
আমারহেলথ (১৪ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার): যক্ষায় আগামী ৫ বছরে ১ কোটি মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হয়েছে। এ রোগ প্রতিরোধে অর্থ না বাড়ালে এতে প্রাণহানি হবে বলে সতর্ক করে দিয়েছে দ্য স্টপ টিউবারকিউলোসিস পার্টনারশিপ নামে একটি সংস্থা। সংস্থাটি জানায়, যক্ষার হাত থেকে ৫০ লাখ লোকের জীবন বাঁচাতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ৪ হাজার ৭শ কোটি মার্কিন ডলার দরকার। এদের মধ্যে ২০ লাখ নারী ও শিশু আছে।
পার্টনারশিপের সমন্বয়ক বোর্ডের চেয়ারম্যান রিফাত অটুন বলেন, এ রোগ থেকে লোকজনকে রক্ষা করতে হলে নতুন পরিকল্পনা দরকার। নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারলে ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষের চিকিৎসা ও ৫০ লাখ লোকের জীবন বাঁচানো সম্ভব। তিনি জানান, প্রতিবছর ৯০ লাখ লোক যক্ষায় আক্রান্ত হয়। এদের বেশিরভাগই উন্নয়নশীল দেশের। এশিয়ায় আক্রান্তের হার ৫৫ ও আফ্রিকায় ৩০ শতাংশ। এশিয়ার মধ্যে ভারত ও চীনে আক্রান্তের হার ৩৫ শতাংশ।
সংস্থাটি জানায়, ফুসফুস সংক্রমণে প্রতিবছর মারা যায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ। এ রোগ প্রতিরোধে গবেষণা, ওষুধ, টিকা এবং দ্রুত ও কার্যকরী রোগ নির্ণয় পদ্ধতি আবিষ্কারের জন্য ১ কোটি মার্কিন ডলার দরকার। ৯শ কোটি মার্কিন ডলারের ঘাটতি মেটানোও জরুরি বলে মনে করেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
পার্টনারশিপের গবেষণা উপদেষ্টা ক্রিষ্টিয়ান লিইন্ধার জানান, যক্ষায় ওষুধ উৎপাদন লাভজনক নয়। এ কারণে ওষুধ কোম্পানিগুলো এ খাতে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয় না। এছাড়া আক্রান্ত দেশগুলো এ চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে সক্ষম নয়। এজন্য ধনী দেশগুলোকে এ রোগ প্রতিরোধে প্রতিবছর ২শ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার সাহায্য দেয়ার আহবান জানায় দ্য স্টপ টিউবারকিউলোসিস পার্টনারশিপ সংস্থা।
প্রসঙ্গত, যক্ষা ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণজনিত রোগ। এ রোগের জীবাণু বাতাসে ভেসে বেড়ায়। আক্রান্ত একজন লোক বছরে আরো ১৫ জনের শরীরে এ রোগ ছড়িয়ে দিতে পারেন। |