সন্তান নেয়ার আগে কী করা উচিত চিকিৎসা বিজ্ঞানের সিলেবাসে অধ্যাপক ডা. এ.বি.এম আব্দুল্লাহর দুটি বই অন্তর্ভূক্ত সোয়াইন ফ্লু: সতর্কতা জরুরী

সোয়াইন ফ্লু: সতর্কতা জরুরী

জাফর সাদেক শিবলী

বিশ্বজুড়ে সোয়াইন ফ্লু এখন একটি আতংকের নাম। এটি মানব দেহের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের মতোই এক ধরনের ভাইরাস। এ ভাইরাস মূলত শূকরের দেহে দ্রুত বংশবিস্তার করতে পারে। তবে অন্যান্য পশু-পাখির চেয়ে শূকরের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য মানবদেহের সঙ্গে বেশ মিল থাকায় এ ভাইরাসটি দ্রুত মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়।
বর্তমানে যে ভাইরাসটি সংক্রমিত হচ্ছে তা এইচওয়ানএনওয়ান নামে পরিচিত। এটি পশু-পাখি, মানুষ এবং শূকরের ভাইরাসের সংমিশ্রণ, যা আগে কখনো দেখা যায়নি। সেই কারণে এটির কার্যকর কোন প্রতিষেধক ব্যবহার এখনো সম্ভব হয়নি। তবে বৃটিশ বিজ্ঞানীরা এ মাসের মধ্যেই সফল ভ্যাকসিন আবিষ্কারের ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদী।
গত এপ্রিলে মেক্সিকোতে প্রথম সোয়াইন ফ্লু ধরা পড়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১১ জুন সোয়াইন ফ্লু-কে মহামারী হিসেবে ঘোষণা করে । বাংলাদেশে চলতি বছরের ১৮ জুন প্রথম সোয়াইন ফ্লু আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এ পর্যন্ত মোট ২১৩ জন এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। শনিবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা দেশে মহামারী আকারে এইচওয়ানএনওয়ান ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করার পর মিতা চক্রবর্তী (৩৫) নামে এক নারী রোববার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ল্যাবএইডে হাসপাতালে মারা গেছেন। ওই নারী ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে গত ২০ আগস্ট থেকে ঐ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বাংলাদেশে এ রোগের চিকিৎসায় ব্যাবহৃত ওসেলটামিসার টেবলেটের পর্যাপ্ত মজুদ আছে বলে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক জানিয়েছেন। সোমবারের সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, উচ্চমাত্রায় জ্বর ও শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসার জন্য সরকারি হাসপাতালে চলে যাওয়া উচিত। সেইসঙ্গে এসব উপসর্গ দেখা দিলে ঘরের বাইরে না যাওয়া এবং অসুস্থ ব্যক্তি বা তার আশপাশের লোকজনকে মাস্ক ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন মন্ত্রী।
দেশের শীর্ষ স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এ রোগের ভাইরাস সহজে ছড়ায়। এ রোগ এড়াতে যত্রতত্র কফ, থুথু না ফেলা ও বিশেষ করে হাঁচি-কাশির পর সাবান দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড হাত ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
মানবদেহের সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার মতোই এ রোগের লক্ষন হল কাশি, হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যাথা, পেশির খিঁচুনি ইত্যাদি। তবে মারাত্মক আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়া অথবাএকাধিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবশ হয়ে যাওয়া এবং মৃত্যুও ঘটতে পারে। সাধারণ ফ্লু-র মতোই এরাও দুই থেকে পাঁচদিন সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে।

বিশ্বজুড়ে দেখা গেছে, ২০ থেকে ৪০ বছর বয়স্করাই সবচেয়ে বেশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। সুঠাম সুস্বাবান যুবকদের দেহ এই ধরণের ভাইরাসের আক্রমণে তীব্র প্রতিক্রিয়া ঘটায়। ফলে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার তীব্র প্রদাহ ফুসফুসে অতিরিক্ত নিঃসরণ ঘটায় এবং
রোগী বেশ কাহিল হয়ে পড়ে। ১৯৫০ সাল থেকে কখনো কখনো শূকর লালন পালনকারী মানুষদের দেহে এ ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে। ১৯৫৮ সাল থেকে ইউরোপে ১৭ জনের দেহে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি সেনা ছাউনিতে ১৯৭৬ সালে ২০০ সৈন্যের দেহে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছিল।
এই ভাইরাস প্রতিরোধে মানবদেহে ব্যবহারের মতো কোন প্রতিষেধক নেই তবে শূকরের জন্য প্রতিষেধক রয়েছে। তবে এই ভাইরাসের সাথে মানবদেহের এইচওয়ানএনওয়ান ভাইরাসের বেশ মিল থাকায় সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জার প্রতিষেধক ব্যবহার করলে তা কিছুটা সুরক্ষা দেবে।
ই-মেইল: news_amarhealth@yahoo.com

কি করবেন,কি করবেন না

পূর্ব সতর্কতা

অসুস্থ্য রোগীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে ও অন্তত এক মিটার দুরত্ব বজায় রাখতে হবে।

জনবহুল সন্তানে বেশিক্ষন থাকা যাবে না।

ঘরের জানালা দরজা খুলে রাখবেন, যাতে পর্যাপ্ত বাতাস যাওয়া আসা করতে পারে।

পর্যাপ্ত ঘুম পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে।

অপরিষ্কার হাতে নাক মুখ স্পর্শ করা যাবেনা।.যেখানে সেখানে থুতু ফেলা যাবেনা।

সাবান দিয়ে ভাল ভাবে হাত ধুয়ে পরিস্কার রাখতে হবে।

যদি কারো প্রচন্ড জ্বর ও সর্দি থাকে বা অসুস'তা অনুভব করে তবে তার ঘরেই অবস'ান করা উচিত। এক্ষেত্রে:

বাড়িতে অবস্থান করতে হবে এবং কাজকর্ম করা যাবেনা।

পূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে এবং তরল খাদ্য খেতে হবে।

হাঁচি কাশির সময় নাক মুখ ঢেকে দিতে হবে।

ব্যবহৃত টিস্যু নিরাপদ স্থানে ফেলতে হবে যাতে অন্য কেউ আক্রান্ত না হয়।

অফিসগামী যাদের সোয়াইন ফ্লু আছে সহকর্মীদের রক্ষা করার জন্য অফিসে যাবেন না।

ইনফ্লুয়েঞ্জা থাকলে ভ্রমন করা যাবে না।

উপসর্গ: জ্বর, সর্দি, কফ, বমি, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, বিরক্তিবোধ