আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

হৃদরোগের চিকিৎসায় আরেক ধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ

জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (২০ মার্চ, রবিবার): চিকিৎসা ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আরেক ধাপ অগ্রগতি সাধিত হলো। জন্মগত হৃদরোগীদের ভেতর হৃৎপিণ্ডের উপরিভাগের প্রকোষ্ঠ বা অলিন্দের পর্দার ত্রুটিযুক্ত রোগীদের ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ অস্ত্রোপচারের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত বেশি নিরাপদ ও স্বল্পব্যয়ী পদ্ধতি শুরু হয়েছে বাংলাদেশেই।
গত ৫ মার্চ এ্যাপোলো হসপিটালস, ঢাকার কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. মো. কামরুল ইসলাম তালুকদারের নেতৃত্বে একটি দল এই সার্জারি সম্পন্ন করে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, নতুন পদ্ধতির এ চিকিৎসায় রোগীর বুকের মধ্যখানে না কেটে ডানদিকে অল্প কেটে কসমেটিক সার্জারির মাধ্যমে রোগীকে দ্রুত সুস্থ করে তোলা হয়। হৃদযন্ত্রের প্রকোষ্ঠে বা ভাল্বের ত্রুটি সারাতে মিনিমালি ইনভেসিভ বা কসমেটিক পদ্ধতিতে কার্ডিয়াক বা হার্ট সার্জারি উন্নত বিশ্বে খুবই প্রচলিত। এ সার্জারিতে আমেরিকাসহ অন্যান্য দেশে জনপ্রতি প্রায় ৩০ হাজার মার্কিন ডলার ব্যয় হলেও বাংলাদেশে ব্যয় হয় মাত্র দুই থেকে আড়াই লাখ টাকার মতো।
এ্যাপোলো হসপিটালস, ঢাকার কার্ডিওথোরাসিক সার্জন ডা. মো. কামরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, সাধারণত জন্মগত হৃদরোগীদের মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশেরই হৃৎপিণ্ডের অলিন্দের পর্দায় ত্রুটি দেখা দেয়। এটা হৃৎপিণ্ডের একটি জন্মগত ত্রুটি, যা সাধারণত শিশুরা বেড়ে ওঠার বা নারীদের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পরে ধরা পরে। পুরুষদের মধ্যেও এ রোগ রয়েছে। রোগীরা সাধারণত প্রাপ্তবয়সে এ রোগ নিয়ে চিকিৎসকের কাছে আসে। প্রথাগত পদ্ধতিতে বুকের মাঝ বরাবর কেটে, বুকের মধ্যচ্ছদা ছিদ্র করে, বুক চিরে এই সার্জারি করা হয়। এ ছাড়া বুকের ডানদিকে কেটে 'থোরাকোটমি' পদ্ধতিতেও এ দেশে এর আগে সার্জারি করা হয়েছে। তবে নতুন পদ্ধতিতে অত্যন্ত নিরাপদ উপায়ে ডান বুকে ছোটভাবে কাটার মাধ্যমে 'মিনিমালি ইনভেসিভ' কসমেটিক সার্জারি হিসেবে এই চিকিৎসা এ দেশে একেবারেই নতুন।
ডা. মো. কামরুল ইসলাম তালুকদার জানান, গত ৫ মার্চ এ্যাপোলো হসপিটালস, ঢাকার এক নারী রোগীকে এ পদ্ধতিতে সফল সার্জারি করা হয়। এতে সুবিধা হলো, রোগী দ্রুত আরোগ্য লাভ করে এবং মধ্যচ্ছদার ক্ষত থেকে পরবর্তী ঝুঁকি হ্রাস পায়। উপরন্তু, ডান বুকের ওপর ছোট কাটা দাগের ক্ষত পরবর্তী সময়ে বোঝা যায় না। উন্নত বিশ্বে এই পদ্ধতি নারী রোগীদের কাছে খুবই গ্রহণযোগ্য।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. অসীত বরণ অধিকারী বলেন, 'বাংলাদেশে অনেকেই নিত্যনতুন পদ্ধতিতে হৃদরোগের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচার করে থাকেন। আমি সাধারণত থোরাকোটমি অনুসরণ করি। মিনিমালি ইনভেসিভ করি না। তবে আরো কয়েকজন মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতি অনুসরণ করেন বলে জানি। ডা. কামরুল ঠিক কোনভাবে মিনিমালি ইনভেসিভ সার্জারি করেন এটা আমার জানা নেই।'
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের অবসরপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. আবুল হোসাইন খান বলেন, বুকের মধ্যখানে না কেটে ডানপাশে অল্প কেটে হৃৎপিণ্ডের সার্জারি পদ্ধতি এ দেশে নতুন। হাতে গোনা দু-একজন চিকিৎসক এ পদ্ধতি অবলম্বন করতে সক্ষম। এটা বাংলাদেশের চিকিৎসা ক্ষেত্রে আরেক ধাপ অগ্রগতি।