আমার পরিবেশ হেলথ পলিটিক্স ফার্মাসিউটিক্যাল আমার বিনোদন হেলথ এনজিও বিউটি এন্ড ফিটনেস আমার ডাক্তার হসপিটাল মেডিকেল কলেজ

ডাক্তার সংকটে দেশের ৬৭ কারা হাসপাতাল

হাসান শাহরিয়ার: ডাক্তার সংকটে অচল হয়ে পড়েছে দেশের সবকটি কারা হাসপাতাল ।মাত্র ১৪ জন ডাক্তার দেশের ৬৭ হাসপাতালে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত। অবিশ্বাস্য হলেও এটি সত্য। একদিকে ডাক্তার সংকট,অপরদিকে মাত্রাতিরিক্ত কারাবন্দির কারণে দেশের কারা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে। এমতাবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে ডাক্তার নিয়োগ না দিলে এ সমস্যা আরো প্রকট আকার ধারণ করবে। শুধু ডাক্তার সংকটই নয়, খাদ্যসহ কারাগারে বন্দীদের তুলনায় কারাকক্ষের সংকটও বিদ্যমান। দেশের সব কারা হাসপাতালে চলছে তীব্র চিকিৎসক সংকট । দেশের ৫৭টি কারা হাসপাতালে কোনো চিকিৎসকই নেই। কাজের অত্যধিক চাপ, গভীর রাতেও ডিউটিসহ ঝুঁকি বেশি হওয়ায় কোনো চিকিৎসক কারা হাসপাতালে আসতে চান না।এমনকি হাসপাতালগুলো এখন কারা কর্মচারীদের দখলে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে হাসপাতাল চলছে বন্দিদের ওয়ার্ড দখল করে। ক্ষুদ্র ওয়ার্ডে বন্দি রোগীদের চিকিৎসাসেবা সঠিক সময়ে দিতে হিমশিম খাচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। জেলা কারাগারগুলোতে কোনো চিকিৎসক না থাকায় ওইসব কারাগারের বন্দি রোগীদের পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় কারাগার হাসপাতালে। এ অবস্থায় কারাগারের চিকিৎসা ব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে।
তবে কারা কর্তপক্ষের অনেকে মনে করছেন বিসিএস করা চিকিৎসকদের অন্তত দু বছর প্রেষণে কারা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন বাধ্যতামুলক করা হলে হাসপাতালে চিকিৎসার মান আরো উন্নত হবে। একই সঙ্গে বন্দিদের উন্নততর
চিকিৎসার জন্য ঢাকায় একটি মানসম্মত কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতাল নির্মাণ করা জরুরি বলে মনে করেন তারা। চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের ছয় হাজার হাজতি ও কয়েদির জন্য কারা হাসপাতালে রয়েছেন মাত্র দু'জন চিকিৎসক। এর মধ্যে ডা. মোস্তাফিজুর তিন বছর ধরে এ কারা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি খুলনা কারা হাসপাতাল থেকে বদলি হয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতালে এসেছেন ডা. ফারুক সুলতান। এ কারাগারে বর্তমানে ৫০ বেডের হাসপাতালের কার্যক্রম চলছে বন্দিদের একটি ওয়ার্ডে।
চট্টগ্রাম বিভাগসহ দেশের কারা হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট দিনে দিনে প্রকট হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৬৭টি কারা হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ১৪ জন। এর মধ্যে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতালে চারজন ও চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারা হাসপাতালে দু'জন, কাশিমপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ, দিনাজপুর ও রাজশাহী কারা হাসপাতালে একজন করে চিকিৎসক রয়েছেন। এসব হাসপাতালে ফার্মাসিস্টসহ অন্যান্য লোকবল সংকটও প্রকট। নার্সের কাজ করানো হয় হাজতি কিংবা কয়েদি দিয়ে। অবস্থা সংকটাপন্ন হলে তাৎক্ষণিক উন্নত চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা না থাকায় অকালে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। কারা হাসপাতাল থেকে গুরুতর অসুস্থ হাজতি বা কয়েদিকে স্থানীয় কোনো উন্নত হাসপাতালে নিয়ে যেতেও অনেক ঝামেলার সন্মুখীন হতে হয়।হাতে-পায়ে নিরাপত্তার স্বার্থে ডাণ্ডাবেড়ি পরিয়ে নেওয়া হলে স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাদের চিকিৎসা করাতে অনীহা প্রকাশ করেন।
এ বছরই চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে ১০০ বেডের আধুনিক হাসপাতাল হচ্ছে বলে জানা গেছে। হাসপাতালের নির্মাণ কাজও শেষ পর্যায়ে। এ বছরই চালু হচ্ছে হাসপাতালটি। এতে উন্নত যন্ত্রপাতি এবং ল্যাবরেটরিও থাকবে। ফলে হাসপাতালে বন্দীদের চিকিৎসা সেবা কিছুটা উন্নত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন কারা কর্তপক্ষ।