বর্তমান কালের কিছু জনপ্রিয় মিডিয়া ব্যক্তিত্বের মধ্যে কাজী জামাল বিশেষ স্থান দখল করে আছেন। দেশের জনপ্রিয় সব মডেলদের সাথে ছোট পর্দায় বিজ্ঞাপনের কাজ করার মাধ্যমে মিডিয়া জগতের যাত্রা শুরু করে আজ তিনি বড় পর্দায়ও জায়গা দখল করে নিয়েছেন। দেশের বড় বড় বিজ্ঞাপন নির্মাতারা তাকে নিয়ে বিজ্ঞাপন বানাতেই ব্যস্ত। আর তার এই বিজ্ঞাপন গুলো জনপ্রিয়তা পাচ্ছেও খুব বেশি। কিন্তু সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে এই আলোচিত ব্যক্তিত্বের বয়স। তিনি ৭৮ বছরের এক বৃদ্ধ। কিন্তু দেশের নবীন সব জনপ্রিয় মডেল তারকাদের নিয়ে তার কাজ। কারণ বিনোদনের জন্য আনন্দকে তিনি বড় মনে করেন। আর দর্শকরা যেহেতু আনন্দ প্রেমিক তা্ই তারা এই প্রবীণ তারকাকে গ্রহণ করেছে, প্রিয় ব্যক্তিত্বে । একারণে আশিয়ান সিটির বিজ্ঞাপন করে দেশের অনেক নবীন মডেল তারকার জায়গা দখল করেছে সাবেক সরকারের যুগ্ম সচিব কাজী জামাল। তার সাথে সাক্ষাৎ করেছেন আমার হেলথ অনলাইন পত্রিকার বিনোদন রিপোর্টার তানজিনা আক্তার দিপু। তার সাথে আলোচনার মূল পর্ব নিচে দেয়া হল:
ইষ্টার্ণ প্লাজায় নিজস্ব চেম্বারে খুব আদুরে গলায় আমি তাকে সম্বোধন করেছিলাম দাদু বলে। কিন্তু দাদু বলে নিজেই লজ্জা পেয়ে গিয়েছিলাম। কারণ কিন্তু এই বয়সেও তিনি আমার মত ২০ বছরের তরুণীর চেয়ে সবল, সুস্থ ও উৎফুল্ল। তাই এরকম একজন প্রাণোচ্ছ্বল লোককে দাদু বলতে আমি নিজেই অস্বস্তিবোধ করছিলাম।তার সাথে আমার আলোচনার এক পর্বে আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম-
কেমন আছেন দাদু ?
উত্তর: আল্লাহর রহমতে অনেক ভাল আছি এবং আনন্দে আছি ।
এই বয়সে এখনও বলছেন ভালো আছেন, কিন্তু কিভাবে ?
উত্তর: আসলে মানুষের বয়সটা কোন ব্যাপার নয়, তুমি সুস্থ আছ, মানসিক প্রশান্তিতে আছ ও আনন্দে আছ, তবেই তুমি ভাল থাকতে পারবে।
হঠাৎ করে এবয়সে মিডিয়ায় যোগ দেবার ইচ্ছে হল কেমন করে ?
উত্তর: আসলে আমার সমবয়সী সকল লোকের এখন পরিবারের সাথে সময় কাটানোর কথা। আমাকে অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, আমার তিন ছেলে, দুই মেয়ে সবাই দেশের বাইরে থাকে। আমি ও আমার স্ত্রী দেশে থাকতাম। কিন্তু আমার স্ত্রীর মৃত্যুর পর আমি মানসিকভাবে অনেকটা ভেঙে পড়ি। দেশকে ভালবাসি বলে ছেলেমেয়েদের সাথে দেশের বাইরেও আমার থাকা হয়নি। অনেক আগে থেকে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলাম বলে শেষ বয়সে আবার মিডিয়া জগতেই আনন্দ খুঁজে পেয়েছি। এখন আমি অনেক আনন্দে আছি।
এবয়সে আপনার আলাদা ডায়েটিং দরকার, কিভাবে তা পূরণ করেন ?
উত্তর: শুধু এবয়সে নয়, সব বয়সে ডায়েটিং খুব জরুরি। তবে নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি পুষ্টিকর খাদ্যই সবার কাম্য। তাই নিজেকে সুস্থ-সবল রাখার জন্য এবং শরীরের জন্য আরামদায়ক খাদ্য হিসেবে আমি পুষ্টিকর শাক-সবজিকে বেছে নিয়েছি। প্রতিবেলার খাদ্য তালিকায় আমি যেকোন একটা শবজি রাখতে চেষ্টা করি। সাথে মাছ, মাংস থাকে পরিমিত পরিমাণে। এই খাদ্য গুলো আমার শরীরকে হালকা রাখে এবং আমি চলাফেরা ও কাজকর্মে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
নিজেকে ফিট রাখার জন্য কিসের উপর বেশি জোর দেন ?
উত্তর: সব বয়সী মানুষের জন্য ব্যায়াম করা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু আমি ব্যায়ামের কাজটা করি অন্যভাবে। আমি প্রচুর হাঁটি, যেমন আমার কর্মস্থল যদি আমার হাঁটার সাধ্যের মধ্যে হয়, তবে আমি সেখানে হেঁটে যাই এবং একটু সুযোগ পেলেই আমি হাঁটা, চলাফেরা করি।
আপনার নিজস্ব কোন শরীরিক অসুস্থতা আছে কি ?
উত্তর:
দেশের স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে আপনার মতামত ?
উত্তর:
দেশের স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জনগন ও সরকারের প্রতি আপনার পরামর্শ ?
উত্তর:
আমাদের এই স্বাস্থ্য বিষয়ক পত্রিকা সম্পর্কে আপনার মন্তব্য ?
উত্তর: অবশ্যই এটি একটি ভাল উদ্যোগ। দেশের একটি স্বাস্থ্যবিষয়ক অনলাইন পত্রিকায় দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি দেশের মিডিয়া ব্যক্তিত্বের স্বাস্থ্য সম্পর্কে তুলে ধরা সত্যি প্রশংসার ব্যাপার। কারণ মিডিয়া ব্যক্তিত্বরা দেশের মানুষের বিনোদনের জন্যই কাজ করে। আর দেশের মানুষের জন্য কাজ করা মানে দেশের জন্য কাজ করা। আর দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সাথে মিডিয়া ব্যক্তিত্বের স্বাস্থ্যসেবা তুলে ধরা মানে দেশের জন্য কাজ করা। |