আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

পাইলস

পাইলস অতিপরিচিত একটি রোগ, যা অর্শ্ব নামেও পরিচিত৷ এ রোগটি উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের শহুরে জীবনযাপনে অভ্যস- লোকের মাঝেই বেশি দেখা যায়৷ জীবনে কম বেশি পাইলসের সমস্যায় ভোগেননি এরূপ লোকের সংখ্যা খুব কম। সাধারণত কম পানি, কম শাকসবজি, বেশি চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া এবং সময়মতো মলত্যাগ না করায় এ রোগ হয়ে থাকে।

পাইলস কি
পাইলস বলতে বোঝায়, মলদ্বারে ফুলে ওঠা মাংসপিণ্ড বা গ্যাজ। অসংখ্য শিরা মিউকাস ঝিল্লির তলায় ফুলে ওঠার কারণে মাংসপিণ্ড ফুলে ওঠে এবং কখনো কখনো রক্ত যায়। পাইলসের চিকিৎসা বিজ্ঞানের নাম হলো হেমোরয়েড। হেমোরয়েড অর্থ হলো টয়লেটে রক্ত যাওয়া। অভ্যন-রীণ পাইলসে মাংসপিণ্ড না থাকলেও প্রচুর রক্ত যেতে পারে। আবার অনেক বড় গ্যাজ আছে কিন্তু রক্ত নাও যেতে পারে। এ রক্ত যাওয়ার আবার তারতম্য আছে। তবে সাধারণত কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস পরপর রক্ত যায়। শিশুদের পাইলস হলে বড়দের চেয়ে বেশি রক্ত যায়।

লক্ষণ
পায়খানার সময় বিশেষ করে কষা পায়খানার সময় পাইলসের রক্তনালী ছিঁড়ে যায় এবং রক্তক্ষরণ হয়৷ পায়খানার সময় ব্যথামুক্ত, টাটকা রক্তক্ষরণই পাইলসের প্রধান ও প্রাথমিক লক্ষণ৷ তবে ধীরে ধীরে চিকিৎ‌সার অভাবে এ রোগ জটিল আকার ধারণ করে ও অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিতে পারে৷ যেমন-

ক. পাইলস মলদ্বারের বাইরে বের হয়ে আসা,
খ. বের হওয়ার পর ভেতরে না প্রবেশ করা,
গ. ব্যথা ও ইনফেকশন দেখা দেয়া ইত্যাদি৷

চিকিৎসা:
পাইলস রোগের উপসর্গ বা জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসা জরুরি৷ প্রাথমিক পর্যায় অর্থাৎ শুধু শক্ত পায়খানার সময় ব্যথামুক্ত রক্তক্ষরণ হলে যে সব বিষয়ে নজর রাখা দরকার।

 

১. পায়খানা নরম ও নিয়মিত রাখা৷

২. প্রয়োজন হলে ইসুবগুলের ভুষি বা লেকজেটিভ খাওয়া৷

৩. প্রচুর পানি ও শাকসবজি খান, চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করা৷

৪. নিয়মিত মল ত্যাগ করা

 

জটিল আকার ধারণ করলে অর্থাৎ পাইলস বেরিয়ে আসলে তখন ব্যান্ড লাইগেশন ও ইনজেকশন একটি কার্যকর সফল চিকিৎসা পদ্ধতি৷ এটা ব্যথামুক্ত এবং রোগীকে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয় না৷ এর চিকিৎসা হিসেবে আদিকাল থেকে বিভিন্ন পদ্ধতি চলে এসেছে যেমন ইনজেকশন পদ্ধতি, রিংলাইগেশন পদ্ধতি এবং অপারেশন। ইনজেকশন পদ্ধতি ১৮৬৯ সনে আমেরিকায় শুরু হয়। এ পদ্ধতিটি প্রাথমিক এবং ছোট পাইলসে ভাল ফল দেয় কিন' সফল দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এরপর ১৯৬২ সালে ইংল্যান্ডে রিংলাইগেশন পদ্ধতি আবিষ্কার হয়। রিংলাইগেশন পদ্ধতির ফলাফল খুব ভাল। ৮০-৯০ ভাগ পাইলস রোগী এ পদ্ধতিতে ভাল হন। কিন্তু শতকরা ১০-২০ ভাগ রোগীর অপারেশন প্রয়োজন।অধ্যাপক ডাঃ এন্টনিও লংগো, অধ্যাপক সার্জারি, ইউনিভার্সিটি অব প্যালেরমা, ইটালি ১৯৯৩ সালে একটি অত্যাধুনিক পদ্ধতি আবিষ্কার করেন যেটির মাধ্যমে অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে মলদ্বার না কেটে পাইলস অপারেশন করা হয়।
অত্যাধুনিক অপারেশনের মাধ্যমে এ রোগ হতে নিরাময় পাওয়া সম্ভব। তবে নিয়ন্ত্রিত জীবন যাপনে পাইলস রোগ হওয়ার আশংকা কম থাকে।

ফয়সাল আকবর
২৫-০৮-০৯