ইমান উদ্দিন ইমন
প্রায় সাত বছর পর খুব শিগগিরই দেশে আড়াই সহস্রাধিক নার্স নিয়োগ হচ্ছে। নার্স নিয়োগের যাবতীয় প্রস্ততি সম্পন্ন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ২ হাজার ৬৩৯টি শূন্য পদের বিপরীতে নার্স নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য আজ মন্ত্রিপরিষদে পেশ করা হচ্ছে। বর্তমানে নার্স সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবায় বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় নিয়োগবিধি অনুসরণ করলে অনেক সময় লেগে যাবে। তাই মন্ত্রণালয় থেকে মন্ত্রিপরিষদের কাছে বিশেষ ব্যবস্থায় অনুমোদনের জন্য বলা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন পেলে সেবা পরিদফতরের পরিচালক জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে চাকরি ইচ্ছুক প্রার্থীদের আবেদনপত্র গ্রহণ করবেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই নার্স নিয়োগ সম্পন্ন হবে। ব্যাচ, মেধা, কোটা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে এ নিয়োগ দেয়া হবে। ২০০৩ সালে জোট সরকারের আমলে সর্বশেষ নার্স নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে দেশে বেকার নার্সের সংখ্যা ৮ হাজার ৩শ। দীর্ঘ সময় নার্স নিয়োগ না করায় অনেক নার্সের বয়স স্বাভাবিক সরকারি চাকরির বয়স পেরিয়ে গেছে। তাদের সুযোগ করে দিতে চাকরিপ্রার্থীদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৬ বছর করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সেবা পরিদফতরে গত দেড় দশক ধরে সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ দেয়ার ক্ষেত্রে নিয়োগবিধি লংঘন করা হচ্ছে। নিয়োগবিধি অনুসারে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নার্স নিয়োগ করার বাধ্যবাধতা থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকারের আমলে (বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২ বার ও বিএনপি সরকারের আমলে ১ বার) সেবা পরিদফতরে ব্যাচ, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়। ৩ ডিসেম্বর সচিব কমিটির বৈঠকে ব্যাচ, মেধা, কোটা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সিনিয়র স্টাফ নার্স পদে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছিল। কমিটির বৈঠকে তা অনুমোদন না দিয়ে ৭৯ সালের নিয়োগবিধি অনুসরণ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৯০ এর দশকের শুরুতে সেবা পরিদফতরে নার্স নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে পদের বিপরীতে আবেদনপত্র পাওয়া যেত না। স্বল্পসংখ্যক নার্স এ পেশায় আসায় তখন আবেদন করলেই নার্সের চাকরি হয়ে যেত। নার্সের সংখ্যা কম থাকায় তখন ব্যাচ, মেধা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হতো। নিয়োগবিধি অনুসরণ করা হতো না। কিন্তু বর্তমানে অবস্থা পাল্টে গেছে। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে অর্ধশত নার্সিং ইন্সটিটিউট গড়ে উঠেছে। নার্সিং শিক্ষা শুধু ডিপ্লোমাই সীমাবদ্ধ নেই, বিএসসি ইন নার্সিং সংযোজন হয়েছে। তাই বর্তমান প্রজন্মের নার্সিং শিক্ষার্থীরা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ পেতে চান। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, পুরনো নার্সদের মধ্যে যারা রয়েছেন তারা এবার শেষবারের মতো ব্যাচ, মেধা, কোটা ও জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে নিয়োগ পাবেন। আগামীবার থেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নার্স নিয়োগের ব্যাপারটি নিশ্চিত।
|