আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন: আজ দুই কোটি শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানো হচ্ছে

ফয়সাল আকবর, ২৯ মে : সারা দেশে আজ ২৯ মার্চ থেকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। এ কার্যক্রমের আওতায় এক থেকে দুই বছর বয়সী আনুমানিক ৩০ লাখেরও বেশি শিশুকে একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। এদের মধ্যে যাদের বয়স দুই থেকে পাঁচ বছর তাদের ‘এ’ ক্যাপসুলের পাশাপাশি একটি করে কৃমিনাশক বড়িও খাওয়ানো হচ্ছে। বিদ্যমান ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী টিকা কেন্দ্রের সঙ্গে আরও ২০ হাজার ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র মিলে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার কেন্দ্রের মাধ্যমে এসব ক্যাপসুল ও বড়ি খাওয়ানো কার্যক্রম চলতেছে । ব্যাপক এ কার্যক্রম সফল করতে মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মী ছাড়াও প্রতি কেন্দ্রে তিনজন করে মোট চার লাখ ২০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত আছে। ২৮ মে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. আ.ফ.ম. রুহুল হক ঢাকায় বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) অডিটোরিয়ামে কয়েকটি শিশুকে ক্যাপসুল ও বড়ি খাইয়ে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক বলেন, ভিটামিন এ কেবল রাতকানা ও অন্ধত্বই প্রতিরোধ করে না, বরং শিশু মৃত্যুর হার ও শিশু মৃত্যুর ঝুঁকিও শতকরা ২৩ থেকে ৩৪ ভাগ কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া হাম, ডায়েরিয়া, হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়ার জটিলতা ও স্থায়িত্ব কমাতেও সহায়তা করে এটি। ভিটামিন ‘এ’ শরীরে এক ধরনের প্রতিষেধক হিসাবে কাজ করে।
তিনি আরো বলেন, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ও কৃমিনাশক বড়ি শিশুদের জন্য অত্যন্ত উপকারী ও নিরাপদ। তবে যাদের পেটে খুব বেশি কৃমি আছে তাদের খালি পেটে কৃমিনাশক বড়ি খাওয়ানো হলে বমিভাব বা সাময়িক অসুস্থতা দেখা দিতে পারে। এজন্য প্রত্যেক অভিভাবক ও যারা শিশুকে টিকা কেন্দ্রে আনবেন তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব শিশু কৃমিনাশক বড়ি খাবে তাদের অবশ্যই কিছু খাইয়ে টিকা কেন্দ্রে আনতে হবে।
আলোচনা সভায় জানানো হয়, ১৯৭৩ সালে ছয় মাস থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে ভিটামিন ‘এ’র অভাবজনিত রাতকানার হার ছিল শতকরা তিন দশমিক ৭৬। সচেতনতামূলক প্রচারণা ও বিভিন্ন কর্মসূচির ফলে ১৯৮৯ সালে তা এক দশমিক ৭৮ ভাগে নেমে আসে। ২০০৫ সালের জরিপ অনুযায়ী, দেশে রাতকানা রোগের হার শতকরা শূন্য দশমিক শূন্য চার। পরবর্তী জরিপ হবে ২০১১ সালে। সভায় বলা হয়, ভিটামিন ‘এ’ শুধু রাতকানা ও অন্ধত্বই প্রতিরোধ করে না। গবেষণায় দেখা গেছে, ভিটামিন ‘এ’ শিশুমৃত্যুর হার ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি ২৩-৩৪ শতাংশ কমিয়ে দেয়।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. ক্যাপ্টেন (অব.) মজিবুর রহমান ফকির, ইউনিসেফ-এর স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের প্রধান ড. বিয়ারথে লোকাটেলি রোসি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক শাহ মনির হোসেন, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম, জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অধ্যাপিকা ফাতেমা পারভীন চৌধুরী বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশনের যুগ্ম-মহাসচিব ডা. এমএ আজিজ বক্তৃতা করেন।