আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

বিশ্বে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে বছরে ১০ মিলিয়ন লোক মারা যায়

২৭ এপ্রিল, আমারহেলথ: হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে প্রতি বছর বিশ্বে ৪০০ মিলিয়ন লোক আক্রান্ত হয়। ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন এর মতে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে প্রতি বছর ৬লক্ষ লোক মারা যায়।


দুষিত রক্তের সিরিঞ্জ, যন্ত্রপাতি ও এই রোগে আক্রান্ত মানুষের ঘনিষ্ট্য এই রোগের প্রধান কারন। তবে হাসপাতালে ব্যবহার্য অপারেশনের যন্ত্রপাতি,পরিস্কার-পরিচ্ছনতার অভাব হলেও এই রোগের বিস্তার ঘটতে পার বলে জানান বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার রোগ বিশেষজ্ঞ ডা: মবিন খান।

হেপাটাইটিস বি একটি DNA ভাইরাস। ১৯৬৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসীর রক্ত পরীক্ষা করে ডা. ব্লুমবার্গ (Bloom Barg) HBsAg বি ভাইরাস আর্টিকেল আবিস্কার করেন,যা পরবর্তীতে বি ভাইরাস নামে অভিহিত হয়।

 

লিভার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব প্রফেসর ডা: মোহাম্মদ আলী বলেন, বাংলাদেশে প্রতি ১২ জনে একজন হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত।হেপাটাইটিস বি ভাইরাস একটি মারাত্মক লিভার সমস্যা যা এইডসেরচেয়েও ভয়ংকর। এটি এক ধরনের সংক্রামক রোগ।

 

ডা: মবিন জানান,জন্ডিস হেপাটাইটিস বি ভাইরাসের প্রাথমিক পর্যায়। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মানুষের অজান্তে শরীরে ঢুকে যেতে পারে। কারন মানুষের দেহে কখন ভাইরাস প্রবেশ করে তা ৭৫ ভাগ মানুষ জানতে পারে না। শুধুমাত্র কোন কারনে রক্ত পরীক্ষা করলেই এই ভাইরাস ধরা পড়ে।

 

শিশুদের ক্ষেত্রে অবস্থাটা ভিন্ন। গর্ভবতী মা শেষের তিনমাসে বি ভাইরাসে আক্রান্ত থাকলে এবং তার দেহে যদি বি ভাইরাস বংশ বিস্তার করে তাহলে নবজাতক শিশুর ৯০ ভাগ বি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে। শুধু তাই নয়, এই ধরনের মায়ের গর্ভজাত সন্তান দুরারোগ্য দীর্ঘমেয়াদী লিভারের প্রদাহে আক্রান্ত হয়ে ধুকে ধুকে মরার আশংকা ৯৫ ভাগ।

 

সাধারণত বি ভাইরাসে আক্রান্ত ৮৫ ভাগ রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবন- যাপন করলে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। কেবল ১৫ ভাগ লোক যারা দীর্ঘমেয়াদী লিভারের প্রদাহে আক্রান্ত হন ।
দীর্ঘমেয়াদী এই প্রদাহের ফলে লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যান্সারের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। বাংলাদেশে কতজন লোক বছরে বি ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে তা সঠিক বলা যাবে না।
জন্ডিসে আক্রান্ত রোগীদের পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, দেশের শতকরা ২৮ জন জন্ডিসে আক্রান্ত। তবে ভাইরাল হেপাটাইটিসের রোগী বি ভাইরাস জনিত জন্ডিসের রোগে ভোগে। লিভার সিরোসিস আক্রান্ত রোগীদের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শতকরা প্রায় ৪০ভাগ ক্ষেত্রে এই সিরোসিস হয় বি ভাইরাসের কারনে। লিভার ক্যান্সারের ক্ষেত্রে শতকরা ২০-৫০ ভাগ রোগী বি ভাইরাস জনিত লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়।

তীব্র ভাইরাল হেপাটাইটিস বা জন্ডিসে যারা আক্রান্ত হয় তাদের রক্তে পরীক্ষার মাধ্যমে বি ভাইরাস ধরা পড়ে। কখনও দীর্ঘ মেয়াদী প্রদাহে আক্রান্ত হলে বিভিন্ন প্রকারের উপসর্গ নিয়ে রোগী আসতে পারে বলে জানান ডা. মবিন।তিনি বলেন  ক্ষুধামন্দা, অরুচী,বদহজম,কখন ও কখন ও জন্ডিস ,পেটে পানি,শরীর দুর্বলতা, শরীর ক্ষীনতা এই ধরনের উর্পসর্গ নিয়ে হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন।

লিভার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব প্রফেসর ডা: মোহাম্মদ আলী হেপাটাইটিস বি ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন, অনৈতিক সম্পর্ক না জড়ানো, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, ডিসপোজেবল সুই-ইনজেকশন ব্যাবহার করা এবং দাড়ি কামানোর সময় জীবাণুমুক্ত ব্লেড ব্যাবহারের পরামর্শ দেন।