।
প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও সহযোগী সেবায় দক্ষতা বাড়ানো হবে
৮. রোগী কল্যাণ তহবিল নীতিমালা, ডিজিটাল পাস কার্ড পদ্ধতি পরিচালনা, ইউজার ফি আহরণ ও বন্টন এবং ইজার ফি নির্ধারণ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্যারামেডিক, নার্সিং এবং মিড ওয়াইফারি প্রশিক্ষণের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ নেয়া হবে।
http://www.currentissuebd.com/wp-content/uploads/2009/06/bdfont.pdf |