বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালের ৩৮ জন মেডিকেল অফিসার এবং ৪ জন সহকারী অধ্যাপকের চাকরিচ্যুতি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই তাদের কাছে চাকরিচ্যুতির চিঠি পৌঁছে দেয়া হবে বলে জানা গেছে। শুধু তাই নয়, বিএসএমএমইউ’র আরও ৩০৯ চিকিৎসক ও কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুতি কিংবা পদাবনতির পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। এ নিয়ে চিকিত্সক কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কর্তৃপক্ষ নিজে না করে সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে এ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এদের মধ্যে রয়েছেন ৭ জন অধ্যাপক, ১৬ জন সহযোগী অধ্যাপক, ১১ জন সহকারী অধ্যাপক, ৬১ জন পরামর্শক, ১৯৮ জন মেডিকেল অফিসার ও ১৬ জন কর্মকর্তা। বিএসএমএমইউ সূত্র জানায়, যাদের চাকরিচ্যুতি ও পদাবনতি করার তালিকা করা হয়েছে তাদের বেশিরভাগই জাতীয়তাবাদী সমর্থিত। এদিকে গত শনিবার ড্যাব সমর্থিত চিকিৎসকরা ও বিএসএমএমইউ’র ভিসি অধ্যাপক প্রাণ গোপালের সঙ্গে দেখা করে বিএসএমএমইউ’র শুরু থেকে সব অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্ত এবং সংসদীয় উপ-কমিটিতে পাঠানো একপক্ষীয় তদন্ত রিপোর্ট বাতিলের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন।
বিএসএমএমইউ সূত্র জানায়, বেশ কিছুদিন ধরে বিএসএমএমইউ হাসপাতালের বেশিরভাগ চিকিৎসকের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আর এ আতঙ্কের কারণে চিকিৎসকরা ও সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না। তবে হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, বিএসএমএমইউকে মহাদলীয়করণ করার জন্যই এ পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারী সকালে ড্যাব সমর্থিত চিকিৎসক ও ভিসি প্রাণ গোপাল দত্তের সঙ্গে দেখা করলে তিনি তাদের জানান, খুব শিগগিরই ৩৮ জন মেডিকেল অফিসার ও ৪ জন সহকারী অধ্যাপককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। কারণ তাদের নিয়োগের এক বছরেও নিয়মিত করা হয়নি। তাত্ক্ষণিকভাবেই এ বিষয়ে ভিসিকে জানানো হয়, দশম সিন্ডিকেট সভায় ২৫ জন চিকিৎসককে দুই বছর পর নিয়মিত করা হয়। তাদের অনেকেই বর্তমানে চাকরিরত।
গত বৃহস্পতিবার ১৮ ফেব্রুয়ারি বিএসএমএমইউ’র মিলন হলে চিকিৎসকদের এক সভায় প্রাণ গোপাল দত্ত চিকিত্সকদের উদ্দেশে বলেন, যেসব চিকিৎসকরা মনে দুর্বলতা রয়েছে, যারা অনিয়ম করে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন তারা যেন নিজ থেকেই চলে যান।
এদিকে, হাসপাতালে বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের যাতে মিথ্যা অভিযোগ এনে চাকরিচ্যুত করতে না পারে এ ব্যাপারে তারা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত শনিবার ২০ ফেব্রুয়ারি তারা ভিসি বরাবর একটি স্মারকলিপিও পেশ করেছেন। এর মধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি নিউ ইস্কাটনে বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসক, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১/১১ পরবর্তী তথ অবৈধ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আরম্ভ হওয়া অবৈধ নজরুল কমিটির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও বিধি উপেক্ষা করে স্বাস্থ্যবিষয়ক সংসদীয় উপ-কমিটির মাধ্যমে বাস্তবায়নের প্রচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির উপ-কমিটির তদন্ত রিপোর্টের ব্যাপারে ভিসি অধ্যাপক প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, ওই কমিটির কোনো রিপোর্ট এখনও তিনি পাননি। কমিটি তাকে সুপারিশ করতে পারে। যদি সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট তিনি পান তাহলে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলবেন। রিপোর্টে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হবে, তাদের প্রত্যেককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয় কারও প্রতি অন্যায় করবে না বলে তিনি জানান। |