আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

দেশের প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ লিভারের রোগে আক্রান্ত

আমারহেলথ (৩০ অক্টোবর, শনিবার): লিভারের রোগ এখন বাংলাদেশের অন্যতম বড় স্বাস্থ্য সমস্যা। দিন দিন এ রোগের প্রবণতা বাড়ছে। বর্তমানে দেশে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ লিভারসংক্রান্ত জটিলতায় ভূগছে। এর মধ্যে দেড় কোটি মানুষ লিভারের দীর্ঘস্থায়ী রোগ হেপাটাইটিস-বি এবং আট লাখ মানুষ হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসে আক্রান্ত।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হেপাটোলজি সম্মেলনে এ ব্যাপারে যাবতীয় তথ্য প্রকাশ করা হয়।
ত্রতে জানানো হয়, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ জীবনের কোনো না কোনো সময় হেপাটাইটিস-বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া লিভার সিরোসিস, লিভার ক্যান্সার, ফ্যাটি লিভার, ‘এ’ ও ‘ই’ ভাইরাসজনিত লিভার রোগ, পরজীবীজনিত লিভার রোগসহ লিভারের অন্যান্য রোগে আক্রান্ত।
সম্মেলনে সারা দেশের সহস্রাধিক মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি এবং অন্যান্য বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অংশগ্রহণ করেন।
রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে হেপাটোলজি সোসাইটি বাংলাদেশ-এর আয়োজনে এ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান। সভাপতিত্ব করেন লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মবিন খান।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন হেপাটোলজি সোসাইটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ কে এম খোরশেদ আলম, মহাসচিব ডা. মো. মোতাহার হোসেন, কোষাধ্যক্ষ ডা. মো. গোলাম মোস্তফা। আন্তর্জাতিক এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর চিকিৎসকদের জন্য আলাদা পাঁচটি বৈজ্ঞানিক অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
যুক্তরাজ্যের অধ্যাপক সিমন টেলর রবিনসন, অধ্যাপক ডেসমন্ড জনস্টন, অধ্যাপক ল্যাডিস্লো জেড্রয়েক ও অধ্যাপক ম্যাথিও ই ক্র্যাম্প, হংকংয়ের ডা. ডবি্লউ ওয়াই ন্যান্সি লিয়ং এবং সিঙ্গাপুরের ডা. ট্যান ইউ মেং ও ডা. ওয়াই চুন টাও (ডেসমন্ড), বাংলাদেশের প্রখ্যাত ভাইরোলজিস্ট বিএসএমএমইউয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, বারডেমের হেপাটোবিলিয়ারি ও ট্রান্সপ্লান্ট সার্জন অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
জাতীয় অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বলেন, লিভার রোগ দেশের স্বাস্থ্যের ওপর বিশাল বোঝা হলেও স্যানিটেশন ব্যবস্থা ও ব্যক্তিগত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা উন্নয়নের মাধ্যমে অধিকাংশ রোগই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে জনসচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
তিনি আরো বলেন, দেশের জনগোষ্ঠীর ৫ থেকে ৮ শতাংশ মানুষ হেপাটাইটিস-বি এবং শতকরা এক ভাগের কম মানুষ হেপাটাইটিস-সি ভাইরাসে আক্রান্ত। দেশে লিভার রোগের অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও সব ধরনের চিকিৎসাব্যবস্থা চালু আছে। ইতিমধ্যে দেশে লিভার ট্রান্সপ্লান্টও সফলভাবে শুরু হয়েছে। সব পরীক্ষা-নিরীক্ষাও এখানে হয়। ওষুধপথ্য সারা পৃথিবীতে যা আছে, বাংলাদেশেও তা আছে। তাই বিভ্রান্ত না হয়ে সময়মতো চিকিৎসা নিলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আরোগ্য লাভ করা যায়।
অধ্যাপক মবিন খান দেশে লিভার রোগের প্রাদুর্ভাবের মারাত্নক চিত্র তুলে ধরেন এবং তা প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টি ও চিকিৎসায় সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে দেশি বিশেষজ্ঞদের অবহিত করার বিষয়ে সোসাইটির ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।