জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (০৫ ফেব্রুয়ারী, শনিবার): হাতীবান্ধায় নিপাহ ভাইরাসের কারণে মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনকেফালাইটিসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ইতিমধ্যে লালমনিরহাটসহ আক্রান্ত এলাকায় সতর্কতা বার্তা পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আ ফ ম রুহুল হক জার্মানভিত্তিক সংবাদ সংস্থা ডয়চে ভেলেকে এ তথ্য জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা ছাড়া আর কোথাও এ ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ ভাইরাস যেন সারা দেশে ছড়িয়ে না পড়তে পারে তাই দেশের সিভিল সার্জন অফিসকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। এ পর্যন্ত এ রোগে মৃতের সংখ্যা ২১ জন।
এ প্রসঙ্গে রোগতত্ত্ব্ব ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর’বি) পরিচালক ডা. মাহমুদুর রহমান জানান, বাদুড় ছাড়াও শূকর থেকে এ ভাইরাস ছড়াতে পারে। তিনি সবাইকে বাদুড়ের খাওয়া ফল ও খেজুরের রস না খাওয়ার পরামর্শ দেন। নিপাহ ভাইরাসকে ডেইলি ভাইরাস বলা হলেও আরেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. এম মোশতাক হোসেন এতে আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
আইইডিসিআর এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের আটজন বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তার একটি দল শুক্রবার ওই এলাকা সফরে যান। তাঁরা তথ্য সংগ্রহ করে দেখেছেন, এনকেফালাইটিসে আক্রান্ত ও মৃত ব্যক্তিদের অধিকাংশ কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিল।
ভাইরাস বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বাদুড় খেজুরের রস খাওয়ার সময় ভাইরাস ছড়ায়। সেই রস পান করলে মানুষও ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। একইভাবে কাঁচা পেয়ারা, বরই বা অন্য ফল থেকে সংক্রমণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপাহর মতো একাধিক ভাইরাসের কারণে এনকেফালাইটিস বা মস্তিষ্কের প্রদাহ হয়। এনকেফালাইটিসে তীব্র জ্বর, মাথা ব্যথার পাশাপাশি ঘাড় ও পিঠ শক্ত হয়ে যায়। বমির ভাব হয়। আক্রান্ত ব্যক্তি আলো সহ্য করতে পারে না। তীব্রতা বাড়লে হঠাৎ হূৎক্রিয়া বন্ধ হতে পারে। মানুষ পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে যেতে পারে।
বিজ্ঞানী ও ভাইরাস বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপাহ ভাইরাস খুবই প্রাণঘাতী। এতে মৃত্যুহারও খুব বেশি।
আইইডিসিআর সূত্র জানায়, ২০০১ সালে মেহেরপুর জেলায় প্রথম নিপাহ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
মাহমুদুর রহমান বলেন, যেকোনো ফল ধুয়ে খেতে হবে। অর্ধ খাওয়া ফল খাওয়াই যাবে না। তিনি বলেন, বাদুড় দূরে রাখারও উদ্যোগ নিতে হবে। আক্রান্ত ব্যক্তির লালা ও হাঁচি-কাশি থেকে এই ভাইরাস ছড়ায়। সুতরাং আক্রান্ত ব্যক্তির বিছানা পৃথক হওয়া বাঞ্ছনীয়।
স্বাস্থ্যসচিব মো. হুমায়ুন কবির বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় পরিস্থিতির ওপর সারাক্ষণ দৃষ্টি রাখছে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় জেলা ও উপজেলা হাসপাতালকে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, মানুষের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রথম ধরা পড়ে ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায়। এরপর ১৯৯৯ সালে সিঙ্গাপুরে। দুই দেশে তখন ২৭৬ জন মারা যায়।
উপসর্গ
বিশেষজ্ঞদের মতে এ রোগের উপসর্গগুলো হলো-
আক্রান্ত ব্যাক্তি সাধারন জ্বর, মাথাব্যাথার পাশাপাশি সারাশরীরে ব্যাথা অনুভব করবে। কখনো সখনো বমি বা সর্দিকাশিও হতে পারে। তবে কারো কারো ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো নিউমোনিয়ার ক্ষেত্রে যে সমস্যা হয় সেরকম হতে পারে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের ক্ষেত্রে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। |