
জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (৩১ অক্টোবর, রবিবার): এ বছরের মধ্যে দেশ থেকে কৃমি বিনাশ হচ্ছে না। ফলে সরকারকে কৃমিনাশক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। ২০০৫ সালে এক জরিপের পর কৃমি বিনাশে স্কুল পর্যায়ের সরকারি কার্যক্রম শুরু হয়। ওই সময় ২০১০ সালের মধ্যে দেশ থেকে কৃমি নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয় বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়।
এ বছরের শেষ ধাপের স্কুল পর্যায়ের কৃমিনাশক সেবন কার্যক্রম শুরু হবে সোমবার থেকে। দেশের প্রাথমিক পর্যায়ের ৬ থেকে ১২ বছর বয়সের প্রায় দুই কোটি শিশুকে বিনা মূল্যে কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানো শুরু হবে।
১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে এ কার্যক্রম। বছরে দুইবার (মে ও নভেম্বর) সরকারের এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক শাহ মনির হোসেন বলেন, ‘আমাদের টার্গেট ছিল এ বছরের (২০১০) মধ্যেই দেশ থেকে কৃমি সংক্রমণ নির্মূলের। সেই লক্ষ্য শতভাগ পূরণ করা যাচ্ছে না। তবে গত কয়েক বছরের জোরাল কার্যক্রমের ফলে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। এখন সহনীয় পর্যায়ে আছে।’
বিশেষজ্ঞদের মতে, নানা জীবাণুর সহায়তায় কোনো কোনো কৃমি যেকোনো সময় ভয়ানক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয় মানুষকে। এমনকি কোনো কোনো কৃমির কারণে মৃত্যুও ঘটে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০০৫ সালে দেশের তিনটি এলাকায় (বান্দরবান, ফেনী ও পটুয়াখালী) পরিচালিত জরিপে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮০ শতাংশ শিশুর কৃমির সংক্রমণের চিত্র পাওয়া যায়। এরপর থেকেই শুরু কৃমিনাশক কার্যক্রম।
২০০৮ সালে আরেক জরিপে দেখা যায়, কৃমিনাশক সেবনকারী শিশুদের মধ্যে ৮০ শতাংশেরই কৃমি নির্মূল হয়েছে। ওই ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই ৬৪ জেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের বিনা মূল্যে বছরে দুইবার দুই ডোজ কৃমিনাশক সেবন করানোর কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। ওই সময় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২০১০ সালের মধ্যেই দেশের সব শিশুকে কৃমিনাশক খাওয়ানোর মাধ্যমে দেশ থেকে কৃমি নির্মূল করা সম্ভব হবে। তবে গত দুই বছর এবং চলতি বছরের মে মাসসহ মোট ছয়টি রাউন্ড পরিচালিত করার পর দেখা যায়, এ বছরের মধ্যে দেশ থেকে কৃমি নির্মূল পুরোপুরি সম্ভব হবে না। এ জন্য আরো কার্যক্রম চালাতে হবে। তাই আগের নির্ধারিত শিডিউল অনুসারে আগামীকাল থেকে সাত দিনব্যাপী কৃমিনাশক সেবনের মধ্য দিয়েই এই কর্মসূচি শেষ করা হচ্ছে না। আগামী বছরও একইভাবে এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ড. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, প্রথম দিকে প্রতি রাউন্ডে কেবল এক দিন ১ নভেম্বর ও ১ মে এই কার্যক্রম পরিচালিত হতো। এ সময় দেখা যায়, অনেক শিশুই স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। এ ছাড়া ১ মে স্কুল বন্ধ থাকে। ফলে পরে সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে গত বছর থেকে ১ মে’র পরিবর্তে ২ মে কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানো হয়।
আর দ্বিতীয়বারে ১ নভেম্বর এক দিনের পরিবর্তে সাত দিন ধরে এই কার্যক্রম চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। |