
জাফর সাদেক শিবলী
আমারহেলথ (২৬ সেপ্টেম্বর, রবিবার): দেশে হৃদরোগের ধরন দিনে দিনে বদলাচ্ছে। তার সাথে বদলাচ্ছে বয়সসীমাও। আগে ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের অনেকে হৃদরোগ হতো। এখন বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সীরা। পূর্বে হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপজনিত হৃদরোগের প্রকোপ ছিল বেশি। এখন অনেকেই রক্তনালির প্রতিবন্ধকতাজনিত ইস্কেমিক হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এ ছাড়া কমপক্ষে সাত ধরনের হৃদরোগের সন্ধান মিলেছে দেশে।
হৃদরোগ চিকিৎসায় দেশের একমাত্র বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ‘জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল’-এ চিকিৎসা নিতে আসা এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রোগীদের রোগের ধরন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। আর এ বাস্তবতায় আজ রবিবার পালিত হয়েছে বিশ্ব হার্ট দিবস।
হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা জানান, লাগামহীন জীবনযাত্রা, ধূমপান, চর্বিযুক্ত খাবার ও দুশ্চিন্তা থেকে হৃদরোগের প্রকৃতি বদলাচ্ছে। এ ছাড়া নারীদের চেয়ে পুরুষরাই হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।
ওদিকে দেশে হৃদরোগের চিকিৎসার সুযোগের অভাব, চিকিৎসায় অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, রাজধানীর বাইরে হৃদরোগের কোনো চিকিৎসা নেই বললেই চলে। রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার অভাব।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ১৬ দশমিক ৮৮ শতাংশই ইস্কেমিক হৃদরোগী।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল হোসেইন খান বলেন, হার্টকে সচল রাখতে যে পরিমাণ খাবার প্রয়োজন, রক্তনালি বন্ধ থাকলে সে পরিমাণ খাবার সেখানে পৌঁছাতে পারে না। তখন হার্টকে সচল রাখতে পাম্পও আর কাজ করতে পারে না। তখনই মানুষ ইস্কেমিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়। ব্লকের সংখ্যা বেড়ে গেলে দেখা দেয় হার্ট অ্যাটাক।
তিনি বলেন, লাগামহীন জীবনযাত্রা, ধূমপান, চর্বিযুক্ত খাবার ও দুশ্চিন্তা থেকে এই রোগ দেখা দেয়। ধীরে ধীরে রোগীর শরীরে রোগটির ওষুধের কার্যকারিতা কমে আসতে থাকে। একসময় ওষুধ বা খাদ্যও রক্তনালিকে প্রসারিত করতে পারে না।
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. আফজাল হোসেন জানান, ধূমপান, চর্বিযুক্ত খাবার, ডায়াবেটিস, এমনকি কিডনির রোগ থেকেও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারেন কেউ। এ থেকে হার্টফেল বা স্ট্রোকও ঘটতে পারে। কিডনিও অকার্যকর হতে পারে। তিনি বলেন, উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে তাই ওষুধ খেতেই হবে। অনেক সময় রোগ সেরে গেলেও ওষুধ বন্ধ করা যাবে না।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বয়সের তারতম্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, সাধারণত ৪০ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মানুষ ধীরে ধীরে বিশ্রামে যেতে থাকেন। শরীরে অলসতা ভর করে। ফলে হৃদরোগে আক্রান্তের প্রবণতাও বাড়ছে। আগে রোগটি বাড়ত দুশ্চিন্তা থেকে। তখন বয়স ছিল ৩০ থেকে ৩৯ বছর। তাঁরা আরো বলেন, নারীরা ধূমপান কম করেন, লাগামহীন জীবনযাপন কম ও দুশ্চিন্তাও কম করেন। ফলে তাঁদের মধ্যে হৃদরোগের প্রবণতাও কম।
দিনটি উপলক্ষ্যে জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতাল প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বিনা মূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা, হার্ট ক্যাম্প, ফ্রি ইসিপি ওয়ার্কস্প এবং সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী জি এম কাদের। |