বাঁধনের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু হওয়ার কথা ছিল পুরোপুরি বাণিজ্যিক ধারার চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। কিন্তু ব্যাটে-বলে মিলেনি বলে তা করা হয়ে ওঠেনি। চলচ্চিত্র ভাবনা এভাবেই প্রবেশ করলেন বাঁধন, আমি তো শতভাগ বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করতে চেয়েছিলামই।
কিন্তু নানা কারণে তা হয়ে ওঠেনি। তবে যে ছবিটি দিয়ে আমার যাত্রা শুরু হলো- সেটি কিন্তু ইমপ্রেসের অন্য ছবিগুলো থেকে আলাদা। আমি আশাবাদী এ ছবিটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক দর্শকদের মন জয় করবো। শাবনূর, মৌসুমী, পূর্ণিমারা যে ছবিতে কাজ করছেন আমি তেমন ছবিতে আগামীতে কাজ করব। তবে দেশীয় চলচ্চিত্র নিয়ে একশ্রেণীর মানুষের নাক সিঁটকানোর অভ্যাস রয়েছে। এমনকি আমার অনেক বন্ধুরাও আমার চলচ্চিত্রে কাজের বিষয়টিকে কিছুটা নেতিবাচকভাবে দেখেছে। আমি প্রমাণ করতে চাই আমাদের মতো মেয়েরা যখন চলচ্চিত্রে আসবে, তখন চলচ্চিত্রের পরিবেশ আরো উন্নত হবে। এটা হবেই হবে। আমি তা প্রবলভাবে বিশ্বাস করি।
মুগ্ধতার আকাশে
খুব বেশি কাজ করার পক্ষে নন বাঁধন। ভাল কয়েকটা কাজের মাধ্যমেও যে দর্শকদের কাছাকাছি বেশি যাওয়া যায়- এই বিশ্বাস বাঁধন তার অন্তরে লালন করে রেখেছেন।
আর সে কারণেই মানসম্পন্ন হাতেগোনা কয়েকটি নাটকে অভিনয় বাঁধনকে জনপ্রিয় করেছে অনেকখানি। বাঁধনের কথায়, ‘মিডিয়াতে যখন কোন অভিনয়শিল্পী বা মডেল কাজ শুরু করেন তখন তার উপদেষ্টা সাজেন অনেকেই।নতুনদের নানাজন নানা রকম উপদেশ দেন। একটি কথা অধিকাংশজনই বলে থাকেন। আর তা হলো মিডিয়াতে টিকে থাকতে হলে সবসময়ই পর্দায় থাকতে হবে। আমাকেও এমন উপদেশ শুনতে হয়েছে শতবার। কিন্তু আমি তা বিশ্বাস করি না।এ নাটকগুলোর দর্শকসাড়া নিয়ে বাঁধন জানলেন, ‘চন্দ্রকারিগর’, ‘নাট্যকার হামিদ সাহেবের একদিন ‘অতঃপর শুভবিবাহ’, নাটকে কাজের দর্শকসাড়া এখনো মাঝে মাঝে পাই। চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে রাঙামাটি যাওয়ার পর বিটিভিতে প্রচারিত ‘ভাল আছি ভাল থেকো’ নাটকে কাজের জন্য অধিবাসীদের কাছ থেকে ইতিবাচক মন্তব্য শুনেছি।তখন তাদের একজন দূর থেকে আমাকে দেখে যখন বলেছিল ‘দ্যাখ! দ্যাখ! ওটা সখিনা না? বিষয়টি আমাকে বেশ আনন্দ দিয়েছিল।’ দর্শকদের মুখ থেকে প্রাপ্ত প্রশংসা বাঁধনকে নিয়ে যায় আনন্দময় অনুভূতির এক আকাশে। তখন মুগ্ধতার আকাশে প্রজাপতি হয়ে উড়ে বেড়ান তিনি।
মম ও বিন্দুর বয়ানে বাঁধন
লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিলেন বাঁধন। শীর্ষ আসনে ছিলেন মম। প্রথম রানারআপ হয়েছিলেন বিন্দু। ক্যাম্পের দিনগুলোর মতো এই তিন তারকার সম্প্রীতি এখনো অটুট। তারকা মম-বিন্দুর মূল্যায়ন করতে গিয়ে বাঁধন বলেন, মাঝে মম একই প্যাটার্নে অভিনয় করত। সেই জায়গা থেকে সরে এসে ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে নিজেকে ভেঙ্গে ভার্সেটাইল অভিনেত্রী হওয়ার ওর যে চেষ্টা-সেটাকে সাধুবাদ। আর বিন্দু অসম্ভব সুন্দর একটি মেয়ে। ওর কথা বলা, হাঁটাচলা, সবই সুন্দর। ও কমপ্লিট একজন মডেল। আমি ও বিন্দু না বুঝে অভিনয় করি। আমরা থিয়েটারে কাজ করিনি বলে অভিনয়ের অনেক গ্রামার আমাদের জানা নেই। কিন্তু মমর তা রয়েছে। |