আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

দেশজুড়ে ভূয়া চিকিৎসক ও রেজিস্ট্রেশনহীন হাসপাতাল-ক্লিনিকের ছড়াছড়ি

জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (২৪ জুলাই, শনিবার): রাজধানীসহ সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর স্বাস্থ্যসেবায় চরম অরাজকতা বিরাজ করছে। নিন্মমানের সেবা ও ভূয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ন্যে সে ঝুঁকি প্রতিদিনই বাড়ছে। 
প্রথম শ্রেণীর অনেক হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকও ঝুঁকির বাহিরে নয়। যার কারনে চিকিৎসক ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দিন দিন কমছে। রোগীর পাশাপাশি তাদের আত্মীয়স্বজনদের মনে সৃষ্টি হচ্ছে আতঙ্ক। ফলে দূরত্ব বাড়ছে চিকিৎসক ও রোগীদের মধ্যে। ভুল চিকিৎসার অভিযোগে ভাংচুর, শারীরিক আঘাত-প্রতিঘাত এবং মামলা-মোকদ্দমার মতো ঘটনাও ঘটছে বেশ অহরহ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলো দেখাশোনার জন্য দেশে শক্তিশালী মনিটরিং ব্যবস্থা নেই। এ জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়ী। কেউ কারও দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না। আবেদন করলেই লাইসেন্স দেয়া হয়ে থাকে। আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানের গুণাগুণ যাচাই করে দেখা হয় না।
এভাবে চলতে থাকলে দেশের চিকিৎসা সেবার মান অনেক নিচে নেমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন জানান, ভুয়া চিকিৎসা ও চিকিৎসালয় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব রয়েছে বিএমডিসি। আর এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান ও ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একটি বিভাগের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীসহ দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের নামে মানুষ মারার কারখানা। ওই ভুয়া চিকিৎসালয়ের চেয়ারে বসে থাকেন ভুয়া ডিগ্রীধারী ডাক্তার। ওই সব চেয়ারে বসলেই হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার হয়ে যান এ্যালোপ্যাথিক।
হাসপাতালের নার্স, টেকনিশিয়ান, পিয়ন, ম্যানেজার, প্রশাসক সকলেই চিকিৎসক হিসেবে রোগী দেখেন এবং জটিল অপারেশনে অংশ নেন। অভিযোগ উঠেছে, এক বিভাগের চিকিৎসক সব ধরনের রোগী দেখে থাকেন। এতে রোগ নির্ণয় ও প্রেসক্রিপশনে ত্রম্নটি রয়ে যাচ্ছে।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি হাসপাতালে গত কয়েকমাসের পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে এ সম্পর্কে ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠে। পাশাপাশি সারাদেশের চিকিসার অবস্থাও প্রায় একই অবস্থা বিরাজ করছে।
এ ব্যাপারে ডক্টরস ফর হেলথ এ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট-এর সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদী-ই-মাহবুব স্বাস্থ্য সংক্রান্ত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর মনিটরিং ব্যবস্থা জোরালো করার দাবি জানিয়েছেন। তিনি জানান, স্বাস্থ্য সেক্টরে দুর্বল মনিটরিংয়ের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়ী। কেউ কারও দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন না।