
আমারহেলথ (০৮ ডিসেম্বর, বুধবার): দেশে প্রতিবছর এক কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়। ৪০ হাজার রোগীর কিডনি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়, মারা যায় প্রায় ৩০ হাজার। কিডনি বিকল হওয়া রোগীদের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং সময়মতো কিডনিদাতা না পাওয়ায় প্রতিবছর মৃতের সংখ্যা বাড়ছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ফাউন্ডেশনের ষষ্ঠ বার্ষিক সম্মেলন ও আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
‘মৃত্যুর পর কিডনি দান করুন, কিডনি অকেজো রোগীর জীবন বাঁচান’—এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞরা জানান, উন্নত দেশগুলোয় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির কিডনি দানের মাধ্যমে কিডনি বিকল হওয়া রোগীদের কিডনি সংযোজন হচ্ছে। এতে সফলতার হার ৯০-৯৫ শতাংশ। তবে দেশে এখনো মরণোত্তর কিডনি সংযোজন চালু হয়নি। এ পদ্ধতি দ্রুত চালু হলে বিকল হওয়া কিডনি রোগীদের বাঁচানো সম্ভব হবে।
আয়োজকেরা জানান, দুই বছর ধরে এই ফাউন্ডেশন মৃত ব্যক্তির কিডনি দানের মাধ্যমে কিডনি সংযোজনের চেষ্টা চালাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন, ‘সরকার কমিউনিটি ক্লিনিকের ওপর জোর দিচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সেখানে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হলে কিডনি ফেইলিওরের মতো জটিল রোগে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসবে।’
জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান বলেন, মুমূর্ষু অবস্থায় যেসব রোগী মারা যায়, অনুমতি নিয়ে তাদের কিডনি সংগ্রহ করা যেতে পারে। যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে এসব কিডনি অন্য রোগীর দেহে প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। এতে হাজার হাজার কিডনি বিকল মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচানো যাবে।
ফাউন্ডেশনের সভাপতি হারুন আর রশিদ বলেন, একজন মৃত ব্যক্তি একসঙ্গে পাঁচজনের জীবন বাঁচাতে পারেন। তাঁর দুটো কিডনি দুজন, যকৃত একজন, ফুসফুস একজন ও হূৎপিণ্ড একজনের দেহে প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে এ কাজ করা সম্ভব।
সম্মেলনের প্রথম দিনে কিডনি সংযোজন, কিডনি রোগের চিকিৎসা, প্রতিকার ও প্রতিরোধের উপায় নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের আলোচনা হয়। সিঙ্গাপুর, জাপান, জার্মানি, পাকিস্তান, ভারতসহ কয়েকটি দেশের বিশেষজ্ঞরা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। অনুষ্ঠানে কিডনি ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মুহিবুর রহমান, সহসভাপতি এম এ ওয়াহাব, ব্যবস্থাপনা পরিচালক টিনি ফেরদৌস রশিদ প্রমুখ বক্তব্য দেন। |