১২ এপ্রিল (আমার হেলথ): বাংলা পজ্ঞিকা অনুযায়ী এখন চলছে বসন্তকাল। যদিও আর একদিন পরেই নববর্ষ ১৪১৭। সময়টা বসন্তকাল হলেও প্রচন্ড গরমে মানুষের প্রাণ ওষ্ঠাগত। তার পরও  নববর্ষ উদযাপনে মেতে উঠছে সমস্ত বাঙ্গালী। রাজধানী ঢাকায় নববর্ষ উদযাপনের মূল কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
এই ক্যাম্পাসকে ঘিরেই বাঙ্গালী উদযাপন করে নতুনকে আহবানের যত সব আয়োজন।

রঙধনুর সাতরঙে রাঙিয়ে ক্যাম্পাসের জীবনটাকে নতুনভাবে উপলব্ধি করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী। স্বপ্নবাজ তারুণ্যদীপ্ত এই শিক্ষার্থীরা আশার ভেলা ভাসিয়ে নতুন বছরের সূর্যোদয়ের আলোকে আপন করে পেতে উন্মুখ। এলো সেই কাঙ্ক্ষিত নববর্ষ। ৯৬৩ হিজরি সন থেকে সম্রাট আকবর চান্দ্র বছর গণনায় রূপান্তর করে 'ফসলি সন' হিসেবে এই বাংলা নববর্ষের সূচনা করেন। নববর্ষের পুরনো কথা, ঐতিহ্য অবলম্বন করেই আমাদের ব্যস্ত শহুরে জীবনে আজকের নববর্ষ উদযাপন রমনা বটমূলের গানের সুরের ঝঙ্কার ওঠে ছায়ানটের আয়োজনে। নামে জনতার ঢল। 'এসো হে বৈশাখ এসো এসো' গেয়ে আমরাও নতুন দিনের স্বপ্নে জাগিয়ে তুলি তারুণ্যকে। আধুনিক যুগের দোলাচলে নববর্ষ তার মোড়ককে রাঙিয়েছে নবকথনে, নতুন রঙে। মূলত বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে পহেলা বৈশাখ এখনও নাগরদোলার ঘূর্ণয়মান চক্রের মতো সেই ঐতিহ্যে ভাস্বর আর ঢাকা শহরের নববর্ষ উদযাপন মূলত রমনা বটমূল, চারুকলা ইনস্টিটিউট এবং টিএসসিকেন্দ্রিক। এর বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, পাড়া-মহল্লায়ও থাকে নানা আয়োজন। তারুণ্যই এসব উৎসবের প্রাণ। এমপিথ্রি প্লেয়ারে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই 'এসো হে বৈশাখ এসো এসো' গানের সুর কিংবা মোবাইল ফোনের রিংটোনে এই গান যখন বেজে ওঠে ক্যাম্পাসের কোনো শিক্ষার্থীর পকেটে, আমরা তখন নাগরিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নববর্ষের সূর্যোদয়কে নতুনভাবে উপলব্ধি করি। পান্তা-ইলিশে ভোজনরসিক বাঙালির দিনটি যখন শুরু হয়, পহেলা বৈশাখ তখন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের পোশাকেও তার স্পর্শ বুলিয়ে যায়। সাদা শাড়ি লাল পাড়, বাসন্তী রঙে সজ্জিত তরুণী আর পাঞ্জাবি-ফতুয়ার সমারোহে তরুণের দল ক্যাম্পাসে যেন জাগায় এক মিলনমেলার জয়গান।
ইন্টারনেটে ই-মেইল, ফেসবুক আর মোবাইল মেসেজের মাধ্যমে আধুনিক জীবনের নববর্ষের শুভেচ্ছা বিনিময় তো থাকছেই। এ যেন ক্যাম্পাসের নবসূর্যোদয়ে নতুন করে পাওয়া কোনো আশার আগমন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শিক্ষার্থীদের রাঙিয়ে দিচ্ছে রঙধনুর রঙে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষের নতুন ভর্তি হওয়া ছাত্রছাত্রীরা তাদের এবারের নববর্ষ উদযাপন করবে নতুনভাবে। রুবেল জানান, জীবনের লক্ষ্য ছিল এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া। হতে পেরেছেন। এবার বন্ধুরা মিলে টিএসসিতে আড্ডা জমবে, অপেক্ষা করার ফুরসত তিনি আর পাচ্ছেন না। ১ম বর্ষের ছাত্র রাজিব  জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজের মুখরতায় এবারের নববর্ষ উদযাপন করবেন নতুন বন্ধুদের সঙ্গে। অন্যদিকে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বর্ষের আকাশ, পার্থ, মোস্তফা তো প্ল্যান করেই ফেলেছেন। প্রচণ্ড গরমকে উপেক্ষা করে তারা ট্যুর দিয়ে আসবেন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার।

দিলাম তোমার দু'গালে এঁকে, দিলাম হাতে তুলির স্পর্শ। আপন করে নিও বাংলাদেশকে, আপন করে নাও তোমার বই-খাতা, ক্লাসকে। আর তোমার ক্যাম্পাসকে। পহেলা বৈশাখের আনন্দকে রাঙিয়ে দেয় যাদের তুলির স্পর্শে, সেসব চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীর কথাই বলছি।
চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন নিজেকে রঙধনুর রঙে রাঙানোর জন্য । এবং আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাম্পাসে আসার।

মুখোশ, মঙ্গল শোভাযাত্রা তো থাকছেই, এবারের পহেলা বৈশাখে ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীরা মুক্ত সংস্কৃতিচর্চার ক্ষেত্রে আরও সোচ্চার। সবার চেতনায় একই কথা, বাঙালি আমরা যুগ যুগ ধরে থেকেছি, আছি, থাকব। কবিগুরু তাই তো আহ্বান জানিয়েছেন_ 'এসো হে বৈশাখ এসো এসো'।
সূর্যোদয়ের ক্যাম্পাসে নববর্ষের রঙধনু... শুভ নববর্ষ ১৪১৭।