আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

রাজধানীজুড়ে অবৈধ ব্লাড ব্যাংক: নিরাপদ রক্তের বড় অভাব

জাফর সাদেক শিবলী: আমারহেলথ (১৩ অক্টোবর, বুধবার): ভেজালে ভেজালে সয়লাভ সারাদেশ। এমনকি মানুষের রক্তেও রয়েছে নানা ভেজাল। রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় নামহীন অসংখ্য অবৈধ ব্লাড ব্যাংক গড়ে ওঠায় নিরাপদ রক্ত পাওয়া ইতোমধ্যে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অবৈধ ব্লাড ব্যাংকগুলোয় প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই রক্ত সংগ্রহ করছে।
রক্ত সংগ্রহে পাঁচটি সংক্রামক ভাইরাস যেমন এইডস, হেপাটাইটিস এ ও বি, ম্যালেরিয়া, সিফিলিস জীবাণু পরীক্ষা বাধ্যতামূলক হলেও তা করা হচ্ছে না।
আবার ব্লাড ব্যাংকগুলোতে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, একজন ডিউটি ডাক্তার ও একজন টেকনিশিয়ান থাকা বাধ্যতামূলক হলেও অবৈধ ব্লাড ব্যাংকগুলোতে রয়েছে মালিক, কয়েকজন দালাল, একজন মার্কেটিং ম্যানেজার ও একজন অফিস কর্মচারী।
বেশিরভাগ ব্লাড ব্যাংক গড়ে উঠেছে অপরিচ্ছন্ন কুঠুরিতে। এছাড়াও বাসাবাড়ি, মুদির দোকান অথবা বস্তির ভেতরে থাকা ফ্রিজে রাখা হয় এ রক্ত। বেশিরভাগ রক্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে মাদকসেবীদের কাছ থেকে। জরুরী মুহূর্তে অনেকেই বিপদে পড়ে ভেজাল রক্ত কিনতে বাধ্য হচ্ছে। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাদকসেবীরা এক ব্যাগ রক্ত বিক্রি করে মাত্র ৯০ থেকে ১২০ টাকায়। যে দালাল এদের অবৈধ ব্লাড ব্যাংকে নিয়ে আসে তারা পায় ৩০ থেকে ৫০ টাকা। ব্লাড ব্যাংকের মালিক বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে প্রতি ব্যাগ রক্ত সরবরাহ করে ৫০০ থেকে ১২০০ টাকায়। ক্লিনিক মালিক রোগীদের কাছ থেকে নেয় ১৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা। জানা গেছে, প্রতিদিন ভোর থেকে অবৈধ ব্লাড ব্যাংকের সামনে মাদক সেবীদের হাট বসে। রক্ত সংগ্রহ চলে সকাল ৭টা-৮টা পর্যন্ত। মাদকসেবীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা রক্তগুলো সরিয়ে ফেলা হয় নিরাপদ স্থানে। 
জানা গেছে, মাদকসেবীরা যখন ব্লাড ব্যাংকে আসে তখন তারা নিজেদের সাঙ্কেতিক নামে পরিচয় দেয়। রক্ত বেচে মাদকসেবীরা টাকা নিয়ে চলে যায় মাদক কিনতে। অনেক অসাধু ব্লাড ব্যবসায়ী তাদের কাজ সহজ করতে টাকার পরিবর্তে মাদকও সরবরাহ করে। মাসে একাধিকবার রক্ত দেয়ার কথাও তারা স্বীকার করেছে। এদের রক্তে প্রয়োজনীয় রক্ত কনিকা থাকে না।
এছাড়া পাঁচটি সংক্রামক রোগের উপাদান যেমন এইডস, হেপাটাইটিস এ ও বি, ম্যালেরিয়া এবং সিফিলিস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। শুধু রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা এবং ক্রসম্যাচিং করে রোগীর শরীরে প্রবেশ করানো হচ্ছে অনিরীক্ষিত রক্ত। আবার অবৈধ ব্লাড ব্যাংকগুলো রক্ত সরবরাহের সময় রক্তের ব্যাগের গায়ে ডোনারের নাম, ফোন নম্বর, সংগ্রহের তারিখ ইত্যাদি ইচ্ছামতো বসিয়ে দেয়া হচ্ছে। সঙ্গে দেয়া হচ্ছে মনগড়া রিপোর্ট।
অথচ প্রতিটি ব্লাড ব্যাংকে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, সর্বক্ষণিক ডিউটি ডাক্তার, দক্ষ টেকনিশিয়ান থাকা বাধ্যতামূলক।
কিন্তু অবৈধ ব্লাড ব্যাংকের মালিক, কয়েকজন দালাল, একজন মার্কেটিং ম্যানেজার এবং অফিস কর্মচারী নিয়োগ দিয়ে রক্ত সংগ্রহের কাজ চালাচ্ছে। 
অবৈধ ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছেন র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনোয়ার পাশা। তিনি জানান, দেশে মাত্র ২৬টি বেসরকারী বৈধ ব্লাড ব্যাংক রয়েছে। এগুলোতেও মাদকসেবীদের রক্ত সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়াই বিক্রি করার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ডোনার রেজিস্টার পরীক্ষা করে দেখা গেছে, মনগড়া নাম দিয়ে রেজিস্টার ভরে রাখা হয়েছে।