দেশের সব খবর আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যলস আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনে আমার ডাক্তার

সাড়ে ১৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার

১৭ এপ্রিল(আমার হেলথ): নতুন করে সাড়ে ১৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। মাঠপর্যায়ে বিশেষ করে সরকারি কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে এ নতুন স্বাস্থ্যকর্মীরা মা-শিশুর অপুষ্টি এবং মাতৃত্বকালীন প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবা দেবেন।গত ১৫ এপ্রিল কমিউনিটি ক্লিনিকবিষয়ক পরামর্শক পর্ষদের (অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল) প্রথম সভায় এই নিয়োগের কাজ দ্রুত শুরু করার ব্যাপারে আলোচনা হয়।

‍‍‌কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার’ পদে এই নিয়োগের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সরকার ‘বিভাইটালাইজেশন অব কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ’ নামে কয়েকশ’ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ২০০৯ সালের অক্টোবরে এ প্রকল্প একনেকে পাস হয়। প্রকল্পের অধীনে ২০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়ার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের এডিশনাল সেক্রেটারি মাগদুমা নার্গিসকে পরিচালক করে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এ প্রকল্পের অধীনেই সাড়ে ১৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়া হচ্ছে। আগামী অর্থবছরের প্রথম দিকে নিয়োগের প্রক্রিয়া শেষ হলে এটাই হবে স্বাস্থ্য খাতে একবারে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক নিয়োগ। এ ক্ষেত্রে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বর্তমান সরকার কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সেবা দেওয়ার বিষয়টিকে সামনে রেখে গত ১৫ এপ্রিল কমিউনিটি ক্লিনিকবিষয়ক পরামর্শক পর্ষদের (অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল) প্রথম সভায় এই নিয়োগের কাজ দ্রুত শুরু করার ব্যাপারে আলোচনা হয়। সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী ও স্বাস্থ্য উপমন্ত্রী মুজিবুর রহমান ফকির উপস্থিত ছিলেন।

প্রকল্পের পরিচালক মখদুমা নার্গিস বলেন, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ১০ হাজার ৭২৩টি কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কারের পাশাপাশি দুই হাজার ৭৭৭টি নতুন ক্লিনিক তৈরি করা হবে এবং প্রতিটি ক্লিনিকে একজন স্বাস্থ্য সহকারী ও একজন পরিবারকল্যাণ সহকারীর পাশাপাশি একজন ‘কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার’ কাজ করবেন। তিনি আরো বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরীক্ষাপদ্ধতি দু-এক দিনের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। এর পরপরই সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে দরখাস্ত চাওয়া হবে। উচ্চমাধ্যমিক বা সমমানের যোগ্যতাসম্পন্ন যেকোনো বাংলাদেশি দরখাস্ত করতে পারবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের অক্টোবরে ‘বিভাইটালাইজেশন অব কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভ ইন বাংলাদেশ’ নামে কয়েকশ’ কোটি টাকার এই প্রকল্প একনেকে অনুমোদিত হয়। এরপর প্রকল্পের বাজেট বরাদ্দ করা হয়। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার পরিকল্পনার ৩৩ ধরনের সেবা দেওয়ার পাশাপাশি এসব স্বাস্থ্যকর্মী বাড়ি পরিদর্শন, তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের পাশাপাশি তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এবং ইউনিয়ন ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সঙ্গে কাজের সমন্বয় করবেন বলে প্রকল্প সুত্রে জানানো হয়।  

তবে আগে নিয়োগকৃত স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ, চিকিত্সার দরকারি যন্ত্রপাতি ও ওষুধ দেয়ার পদক্ষেপ নিতে সরকারের আহবান জানিয়েছেন। অথচ দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা দাবি জানিয়ে আসলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নিয়ে সরকার আরও সাড়ে ১৩ হাজার নারী স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এদিকে মাত্র দু’দিনের প্রশিক্ষণ নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। সারাদেশে স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছে ২৬ হাজার ৬০০। অথচ চিকিত্সার জন্য যন্ত্রপাতি আছে মাত্র পাঁচ হাজার জনের কাছে।