আখতারন নাহার আলো
প্রধান পুষ্টি কর্মকর্তাবারডেম
সব ঋতুতে সুস্থ এবং সুন্দর থাকা সকলেরই কাম্য। আমাদের দেশ গ্রীষ্ম প্রধান দেশ। কড়া রোদের তাপে ঝলসে গিয়ে শক্তির অপচয় হয়। এ সময় অতিরিক্ত ঘাম হয় বলে শরীর দুর্বল বোধ হয়। এ কারণে রৌদ্রতপ্ত দুপুরে যদি কিছুক্ষণ পর পর লবন ও লেবুর রস দিয়ে পানি পান করা যায় তাহলে দেহে খনিজ লবনের ঘাটতি হয় না। ঘাম ছাড়াও পিপাসার উদ্রেক বেশি হয় বলে পর্যাপ্ত পানি এবং পানীয় পান করা প্রয়োজন। পানি দেহের ভিতরকে পরিশোধিত করে। ডাব, কাগজী লেবু, তোক্মা, তেঁতুল, ইষপগুল, কাঁচা বা পাকা আম ইত্যাদি দিয়ে সরবত করে খাওয়া যেতে পারে। ইষপগুলের সরবত ও তেঁতুল গুড়ের সরবত খুবই স্নিগ্ধ ও শীতল। এদিকে দেহে ঘাম জমে থাকলে ঘামাচি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এতে যেমন চুলকানি হয় তেমনি ত্বকও বিবর্ণ হয়ে পড়ে। এ জন্য শরীরকে পরিষ্কার ও শীতল রাখতে হবে এবং দেহে ঘাম জমতে দেয়া যাবে না। আবার পোশাকের সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে ত্বকে ঘায়ের সৃষ্টি হতে পারে। শরীর ঠান্ডা থাকলে ত্বকও সুন্দর থাকবে।
গরমের দিনের খাবার একেবারেই গুরুপাক হবে না। এতে হজমের গোলমাল হবে ও ঠিকমত ঘুম হবে না। ফলে সমস্ত চেহারায় ক্লান্তির ছাপ দেখা যায়। হাত পায়ে একটা অবশ ভাব দেখা যায়। এ জন্য ঝাল মসলা তেল যত কম খাওয়া যায় তত ভালো। দুপুর ও রাতের খাবারের সালাদ খেতে পারলে ভাল হয়। এটি দেহত্বকের উপর ভাল কাজ করে। কাঁচামরিচ, ভিটামিন সি এর উৎস। তাপদগ্ধ দুপুরে সমস্ত সবজি দিয়ে নিরামিষ বা সুক্তো করে খেলে বেশ ভাল হয়। ভাতের সঙ্গে কামরাঙ্গার বা আমের টক, ছোট মাছের ঝোল, সুসিদ্ধ ডাল ইত্যাদি খাওয়া যেতে পারে। প্রাতঃকালে চিড়া-কলা-দই, সিদ্ধ বা পোচ ডিম, পাউরুটি, জেলী, নরম খিচুড়ী খেলে ভাল হয়। রাতের আহার দুপুরের চাইতে কম থাকা উচিত। গরমের সময় অনেকেরই পেট খারাপের সমস্যা হয়। এতে চেহারার লাবণ্য নষ্ট হয়। এ জন্য পেটের গোলমাল যাতে না হয় সেদিকে ছোট বড় সকলেরই নজর দিতে হবে। এ সময় টক-মিষ্টি-দই খাওয়া ভাল। এতে দেহের ত্বক ও চুল মসৃণ ও চকচকে থাকে। পাকা অথবা কাঁচা উভয় রকমের বেলই চলতে পারে। বেলের সরবত ঠান্ডা এবং আমাশয়ের জন্য উপকারি। ডাবের পানিও শীতল। এটিও দেহকে ঠান্ডা রাখে।
গরমের সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে যেখানে আবহাওয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠে, সেখানে শরীর ঠান্ডা রাখে এমন খাবারই খাওয়া উচিত। গরমের জন্য পৃথক কোনো খাবার নেই। তবে খাবারগুলো জলীয় হলে ভাল হয়। বাজার করার সময় শাক-সবজির প্রাধ্যান্য দিতে হবে। মোট কথা-গ্রীষ্মের খাবার হবে জলীয়, সহজপাচ্য ও হালকা মশলাযুক্ত। যাতে দেহ-মন দুই-ই সতেজ থাকে। আর মন সতেজ থাকলে দৈহিক সৌন্দর্য্য আসবেই। |