দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যলস আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনে আমার ডাক্তার

প্রতি জেলায় কমপক্ষে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল তৈরী করা হবে- প্রধানমন্ত্রী

আমারহেলথ (৩০ মার্চ, বুধবার): প্রতি জেলায় কমপক্ষে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল এবং বড় জেলাগুলোতে হাসপাতালের শয্যা সংখ্য ৫০০ তে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সিভিল সার্জনদের গাড়ি এবং জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর জন্য এম্বুলেন্স বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন। 
এ সময় প্রধানমন্ত্রী জেলা-উপজেলার হাসপাতালের জন্য ১৫৯টি এম্বুলেন্স এবং ৫৭টি জেলার সিভিল সার্জনদের বরাদ্দ করা গাড়ি ঘুরে দেখেন। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার নির্বাচনী অঙ্গীকারের একধাপ অগ্রগতি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গোটা স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে কম্পিউটার নেটওয়ার্কে যুক্ত করাসহ সবকিছু করবে। তিনি বলেন, এরমধ্যে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সকল হাসপাতালে ওয়েব ক্যামেরা সংযোগ দেয়া হয়েছে। ওয়েব বেইজড সমন্বিত ডাটা বেইজের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা তথ্য প্রাপ্তি সহজ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা হয়েছিল। কিন্তু জোট সরকার কমিউনিটি ক্লিনিক যেমন বন্ধ করেছিল তেমনি উপজেলা শয্যা বাড়ানোর পদক্ষেপও তারা বন্ধ করে দেয়। এবার আমরা তা করবো। এছাড়া জেলা হাসপাতালে কমপক্ষে ২৫০ শয্যা করা হবে। যে জেলার হাসপাতালে মেডিকেল কলেজ আছে সেগুলোর শয্যা সংখ্যা ৫০০ তে উন্নীত করার পরিকল্পনা আমরা ৯৬-এ করেছিলাম। সেটার কাজও জোট আমলে বন্ধ হয়ে যায়। এসব হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ২০০/২৫০ থাকলেও মেডিকেল কলেজে সনদের মূল্যায়ন থাকে না। আমরা এমন হাসপাতালকে অবশ্যই ৫০০ শয্যায় উন্নীত করবো। 
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে সেন্টার অব এক্সিলেন্স হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে, সেখানে গরিব মানুষের কল্যাণে গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের উদ্দেশে বলেন, সরকার ১২ বিঘা জমি দিয়েছে। আপনারা গবেষণা করুন। রোগীরা যাতে কম খরচে চিকিৎসা পেতে পারে তার উপায় বের করুন। 
ডাক্তারদের উপজেলায় বাসস্থান নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের কাজের মনিটরিং বাড়ানোর উপর জোর দেন। সিভিল সার্জনদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে দেশের ৬৪টি জেলার সিভিল সার্জনরা উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রত্যক্ষভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন, সেখানে কর্মরত চিকিৎসকদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে পারবেন। আশা করি, এখন থেকে জনগণ আর অভিযোগ করবে না। জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নে চিকিৎসক অনুপস্থিত। তাহলে এর দায়-দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সিভিল সার্জনকেই নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া যেসব চিকিৎসক কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকে তাদের মনে হয় চাকরির প্রয়োজন নেই। তারা কর্মক্ষেত্রে অনুপস্থিত থাকলে তাদের বিদায় করে নতুন নিয়োগ দেয়া হবে। এখন থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত চিকিৎসকদের ভাড়া বাবদ আর টাকা কাটা হবে না, নামমাত্র সার্ভিস চার্জ নেয়া হবে। তাই তাদের অবশ্যই নিজ নিজ এলাকায় থাকতে হবে। তিনি বলেন, পাঁচ হাজার ডাক্তার, ১৭শ নার্স, ৬ হাজার ৩শ স্বাস্থ্য সহকারীর নিয়োগ সম্পন্ন, আরো পাঁচ হাজার করে ডাক্তার ও নার্স এবং ১৪ হাজার স্বাস্থ্য সহকারী নিয়োগ হবে।