
জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (৩ নভেম্বর, বুধবার): নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন পাওয়া যায় না বাংলাদেশে। শুধু তাই নয়, নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ এখনও আবেদন করতেই পারেনি। আবেদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এমন অবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবস পালিত হয়েছে পহেলা নবেম্বর।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিবছর সারাবিশ্বে নিউমোনিয়ায় প্রতি ১৫ সেকেন্ডে ১টি শিশুর মৃত্যু হয়। বিশ্বব্যাপী ৫ বছরের কম বয়সের মোট ১ কোটি শিশুর মৃত্যুর শতকরা ২০ ভাগ মারা যায় নিউমোনিয়ায়। এ রোগে আক্রান্তের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে পঞ্চম। এখানে আক্রান্তের আনুমানিক সংখ্যা ৬০ লাখ। আর প্রতিবছর ৫ বছরের নিচের শিশুদের মৃত্যুর সংখ্যা কমপক্ষে ৫০ হাজার। বিশ্বব্যাপী নিউমোনিয়া প্রতিরোধ এবং তার সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিবছর কমপক্ষে ১০ লাখ জীবন রক্ষা করা সম্ভব। নিউমোনিয়া সঠিক এ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা নিরাময় করা যায়, যার খরচ ৭০ টাকারও কম।
ভ্যাকসিন আমদানির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন জানান, দেশে এখনও নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিনর ব্যবস্থা নেই। ভ্যাকসিন আনার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘গ্যাভি এ্যালায়েন্স’-এর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চলছে। আশা করি খুব শীঘ্রই আমরা ভ্যাকসিন পেয়ে যাব বলে জানান তিনি।
বিশেষজ্ঞরা জানান, নিউমোনিয়া ফুসফুসের ক্ষতি করে। এটি কফ, জ্বর ও শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দেয়। মারাত্মক আকার ধারণ করলে এ রোগে মৃত্যু অনিবার্য। প্রতি বছর সারাবিশ্বে এ রোগে ৪০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে, যার অর্ধেকই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। যা হাম, ম্যালেরিয়া ও এইডস রোগে মৃত্যুর মোট সংখ্যার চেয়েও বেশি। আর প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৫ হাজার যুবক-যুবতী এ রোগে মারা যায়। এ রোগে মৃত্যুর শিকার হওয়ার শতকরা ৯৮ ভাগ শিশু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বাস করে। একটি উন্নত দেশে যেখানে এ রোগে একজন শিশু মারা যায়, সেখানে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মৃত্যু ঘটে ২শ’ শিশুর। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রতিবছর প্রায় ১১ মিলিয়ন শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকে। এ রোগে আক্রান্ত শিশুকে চিকিৎসা দেয়া না হলে একদিকে মৃত্যু অনিবার্য হয়ে পড়ে, অন্যদিকে বেঁচে থাকলেও তাকে বরণ করে নিতে হয় পঙ্গুত্ব। এতে বেঁচে থেকেও তারা পরিবার ও কমিউনিটির বড় বোঝা হয়ে পড়ে। নতুন নতুন রোগে ধামাচাপা পড়লেও বাংলাদেশেও নিউমোনিয়ার প্রকোপ রয়ে গেছে। আক্রান্তের আগে ভ্যাকসিন নিতে পারলে নিউমোনিয়ায় মৃত্যুর ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।
নিউমোনিয়া রোগের প্রাথমিক কারণগুলোর মধ্যে স্ট্রেপ্টোকক্কাস নিউমোনি এবং হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জি টাইপ বি (হিব)-এর প্রতিরোধের জন্য আছে নিরাপদ এবং কার্যকর টিকা। সম্প্রতি ‘হিব’-এর টিকা স্বল্প আয়ের দেশগুলোতে বাড়ানো হয়েছে। |